দ্বিতীয় রাউন্ডে গেল আর্জেন্টিনা | খেলাধুলা | DW | 26.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফুটবল

দ্বিতীয় রাউন্ডে গেল আর্জেন্টিনা

অনেক ঘটনার ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো আর্জেন্টিনা৷ ২-১ গোলে তারা হারিয়েছে সুপার ঈগলদের৷ গ্রুপ ডি’র অন্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে জিতেছে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে৷

নাটকীয়তায় ভরপুর গ্রুপ ডি-এর দুই ম্যাচের একটিতে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া৷ অন্যটিতে ক্রোয়েশিয়া খেলছে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে৷ এই ম্যাচে জয় পেলেও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত নয় আর্জেন্টিনার জন্য৷ আইসল্যান্ডকে অন্তত ড্র করতে হবে৷ কিন্তু তাদের জন্য শুরুতেই দুঃসংবাদ এই যে, আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা ক্রোয়েশিয়া তাদের মূল এগারোর নয়জনকেই বসিয়ে দিয়েছে৷ মডরিচ ও পেরিসিচ ছাড়াই বাকি সবাই বেঞ্চের অপেক্ষমানেরা৷ 
তবে সেদিকে ভাবেননি মেসিবাহিনী৷ শুরু থেকেই সুপারঈগলদের কড়া ডিফেন্সকে ভাঙ্গার চেষ্টায় ছিল আর্জেন্টিনা৷ কিন্তু বটলগ্রিনদের দেয়াল ভাঙতে বেগ পেতে হচ্ছিল৷ 
অবশ্য ১৪ মিনিটে সেখানেই ফাঁক তৈরি করে ফেললেন লিওনেল৷ সেভিয়ার সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বানেগা মাঝমাঠ থেকে লম্বা পাস করলেন প্রতিপক্ষের ডিবক্সের ঠিক বাইরে৷ সেই বল খুঁজে পেল মেসিকে, বা মেসিই বল খুঁজে নিলেন৷ এরপর চমৎকার ফিনিশিং৷ আকাশি গ্যালারির জুড়ে বইলো আনন্দের বন্যা৷  


কিন্তু ছেড়ে কথা বলছিল না আফ্রিকার শিকারি পাখিরা৷ পাল্টা আক্রমণে বারবারই খুঁজছিলেন প্রতিপক্ষের জালের ঠিকানা৷ কিন্তু হয়ে উঠছিল না৷ 
২৭ মিনিটে আবারো একটি সুযোগ আর্জেন্টিনার৷ এবারো জাদুকর মেসি৷ তাঁর বাড়ানো বলটি ডিবক্সের বাম দিকে দখলে পেলেন স্ট্রাইকার হিগুয়েইন৷ কিন্তু বরাবরের মতোই তাঁর খাতায় যোগ হলো আরেকটি ব্যর্থতা৷ 
৩১ মিনিটে আবারো বানেগা চমৎকার একটি বল বানিয়ে এবার পাঠালেন ডি মারিয়াকে৷ পেছনে দুই নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার সামনে কেবল গোলরক্ষক উজোহো৷ কিন্তু ডি বক্সের ঠিক বাইরে পেছন থেকে আলতো ছোঁয়ায় ডি মারিয়াকে ফেলে দিলেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার বালোগুনন৷ ফ্রিকিক পেল আর্জেন্টিনা৷ সেখান থেকে মেসির বাঁ পায়ের শটটি দ্বিতীয় বারে লেগে ফিরে এল৷ 


প্রথমার্ধে নাইজেরিয়ার গত ম্যাচের তারকা মুসা আর্জেন্টাইন ডিফেন্সে ফাটল ধরাবার চেষ্টা করেন কয়েকবার৷ কিন্তু সতীর্থরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়৷ 
৪৪ মিনিটে মুসার একটি বল আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার রোহো যেভাবে কারাটে কিক দিলেন, তাতে একটুর জন্য পেনাল্টির হাত থেকে রেহাই পেল দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা৷ সবমিলিয়ে মেসিবাহিনীর প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে৷ 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হোঁচট খায় আর্জেন্টিনা৷ ইতেবোর কর্নার ঠেকিয়ে দিলেও মাসচেরানো ফাউল করে বসেন বালোগুনকে৷ তাতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় সুপার ঈগলরা৷ আর সেখান থেকে একটুও ভুল করেননি ভিক্টর মোজেস৷ সমতায় ফেরে নাইজেরিয়া৷ 
এরপর উজ্জ্বীবিত আফ্রিকানরা বাড়ায় আক্রমণের ধার৷ আর্জেন্টাইনরাও মরিয়া হয়ে খেলে৷ কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিলো না কোনো পক্ষই৷ খেলোয়াড়রা একটু বেপরোয়াও হয়ে ওঠেন৷ ফলে ফাউলের ছড়াছড়ি৷ রক্তাক্ত হতে হয় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মাসচেরানোকে৷ সেটপিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে মেসিরা৷ কিন্তু ঠিক হয়ে উঠছিল না৷ অন্যদিকে, ডিবক্সের বাইরে থেকেও চেষ্টা করছিল নাইজেরিয়া৷ 


