1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

দেশ জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ, রণক্ষেত্র হরিয়ানা

২৬ নভেম্বর ২০২০

কৃষকদের দিল্লি চলো অভিযান ঘিরে যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে হরিয়ানা। পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে শ্রমিক সংগঠনের ডাকা বনধ।

https://p.dw.com/p/3lqZp
কৃষক বিক্ষোভ
ছবি: Krishna Gaddam

কার্যত গেরিলা আক্রমণ। এক দিকে বামপন্থীদের ডাকা দেশব্যাপী বনধ। অন্য দিকে কৃষকদের 'দিল্লি চলো' অভিযান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়েছে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের।

সংসদের শেষ অধিবেশনে বিতর্কিত কৃষি বিল পাশ করেছিল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি ধ্বনি ভোটে পাশ করানো হয়েছিল। তার পর থেকেই ভারতের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিলটি পাশ হওয়ার পরেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকদের একটি বড় অংশ আন্দোলন শুরু করে। শীতে কার্যত কোনো ফসল বোঝাই ট্রাক পাঞ্জাব থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কৃষকরা। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন বলবৎ করে কৃষকদের স্বার্থে আঘাত করেছে।

গত কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছিল। তারই মধ্যে কেন্দ্র কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। তার পরেই কৃষকদের প্রায় ৫০০টি গোষ্ঠী একত্রে সিদ্ধান্ত নেয়, বৃহস্পতিবার দিল্লি অভিযান করা হবে। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা সব চেয়ে বেশি সংখ্যায় যোগ দেন এই আন্দোলনে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক ট্রাক্টরের মিছিল হরিয়ানা সীমানার দিকে আসতে থাকে। সঙ্গে পদযাত্রা। হরিয়ানা বিজেপি শাসিত রাজ্য। দিল্লি অভিযান করতে হলে পাঞ্জাবের কৃষকদের হরিয়ানার উপর দিয়েই আসতে হবে। সরকারের নির্দেশে হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাব সীমানায় বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে। কৃষকরা সেই ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছলে শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড তুলে নদীতে ফেলে দিতে শুরু করেন। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। চালানো হয় কাঁদানে গ্যাস। তাতেও কাজ না হলে প্রবল শীতের মধ্যে জলকামান ব্যবহার করা হয়। ঘটনায় বেশ কিছু কৃষক আহত হয়েছেন।

অন্য দিকে বাম এবং কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলি এ দিনই দেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিল এবং শ্রমনীতির বিরুদ্ধে এ দিন বনধের ডাক দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালায় তার যথেষ্ট প্রভাব দেখা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবারই জানিয়েছিলেন, বনধ সমর্থন না করলেও শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবির সঙ্গে তিনি এক মত। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্রই রাস্তায় নেমেছে কংগ্রেস এবং বাম বনধ সমর্থনকারীরা। বারাসতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় রেল অবরোধ করা হয়। কলকাতাতেও দফায় দফায় মিছিল হচ্ছে। শহরের অধিকাংশ ব্যাঙ্ক এ দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। মেট্রো যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও বাস চলাচল অন্য দিনের চেয়ে অনেক কম। কেরলের ছবিও একই রকম।

এ দিকে এ দিনই মধ্যপ্রদেশ থেকে বিশিষ্ট অধিকাররক্ষাকর্মী মেধা পাটকর কৃষকদের একটি মিছিল নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে আসছিলেন। উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। মিছিলও আটকে দেওয়া হয়।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন থামবে না। বৃহস্পতিবার পুলিশ যে ভাবে মিছিল আটকেছে, তাতে লড়াই আরো বাড়বে।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, এএনআই)