‘দেশের ৪০ ভাগ মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন′ | আলাপ | DW | 26.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘দেশের ৪০ ভাগ মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন'

এ যুগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কতটা কার্যকর? আগ্রহ কমছে, না বাড়ছে? ভুয়া চিকিৎসক, ভেজাল ওষুধের দাপট কেমন হোমিওপ্যাথিতে? এ সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায়৷

ডয়চে ভেলে: হোমিওপ্যাথি আর অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পার্থক্য কী?

ডা. দিলীপ কুমার রায়: চিকিৎসা পদ্ধতি একই৷ চিকিৎসকের ধর্মই মানুষের সেবা করা৷ ওধুধের ক্ষেত্রে এর পার্থক্য আছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার কারিকুলাম ও মান একই৷ শুধুমাত্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা বেশি অবদান রাখতে পারে৷ যেসব এলাকায় অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা সেভাবে পৌঁছেনি, সেখানে আমাদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা প্রান্তিক দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছেন৷ 

বর্তমান যুগে অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কার্যকারিতা কতটুক?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কার্যকারিতা আগে যা ছিল, এখনো তাই আছে৷ যতই যুগ পালটাক, বিজ্ঞানের পরিবর্তন খুব কম হয়৷ বরং এর সঙ্গে নতুন নতুন অ্যাডিশন হয়, নতুন নতুন রিসার্চের ফলাফল যোগ হয়৷ আমাদের দেশে হয়ত রিসার্চ কম, এতদিন সরকারি পৃষ্ঠপোশকতা একরকম ছিলই না৷ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বদান্যতায় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সেবা সবচেয়ে বেশি মানুষ গ্রহণ করে থাকে, সেই আদলে এখানেও চিকিৎসাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ সেখানে উচ্চ শিক্ষাসহ রিসার্চ করার সুযোগ আমরা পাবো৷ আমার বিশ্বাস এই এমওইউ কার্যকর হলে আমরা যতটা পিছিয়ে আছি, সেটা আর থাকবে না৷

অডিও শুনুন 08:52
এখন লাইভ
08:52 মিনিট

‘মানুষ যত শিক্ষিত হচ্ছে ভুয়া ডাক্তারের সংখ্যা তত কমছে’

এই চিকিৎসার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে, না বাড়ছে?

কমছে না, বরং বাড়ছেই৷ ঘনবসতির এই দেশে সরকারের শত চেষ্টার পরও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি৷ হতদরিদ্র মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে খুব সহজেই কাছে পাচ্ছে৷ পাশাপাশি এই চিকিৎসা খরচ স্বল্পমূল্যে থাকার কারণে হতদরিদ্র মানুষ এই চিকিৎসা বেশি গ্রহণ করছেন৷ আমাদের দেশি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ মানুষ এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপেও একাধিকবার এটাই প্রমাণিত হয়েছে৷ 

কোন বয়সের মানুষ এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বেশি গ্রহণ করেন?

সব ধরনের চিকিৎসা সব বয়সের মানুষেরই লাগে৷ তবে শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা আমাদের দেশে বেশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে থাকেন৷ হোমিওপ্যাথি একটা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যাবস্থা৷ সকল বয়সের ও সকল রোগের জন্যই এটা উপযোগী৷

এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে সফলতার হার কেমন?

এখানে সফলতার হারই বেশি৷ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, যেটা অন্যান্য পদ্ধতিতে আছে৷ যেমন জ্বরের জন্য ওষুধ খেয়েছে, কিন্তু কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে৷ প্রাচীণকাল থেকে এটা প্রতিষ্ঠিত যে, গাছগাছরা থেকেই এর অধিকাংশ ওষুধ তৈরি হয়ে থাকে৷ যেহেতু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তাই এখানে আরোগ্যের হারও অনেক বেশি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ভেজাল অ্যালোপ্যাথি ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়, হোমিওপ্যাথি ওষুধে কি কোনো ভেজালের বিষয় আছে? 

