দেশে শিশু পর্নোগ্রাফির থাবা! | বিশ্ব | DW | 20.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

দেশে শিশু পর্নোগ্রাফির থাবা!

২০১৪ সালের পর আরেকটি শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সদস্যদের আটক করতে পেরেছে পুলিশ৷ আর সেই চক্রের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা৷ এই চক্রের জাল দেশের বাইরেও বিস্তৃত৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সর্বশেষ ঢাকায় এই চক্রের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, বোরহান উদ্দিন এবং অভি হোসেন তিনজনই বেসরকারি বিশ্বিবিদ্যালয়ের ছাত্র৷ প্রায় আট মাস অনুসন্ধান চালিয়ে ১৫ অক্টোবর তাদের আটক করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)৷ তিনজনই এরই মধ্যে আদালতে তাদের অপরাধের ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷ সিটিটিসি জানিয়েছে, আটকদের মধ্যে বোরহানের কম্পিউটার থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল ও ছবি পেয়েছেন তারা৷ চক্রটি যে কৌশলে শিশুদের অনলাইনে পর্নোগ্রাফির ফাঁদে ফেলে তার টিউটোরিয়ালও পাওয়া গেছে তাদের কম্পিউটারে৷

সিটিটিসি এই চক্রটির সন্ধান পায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাইরে থেকে পাওয়া একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে৷ তারা যে পর্নো ছবি উদ্ধার করেছে তারমধ্যে অভিযোগকারীর ছবিও রয়েছে৷ হোয়্যাটস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা এক পর্যায়ে তার পর্নো ছবি তুলে তা ‘ব্যবসার’ কাজে লাগায়৷

সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ২০১৫ সাল থেকে তারা শিশুটিকে ব্ল্যাকমেইল করে অনেক ছবি তুলতে বাধ্য করে৷ এক পর্যায়ে তারা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার বাবা মায়ের সাথেও ওই ছবি শেয়ার করে৷ তারা ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি ক্লায়েন্ট গ্রুপেও ছবি দেয়৷

অডিও শুনুন 04:49

আমরা নিশ্চিত হয়েছি এরকম আরো অনেক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্র ঢাকায় সক্রিয়: সহকারী পুলিশ কমিশনার

তিনি আরো জানান, তাদের কাছ থেকে ৩০ জিবি পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট উদ্ধার করা হয়৷ তাদের ক্লাউড এবং ড্রপ বক্সে স্টোরেজ আছে৷ আর কম্পিটারে ভিন্ন ভিন্ন নামে ৪৫টি ফোল্ডার পাওয়া গেছে৷ তাতে ইউএসএ, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশি মেয়েদের ভিকটিম হিসেবে ছবি আছে৷ আর তাদের কাছে যে ম্যানুয়ালটি পাওয়া গেছে তাতে মেয়েদের ফাঁদে ফেলার ১৫টি কৌশলের কথা বলা আছে৷

তিনি জানান, ‘‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি এরকম আরো অনেক শিশু পর্নোগ্রাফির চক্র ঢাকায় সক্রিয়৷ আমরা আরো কিছু অভিযোগ পেয়েছি৷ আমরা তাদের পেমেন্ট মেথডও জানতে পেরেছি৷ তারা ক্রিপ্টো কারেন্সি ব্যবহার করে৷’’

এই গ্রুপটি ২০১৫ সাল থেকে এই অপরাধে যুক্ত৷ তারা কি পরিমাণ অর্থ আয় করেছে তাও অনুসন্ধানে বের হয়ে আসবে বলে জানান তিনি৷

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘‘এখন আর শিশু পর্নোগ্রাফি সারফেস ওয়েবে হয়না৷ এর বাজার ডার্ক ওয়েবে৷ এটা মনিটর করার জন্য ডিপ এন্ড ডার্ক ওয়েব মনিটরিং প্লাটফর্ম আছে৷ কিন্তু বাংলাদেশে সেই প্লাটফর্মটি নেই৷ ফলে সরাসরি সেটা এখান থেকে মনিটর করা যায় না৷ তদন্ত বা অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু চক্র মাঝে মাঝে চিহ্নিত হয়৷’’

অডিও শুনুন 01:33

বাংলাদেশে সেই (মনিটরিং) প্লাটফর্মটি নেই: তানভীর হাসান জোহা, সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক

তবে তিনি সাধারণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বলেন, ‘‘কিছু চক্র আছে যারা শিশুদের নিয়ে নানা ধরনের কাজ করার নামে শিশু পর্নোগ্রাফিতে যুক্ত৷ কারা এই শিশু পর্নোগ্রাফির অবৈধ বাজারটি এখন সবচেয়ে লাভজনক৷’’

তার মতে, ‘‘ভালো করে তদন্ত করলে দেশীয় চক্রের সাথে যুক্ত আন্তর্জাতিক চক্রটিও চিহ্নিত করা সম্ভব৷’’

তবে ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘‘সিটিটিসি এখন ডার্ক ওয়েব মনিটরিং-এ সক্ষম৷ এ নিয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে৷’’

অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু সাইবার অপরাধের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতাই যথেষ্ঠ নয়৷ এব্যাপারে অভিভাবকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে৷ আর সরাসরি পর্নো তৈরিতে অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের টার্গেট করা হয়৷ সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন৷ একই কথা বলেন ইশতিয়াক আহমেদ৷ তার মতে, অভিভাকদের উচিত হবে তাদের সন্তানদের ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক করা এবং তাদেরও সতর্ক থাকা৷ কারণ শিশুরা এখন সব ধরনের অনলাইন ডিভাইস ব্যবহার করছে৷

২০১৪ সালে ঢাকায় একই রকম আরেকটি চক্রকে আটক করে সিআইডি৷ ওই চক্রটি শিশুদের নিয়ে এসে সরাসরি পর্নো তৈরি করত৷ টিপু কিবরিয়া নামে একজন কথিত শিশু সাহিত্যিক ও তার তিন সহযোগীকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়৷ তারা খিলগাঁও এর একটি স্টুডিওতে শিশুদের নিয়ে গিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি করত৷ তাদের এসব ছবির ক্রেতা জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের৷ ওই অভিযুক্তেরা এখন কারাগারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন