দেশে-বিদেশে তত্‍পর বাংলাদেশের জঙ্গিরা | বিশ্ব | DW | 01.06.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দেশে-বিদেশে তত্‍পর বাংলাদেশের জঙ্গিরা

সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত বাংলাদেশির মধ্যে চারজন অপরাধ স্বীকার করেছেন৷ সে দেশের আদালত ওই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেছে৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য খুবই স্পর্শকাতর৷

Screenshot der Internetseite straitstimes.com

(ফাইল ফটো)

তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশেকে প্রমাণ করতে হবে যে এ দেশ থেকে বিদেশে জঙ্গি রপ্তানি হয় না৷

সিঙ্গাপুরে জঙ্গি তত্‍পরতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা যারা স্বীকার করেছেন, তারা হলেন মিজানুর রহমান (৩১), রুবেল মিয়া (২৬) নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০), ও সোহেল হাওলাদার (২৯)৷

একই অভিযোগে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী মামুন (২৯)ও দৌলত জামান (৩৪) জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

সিঙ্গাপুর আদালতের নথিতে বলা হয়, মিজানুর রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জঙ্গি তত্‍পরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন৷ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সময় তার সঙ্গী ছিলেন জামান এবং অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক সোহাগ ইব্রাহিম৷ পরে তাদের তত্‍পরতা বিস্তৃত হয়৷

গত এপ্রিলে মিজানুর রহমানসহ ৮ বাংলাদেশিকে আটক করা হয় ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ বা আইএসবি'র সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে৷ তারা মোট এক হাজার ৩৬০ ডলার জঙ্গি তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন৷

অডিও শুনুন 06:10
এখন লাইভ
06:10 মিনিট

‘বাংলাদেশের উচিত্‍ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নিরাপত্তাসহযোগিতা চুক্তি করা’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে যে বিদেশে জঙ্গি রপ্তানি হয়না সেটা বাংলাদেশকেই প্রমাণ করতে হবে৷ আর এজন্য বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরে আটক জঙ্গিদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘তবে সিঙ্গাপুরে যেসব বাংলাদেশি জঙ্গি ধরা পড়েছে তাদের উত্‍স বাংলাদেশ৷ তারা এখান থেকেই এক ধরণের দীক্ষা নিয়ে সিঙ্গাপুরে গেছে৷ তারা যখন কাজের জন্য সিঙ্গাপুরে যায় তখন তাদের মৌলবাদী একটি ইসলামি দল আর্থিক সহায়তা করে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের উচিত্‍ হবে যেসব দেশে জনশক্তি রপ্তানি করা হয় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তাসহযোগিতা চুক্তি করা৷ এর মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান হবে৷ এবং বিদেশে কাজে গিয়ে কেউ যাতে জঙ্গি তত্‍পরতায় জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে নজরদারী করা যাবে৷''

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশীদ আরো বলেন, ‘‘যাদের বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাঠানো হয় তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আরো কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে৷ নয়তো পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে৷''

এদিকে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় হামলা চালিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মচারীসহ আট জনকে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৬ জনকে মৃতু্যদন্ড এবং এক জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত৷ তারা জঙ্গি অর্থায়নের জন্যই ব্যাংকে হামলা চালিয়েছিল৷ হামলার সময় দু'জন জঙ্গিকে জনতা ধরে ফেলেছিল বলেই মামলার তদন্ত পুলিশের জন্য সহজ হয়৷

মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.) বলেন, ‘‘পুলিশ হয়তো কৌশল হিসেবে জঙ্গিদের ধরতে সময় নিচ্ছে৷ তবে সেজন্য সাধারণ মানুষ বসে থাকবেনা৷ তারা জঙ্গি বিরোধী৷ তাই আশুলিয়ার ঘটনায় তারা পুলিশের জন্য বসে থাকেননি৷ নিজেরাই জঙ্গিদের আটক করেছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন