ধনী দেশে দরিদ্র শিশু | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.11.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

ধনী দেশে দরিদ্র শিশু

বিশ্বের ধনী দেশগুলির অন্যতম জার্মানি৷ এখানকার জনসাধারণের মোট অর্থের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ইউরো৷ জিডিপি গোটা আফ্রিকা মহাদেশের জিডিপির দ্বিগুণ৷ কিন্তু এ দেশেও বাচ্চারা যে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, সেটাই জানা গেছে সমীক্ষায়৷

দৈনিক গরম খাবার নেই, হোমওয়ার্ক করা জন্য নেই কোনো স্থান, শুধুমাত্র এক জোড়া জুতা, ইউনিসেফ-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জার্মানির দরিদ্র শিশুদের অবস্থা এইভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে৷ অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় এক্ষেত্রে জার্মানি বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে৷ ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী ১,২ মিলিয়ন ছেলে-মেয়ে তুলনামূলকভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে৷

অনেকেই নতুন কাপড়-চোপড়ের মুখ দেখেনি, বড় ভাই-বোনদের পুরানো জামা-কাপড় পরেই চালিয়ে দিতে হচ্ছে তাদের৷ স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ গ্রহণ করাও অর্থের অভাবে সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে৷ ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে পড়াশোনায়৷ নেমে যাচ্ছে শিক্ষার মান৷ বাবা-মার অর্থাভাব থাকলে সন্তানদেরও এইভাবে বরণ করে নিতে হয় দারিদ্র্য৷

দরিদ্রদের দুর্দশায় ‘টাফেল'

দরিদ্র মানুষদের দুঃখ দুর্দশা কিছুটা লাঘব করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে একটি সংস্থা, যার নাম ‘টাফেল'৷ নানা শহরে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শাখা৷ বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে উদ্বৃত্ত খাদ্যদ্রব্য, যেমন ভালো অবস্থায় থাকা তরিতরকারি, রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় এই সংস্থাটির জন্য৷ দান করা হয় দরিদ্র বা নিম্নআয়ের মানুষদের৷

জার্মানির গেলসেনকিয়র্শেন শহরে স্থাপিত হয়েছে ‘শিশুদের টাফেল', যা বিশেষ করে দরিদ্র বাচ্চাদের দেখভালের দিকে নজর দিচ্ছে৷ সংস্থার মুখপাত্র হার্টমুট সিমেতৎসেক জানান, ‘‘এটা সত্যি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যখন দেখা যায় বাচ্চারা খালি পেটে স্কুলে আসে৷ শীতকালে জুতার অভাবে শুধু স্যান্ডেলই যাদের ভরসা৷'' শহরটির শিশুদের টাফেল খাবার-দাবার ও কাপড়-চোপড় দিয়ে দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের সাহায্য করে থাকে৷ বছরে ১০০ টন দুগ্ধজাত খাদ্য দ্রব্য, ফলমূল ও তরিতরকারি তো হবেই৷ ‘টাফেল' প্রতিষ্ঠানটি দানের অর্থ, খাদ্য ও বস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল৷ কর্মীদের অধিকাংশই কাজ করেন অবৈতনিক৷ সিমেতৎসেক বলেন, ‘‘এটা অনেকটা সমুদ্রে বারিবিন্দুর মত৷ সমস্যার সুরাহার জন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তার৷''

সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল

গেলসেনকিয়র্শেন শহরের প্রতি তিনে একজন শিশু সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল৷ অনেকেই টাফেল-এর সাহায্য নিতে আসে৷ দীর্ঘ সময় ধরে চলা নতুন এক সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, শিশু ও কিশোরদের বিকাশে দারিদ্র্য হল সবচেয়ে বড় ঝুঁকি৷ সমাজকর্ম ও শিক্ষা ইন্সটিটিউট, সংক্ষেপে আইএসএস-এর সমাজ বিজ্ঞানী গ্যার্ডা হলৎস ‘জার্মানির মতো একটি ধনী দেশে দরিদ্র হওয়ার অর্থ কী' বিষয়টি নিয়ে ১৫ বছর ধরে গবেষণা করেছেন৷ সমীক্ষায় দরিদ্র বলতে সেই সব পরিবারকে ধরা হয়েছে, যাদের আয় সমাজের গড় আয়ের অর্ধেক৷ অর্থাৎ দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করতে হলে দেশটির ঐশ্বর্যের দিকেও দৃষ্টি দিতে হয়৷ বলেন গ্যার্ডা হলৎস৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের এখানে দারিদ্র্য বলতে বোঝায়: বাচ্চারা পরিমাণমত খাবার পায় না, নিজস্ব কোনো ঘর নেই তাদের৷ অর্থের অভাবে অবসর সময়ের কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিতে বা বন্ধু বান্ধবের জন্মদিনে উপহার নিতে পারে না৷''

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যকই আর্থিক টানাটানির মধ্যে বসবাস করে৷ এর প্রধান কারণ মা-বাবার বেকারত্ব৷ আর বেকারত্বের পেছনেও রয়েছে নানা কারণ: যেমন প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাব, দীর্ঘ দিনের অসুস্থতা কিংবা শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা৷ এছাড়া অভিবাসীদের সন্তানদেরও অনেক সময় পড়তে হয় দারিদ্র্যের কবলে৷

সমীক্ষার ফলাফল

৯০-এর দশকের শেষ দিকে শ্রমিককল্যাণসমিতি আভোর উদ্যোগে শুরু হয় সমীক্ষাটি৷ ছয় বছর বয়স্ক প্রায় ১০০০ ছেলেমেয়েদের নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়৷ কয়েক বছর ধরে এইসব ছেলে-মেয়ের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যে এইসব শিশু বড় হয়ে তারুণ্য ছুঁয়েছে৷ গ্যার্ডা হলৎস ও তাঁর সহকর্মীদের জন্য দারিদ্র্যের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব জানার সুযোগও হয় এইভাবে৷ ১৯৯৯ সালে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দরিদ্র শিশুদের প্রতি দু'জনের একজন আজও এই বেড়াজাল থেকে বের হতে পারেনি৷ এর ফলে তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যাও দেখা দেয়৷ লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়৷

এই সমীক্ষা থেকে আইএসএস এবং আভো এই দুই প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন৷ অর্থাৎ মা-বাবার কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কিন্ডারগার্টেনের ব্যবস্থা করা, হোমটাস্কে সাহায্য করা, সারা দিনের স্কুলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি পদক্ষেপের প্রয়োজন৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেই সব শিশুই দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পেরেছে, যাদের কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল৷ আভোর প্রধান ভল্ফগাং শ্টাডলার জানান, ‘‘শক্তিশালী ইন্সটিটিউশন বাচ্চাদের সেই সুযোগটাই এনে দেয়, যা তারা বাড়িতে পায় না৷'' এমনকি সরকারি শিশু ও কিশোরসংক্রান্ত রিপোর্টেও এক্ষেত্রে ঘাটতিটা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘‘জামানির শিশুশিক্ষা ও তত্বাবধানের ক্ষেত্রে এখনও অনেক কিছু সংশোধন করার আছে৷''

প্রতিবেদন: হাইনৎসে হেন্ডরিক/আরবি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন