দেশে ফেরা না হলে ভারতে থাকতে চান লতিফ সিদ্দিকী | বিশ্ব | DW | 14.10.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দেশে ফেরা না হলে ভারতে থাকতে চান লতিফ সিদ্দিকী

হজ নিয়ে মন্তব্যের পর মন্ত্রিত্ব ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ হারানো আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না৷ যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত মন্তব্যের পর এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন তিনি৷

প্রবীণ এই রাজনীতিক সোমবার টেলিফোনে ডয়চে ভেলের ‘কনটেন্ট পার্টনার' বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারত প্রতিনিধিকে বলেছেন, তিনি দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন, এখনই ফিরে আরো বিব্রতকর অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে চান না৷ ইউরোপ অ্যামেরিকায় থাকতে পারবেন না বলেই কলকাতায় এসেছেন বলে জানান তিনি৷

লতিফ সিদ্দিকীর এ সাক্ষাৎকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড়৷ সামহয়্যার ইন ব্লগে আহমেদ রশীদ লিখেছেন, ‘‘উনি তসলিমা নাসরিনের পাশাপাশি থাকতে চান কি?'' তিনি লিখেছেন, ‘‘নিজ দল আওয়ামী লীগ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ভারত থেকে ‘প্রথম সুযোগেই' তিনি বাংলাদেশে ‘ঢুকে পড়তে' চান৷ এ জন্য তিনি সরকার ও দলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন৷ তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা না হলে তিনি ভারতের আশ্রয়ে থাকতে চান৷ কলকাতায় অবস্থানরত লতিফ সিদ্দিকী আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন৷''

বিবিসি থেকে প্রশ্ন করা হয় তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার – এঁদের সম্পর্কে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর তাঁরা আর দেশেই ফিরতে পারছেন না দশকের পর দশক৷ আপনার কি সেই ভয়টা হচ্ছে যে, আপনারও সেই পরিস্থিতি হতে পারে?

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘না, না, তাঁরা লেখনীর মাধ্যমে বলেছেন৷ তাঁরা এক কথা বলেছেন আর আমি তো এখনো বলছি যে আমার অবস্থান....আমার কথাগুলোকে বিকৃত করা হয়েছে, খণ্ডিত করা হয়েছে৷''

তিনি বলেছেন, ‘‘আমার জীবনে এ রকম ঝড় বহুবার এসেছে৷ পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিলাম৷ তারপর বিতাড়িত হয়েছিলাম৷ কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার দ্বিমত হয়েছে বলে আমি সরে এসেছিলাম৷ এখনো কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা চাচ্ছে৷''

লতিফ সিদ্দিকীর কথায়, ‘‘আমি একেবারেই মাটির সাথে থাকতে চাই৷ ভারত সেটা না দিলে....সেটা এখনই....সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলব না৷ সময়ই সময়ের সিদ্ধান্ত নেবে৷''

সাখাওয়াত হোসেন অবশ্য ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছে তার দায় ওনার৷ সেটা নিয়ে রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নাই৷'' তাঁর মতে, যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন সেটা ওনাকেই বুঝতে দিন, একসময় নিজে থেকেই তিনি নিজের বক্তব্য পরিহার করবেন৷ অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ৷ ঠিক মতো নামাজ পরি না, জাকাত দেই না৷ গরিবের হক আদায় করি না৷ সুযোগ পাইলে এতিমের হক ও ছাড়ি না৷ কিন্তু তবুও কে কাকে কী বলল, সেইটা নিয়া ফালা ফালির কমতি নাই৷ ইসলাম এত সস্তা না যে, কেউ ধরে নাড়াচাড়া দিলেই ধ্বংস হয়ে যাবে৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘চারটা বিয়ে করলে কোনো দোষ হয় না৷ কিন্তু চারটি বিয়ে করতে নিষেধ করলেই সমস্যা! কোনো মানুষের পক্ষে চারজন নারীর প্রতি সমান হক আদায় করা সম্ভব কিনা, এটা কি একবার ভেবে দেখেছেন? ইসলাম এত সস্তা না৷ মূর্তি দেখলেই যাদের ভাঙতে ইচ্ছে জাগে তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, মূর্তি দেখলেই যদি ইমান চলে যাবার ভয় দেখা দেয়, তা হলে ঈমানের মধ্যে সমস্যা রয়েছে৷''

একই ব্লগে আল-শাহ্‌রিয়ার লিখেছেন,‘‘পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি পরিণতিতে মন্ত্রিত্ব হারানো বা আওয়ামী লীগের প্রেসিয়াম সদস্যপদ থেকে অপসারিত হয়েও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কোনো রকম অনুশোচনা বা আফসোস নেই৷ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কলকাতা থেকে বাংলাদেশের দৈনিক সমকালকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে অটল রয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘আমার রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই৷ তবে সক্রেটিস হওয়ার সুযোগ আছে৷''

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমি ইহজগতে অসাম্প্রদায়িক মানুষ৷ আমার নেতা ও দল আমার বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন৷''

লতিফ সিদ্দিকীর ভারতে থাকতে চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে টুইটারে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন৷ আনোয়ার হোসেন বাবলু লিখেছেন কেন ভারত সবসময়ং এমন ব্যাক্তিদের আশ্রয় দেয়৷

এর উত্তরে সুরেশ লিখেছেন দেশের জনগণ তাকে চাচ্ছে না এবং নিজ দল থেকেও তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, তিনি আর কোথায় যাবেন?

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এরই মধ্যে মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী থেকে সদস্যপদ হারিয়েছেন৷ এদিকে, মঙ্গলবার তাঁকে চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷ কেন দল থেকে তাঁকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিসে৷

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়