৭৬ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডিবক্সে ডিফেন্ডার রোহো বল ক্লিয়ার করতে গেলে তা মাথায় লেগে তাঁর বাহু স্পর্শ করে৷ ভিএআর প্রযু্ক্তির সহায়তায় পেনাল্টির দাবি বাতিল করেন রেফারি৷ ৮০ মিনিটে আবারো হিগুয়েন পরিষ্কার গোলের সুযোগ মিস করেন৷ ৮৪ মিনিটে বাঁ দিক থেকে করা আক্রমণ থেকে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ইঘালো নিজের ভুলে দলকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হন৷ 


৮৭ মিনিটে আসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সেই কাঙ্খিত সুযোগ৷ ডান পাশ থেকে আসা ক্রস রোহোর ডান পায়ের ছোঁয়ায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় নাইজেরিয়ান ডিফেন্স৷ আর্জেন্টিনা ২, নাইজেরিয়া ১৷ ২০১৪ বিশ্বকাপেও এই রোহোই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন৷ এবারো তাঁর গোলে গ্যালারিতে আকাশি সাদারা ফেটে পড়েছে উল্লাসে৷ সেখানে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মারাদোনাও ছিলেন৷ 
তবে শেষ মুহূর্তেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে সুপার ঈগলরা৷ ঈগলের মতোই ছোঁ মেরে সমতায় আনতে চেয়েছে দলকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি৷ 

হেরেও বিজয়ী আইসল্যান্ড
এ ম্যাচে আইসল্যান্ডও যেন চেপেই বসেছিল ক্রোয়াটদের ঘাড়ে৷ যদিও বল বেশিরভাগ সময়েই ছিল ক্রোয়েশিয়ার পায়ে, একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিলেন ছোট্ট দেশটির ফুটবলাররা৷ প্রথমার্ধের প্রথম মোক্ষম সুযোগটি আসে ৪১ মিনিটে৷ আইসল্যান্ড ফরোয়ার্ড ফিনবোগাসনের একটি শট একটুর জন্য পোস্ট খুঁজে পায়নি৷ 
তবে আইসল্যান্ডের সেরা সুযোগটি তৈরি হয় প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে৷ এবার গুনারসনের দুর্দান্ত শট৷ চমৎকারভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক কালিনিচ৷ শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যই থাকে প্রথমার্ধ৷ 


দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া চাপ বাড়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে৷ ৫১ মিনিটে বাদেলজের একটি চমৎকার শট বারে লেগে ফিরে আসে৷ কিন্তু দু’মিনিট পর তিনিই চমৎকার এক ভলিতে প্রতিপক্ষের জাল ভেদ করেন৷ এগিয়ে যায় ক্রোয়াটরা৷ এর তিন মিনিটের মাথায় অবশ্য সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আইসল্যান্ড৷ ইঙ্গাসনের হেডটি একটুর জন্য লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি৷ 
৭৬ মিনিটে সমতায় ফেরে আইনসল্যান্ড৷ হ্যান্ডবল থেকে পেনাল্টি পায় তারা৷ সেখান থেকে সহজেই গোল নিশ্চিত করেন সিগুর্ডসন৷ 


কিন্তু সমতা রাখতে পারেনি আইসল্যান্ড৷ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের ৯০ মিনিটে বাঁ পাশ থেকে পেরিসিচের বাঁ পায়ের শট দু’হাত দিয়েও ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক হলডরসন৷ শেষ পর্যন্ত ২-১ এর পরাজয় নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসে এই মঞ্চ মাতানো আইসল্যান্ড সম্ভাবনা তৈরি করেও তা ধরে রাখতে পারেনি৷ তবে ফিরবে বিজয়ের বেশেই৷ 
শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ডি থেকে সমর্থকদের প্রিয় আর্জেন্টিনা ক্রোয়াটদের সঙ্গে নিশ্চিত করলো শেষ ষোলো৷ গ্রুপ সি চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সঙ্গে দেখা হবে তাদের৷ আর ক্রোয়েশিয়া খেলবে ডেনমার্কের বিপক্ষে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়