দেশে-বিদেশে বেড়ানোর আনন্দের অপেক্ষা! | বিশ্ব | DW | 03.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

দেশে-বিদেশে বেড়ানোর আনন্দের অপেক্ষা!

জার্মানিতে করোনার সংক্রমণ সেভাবে কমেনি, টিকা নিয়েও চলছে নানা বিতর্ক৷ তবে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেই মুক্ত বিহঙ্গের মতো আবারও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান অনেকের৷ আমি তো ঘুরতে যাবো ভেবেই পুলকিত!

কোয়ান্টাম অফ দ্য সিস প্রমোদতরী

করোনার পরে এমন প্রমোদতরীতে করে ভ্রমণে বের হতে চান লেখক

সকালে আমাকে বলা হলো ‘লাইফ আফটার করোনা’ নিয়ে একটা ব্লগ লিখতে৷ বিষয়টা পছন্দ হয়েছে আমার৷ কারণ সারা বিশ্ব জুড়েই কম-বেশি হত্যা, খুন, হামলা, মামলা, অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতির মতো নানা খবর প্রতিদিন দেখতে আর ভালো লাগছে না ৷ তাছাড়া করোনা তো আছেই নিত্যদিনের সঙ্গী৷ সত্যি বলতে কি, যাওয়া হোক বা না হোক মাস্ক ছাড়া, কোনো ভয় ছাড়া কোথাও ছুটি কাটাতে যাবো একথা ভাবতেই ভীষণ ভালো লাগে৷

ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় বিশ্বে জার্মানরা এক নম্বরে রয়েছে৷ ভ্রমণও করোনার মতো ছোঁয়াচে কিনা জানি না তবে আমাদের কাছেও ছুটি কাটানো মানেই জার্মানদের মতো দূর-দূরান্তে কোথাও ঘুরতে যাওয়া৷ এবং আগে থেকেই তার পরিকল্পনা করা৷ আবহাওয়ার সাথে বেড়ানোর একটা মাখামাখি সম্পর্ক৷ জার্মানিতে ক্যালেন্ডারের পাতায় এখনও বসন্ত না এলেও কিন্তু দিনের বেলার মিষ্টি রোদ আর তাপমাত্রা বসন্তের আগমন জানান দিচ্ছে অর্থাৎ ছুটির প্ল্যান করো৷

আমার ব্রিটিশ বন্ধু মনিকা অনেকদিন দেশে যায়নি৷ করোনার পরে তার পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে সে বললো তার প্রথম ভ্রমণ হবে ইংল্যান্ডে, নিজের মাকে দেখতে যাবে৷ মনিকার স্কটিশ স্বামী জুলিয়েনেরও প্রায় একই প্ল্যান৷ তাছাড়াও ওদের দুজনের জন্য ছোট্ট একটি বোট বা নৌকা রয়েছে সেটা ১ এপ্রিল থেকে প্রতি উইকেন্ডে ওটা চালাতে যাবে পাশের দেশ হল্যান্ডে৷ শীতকালে ওখানেই বোটটি রাখা থাকে৷ আর আমাদের পোলিশ প্রতিবেশি বছরে কয়েকবার দেশে যায় কিন্তু গত এক বছরে মাত্র একবার গেছে, এমনকি মায়ের মৃত্যুর খবরেও ডোরোথেয়া ওর শিশু কন্যা স্বামী নিয়ে যেতে পারেনি৷ আসলে করোনায় যারা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য হয়েছে, করোনার পরে তাদের প্রথম পছন্দ নিজেদের পরিবারের কাছে যাওয়া৷

আমাদেরও মনে মনে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে তবে সেগুলো কতটা বাস্তবায়ন হবে তা এই মুহূর্তে বলা খুবই কঠিন৷ তবে আমার প্ল্যানের এক নম্বরে রয়েছে ক্রুজ বা প্রমোদতরী ভ্রমণ৷ বেশ কয়েক বছর আগে অ্যামেরিকায় মায়ামি বিচ থেকে জাহাজে উঠে ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলো ঘুরেছিলাম, ওই ভ্রমণটি এত বেশি আনন্দদায়ক হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ আমার ছোট্ট পরিবারসহ ভাই বোনের পরিবার মিলে মোট ১৫ জন ছিলাম৷ জার্মানিসহ ইউরোপ এবং অ্যামেরিকার বহু জায়গায়ই আমরা একসাথে কয়েকবার ঘুরেছি তবে ক্রুজের মজা ছিলো আলাদা৷ অতিথি আপ্যায়ণ, রান্না বান্নার চিন্তা নেই ২৪ ঘণ্টাই খোলা ছিলো ক্রুজের রেস্তোরাঁ৷ প্রাণের মানুষগুলোকে সাথে নিয়ে বিশাল সাগরের বুকে ভেসে বেড়ানো আনন্দের মুহূর্তগুলো আমায় এখনও বারবার পিছু ডাকে, বিশেষ করে এই করোনাকালে৷ করোনায় দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর সেবারের ক্রুজের ভ্রমণ সঙ্গী অনেকেই এরই মধ্যে লোভনীয় সেই প্রস্তাবটি আবার দিয়েছে৷

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

তবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে করোনার মর্জির ওপর! এই জীবনে বহু দেশ ঘোরার সৌভাগ্য আমার হয়েছে কিন্তু ভ্রমণকাহিনি তুলে ধরার যোগ্যতা রাখি না বলে কখনও সেসব লেখা হয়নি৷ তবে ব্রাজিলের মতো বিশাল দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘোরার সুন্দর ছবিগুলো যখন পুরানো অ্যালবামে দেখি, মন ভালো হয়ে যায়৷ যদিও সে অভিজ্ঞতাও অনেক আগের কিন্তু অনেক মজার! আনন্দের ছবিগুলো দেখে ডয়চে ভেলের ইংরেজি বিভাগের পুরনো সহকর্মী মার্গট তখন আমাকে তখন বলেছিলো শীতকালে বা মেঘলা দিনে মন খারাপ হলে ছবিগুলো দেখতে৷ সিনিয়র সহকর্মীর পরামর্শের সত্যতা কিছুটা হলেও পরে পেয়েছি৷

মনটাকে একটু অন্যদিকে ঘোরাতেই আজ ‘লাইফ আফটার করোনা’-র অবতারণা৷ কিন্তু কবে শেষ হবে করোনা, কবে আসবে সেই করোনার ‘আফটার’ বুঝতে পারছি না৷ কারণ আবারও জার্মানির লকডাউন বাড়ানোর প্রস্তাব নাকি করা হয়েছে৷ আমার জার্মান বন্ধুদেরও কিন্তু করোনার পরে ঘুরতে যাওয়ার মতো নানা প্ল্যান রয়েছে, আপাতত সেসব পরিকল্পনা কেবলই মনে মনে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়