ভেজাল তো আমাদের দেশে সব জায়গায় আছে৷ খাবারে ভেজাল আছে, ওষুধেও ভেজাল আছে৷ তবে তুলনামূলকভাবে অ্যালোপ্যাথি থেকে হোমিওপ্যাথি ওষুধে ভেজাল কম৷ ইতিমধ্যে আমি হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর ভেজাল ওষুধ ও গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করানো ভুয়া চিকিৎসকের ১১ জনের সনদ আমি বাতিল করেছি৷ ভেজাল সব জায়গায় দেয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু প্রশাসনিক প্রতিরোধের মাধ্যমে এখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে৷ এ ব্যাপারে আমি কঠোর৷ আমরা ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে অনেকাংশেই সফল হয়েছি৷ এখন হয়ত পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, তবে সহনীয় পর্যায়ে এসেছে৷ বিশেষ করে গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করা, বিভিন্ন রোগের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে চিকিৎসা করানো বন্ধ হয়েছে৷ আমি মিডিয়াকেও ধন্যবাদ জানাই৷ তাদের সহযোগিতার কারণে আমরা তাদের অপতৎপরতা থেকে রক্ষা পেয়েছি৷

আমরা গ্রামে বহু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দেখি৷ তাঁদের সবার কি প্রশিক্ষণ বা পর্যাপ্ত চিকিৎসাজ্ঞান আছে?

অনেকক্ষেত্রেই নেই এটা স্বীকার করতেই হবে৷ অ্যালোপ্যাথিতে যেমন এই সমস্যা আছে, হোমিওপ্যাথিতেও আছে৷ যাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন, আমাদের হোমিওপ্যাথি বোর্ড থেকে যাঁরা রেজিস্ট্রেশন নিয়েছেন, তাঁরাই মূলত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক৷ আগে যখন গ্রাম-গঞ্জে চিকিৎসক কম ছিল, বই পড়ে অনেক হাতুড়ে চিকিৎসক চিকিৎসা করতেন৷ এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে এসেছে৷ মানুষ যত শিক্ষিত হচ্ছে, এই ধরনের ভুয়া ডাক্তারের সংখ্যা তত কমে যাচ্ছে৷

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কী কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেহেতু হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবন করেন, তাই উনি নিজের জ্ঞান ও ধ্যান-ধারণা থেকে বুঝেছেন, শুধুমাত্র অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা দিয়ে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়৷ তাই তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের সম্মান দিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, ঠিক তেমনি দেশের এই চিকিৎসাব্যবস্থা সফল হবে বলে আমার বিশ্বাস৷ আমাদের পাশের দেশ ভারতে হোমিওপ্যাথির বিষয়ে আলাদা একটা মন্ত্রণালয়ই রয়েছে৷ আলাদা মন্ত্রী আছেন৷ আমাদের পৃথক মন্ত্রণালয় না করা গেলেও আমাদের যেসব প্রস্তাবনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে এই চিকিৎসা আরো মানুষের দোরগোড়ায় নেয়া যাবে এবং এর সুফল সকলে পাবেন৷ 

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁদের প্রশিক্ষণে আপনারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আবিষ্কারক মহামতি স্যামুয়েল হানেমান৷ তিনি র্জামানিতে জন্মগ্রহণ করেছেন৷ আমার সৌভাগ্য হয়েছে অতি সম্প্রতি আমি জার্মানি গিয়েছিলাম৷ সেখানে হানেমানের যে চেম্বার ছিল, সেটা আজ মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে৷ ওই মিউজিয়াম দেখার সুযোগ আমার হয়েছে৷ উনি বিভিন্ন সময় যে বইগুলো লিখে গেছেন, আমাদের দেশে চিকিৎসা পদ্ধতি বা সিলেবাস সেই আলোকেই কিন্তু তৈরি করা হয়ে থাকে৷ আমাদের বেশ কিছু চিকিৎসক ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন৷ প্রতি বছরই দুই থেকে তিনটে টিম আমরা প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠাচ্ছি৷ তাঁরা বিদেশ থেকে যে জ্ঞান লাভ করছেন, তা দেশে ফিরে অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে শেয়ার করছেন৷ এর মাধ্যমে আমরা অনেক উপকৃত হয়ে থাকি৷

ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সঙ্গে কি আপনি একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়