‘দেশত্যাগ নির্যাতিত হয়ে, স্বেচ্ছায় নয়’ | আলাপ | DW | 26.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘দেশত্যাগ নির্যাতিত হয়ে, স্বেচ্ছায় নয়’

ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার একটি বক্তব্য ঘিরে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের উত্তাপ ছড়িয়েছে৷ আসলে কত সংখ্যালঘু স্বাধীনতার পর দেশে ছেড়েছেন বা নিরুদ্দেশ হয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান না মিললেও সংখ্যাটা যে অনেক সেটা নিশ্চিত৷

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কেন সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়ছেন? প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পর নতুন করে কি সংকটে পড়েছেন সংখ্যালঘুরা? এসব বিষয়ে এবার ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত৷

ডয়চে ভেলে : সংখ্যালঘুরা কেন ভারতে বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন? সবাই কি ভয়ে বা নির্যাতিত হয়েই দেশ ছাড়ছেন? নাকি অনেকে ইচ্ছে করে পছন্দের দেশ হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন?

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত: কোনো দেশের কোনো নাগরিক স্বেচ্ছায় নিজের দেশত্যাগ করে না৷ যাচ্ছে নিরাপত্তাহীনতার কারণে৷ চাকরি বা অন্য কোনো কারণে গেলে দেখা যায়, অনেকেই অ্যামেরিকায় থাকেন, কিন্তু বারিধারায় তার একটা বাড়ি আছে৷ নিরাপত্তাহীনতার কারণেই মূলত সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং হচ্ছেন৷ 

অডিও শুনুন 10:59

‘নিরাপত্তাহীনতার কারণেই মূলত সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন’

স্বাধীনতার পর কী পরিমাণ সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে গেছেন?

১৯৭০ সালের দিকে ১৯-২০ ভাগ জনগোষ্ঠী ছিল সংখ্যালঘুরা৷ ২০১১ সালে এসে সেটা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ভাগ৷ এখন পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ২ দশমিক ৩ ভাগ বেড়েছে৷ তাতেও ১২ শতাংশ হয়৷ এর অর্থ হল ৫ থেকে ৭ ভাগ জনগোষ্ঠী হারিয়ে গেছে৷ আমরা এটাকে বলছি, মিসিং পপুলেশন৷ 

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদ বোধ করছেন কি-না?

প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে পুঁজি করে আমরা অনেককেই ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে দেখছি৷ আমরা এও দেখলাম, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তারাও প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায় বিশেষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন৷ এতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক আছেই৷ তবে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন থেকে যে নির্দেশনা, তাতে আমরা খানিকটা আস্বস্ত হতে পেরেছি৷ 

সত্যিই কী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সমস্যায় আছেন?

সত্তরের আগে পাকিস্তান সরকার সংখ্যালঘু নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল৷ সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাও একই পলিসি নিয়েছে৷ এরশাদের পতনের দুই মাস আগেও ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালানো হয়৷ ১৯৯২ সালে একটানা ২৭ দিন নির্যাতন হতে দেখেছি৷ ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত নির্যাতন-নিপীড়ন-ধর্ষণ করা হয়েছে৷ ২০১১-২০১৪ পর্যন্তও নির্যাতন হয়েছে৷ বর্তমান সরকার বাজেটে ৬০ কোটি টাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে৷ এটা আমাদের আশান্বিত করে৷

আপনি বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ মনে করেন কি-না? 

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ও মৌলনীতি পুনস্থাপিত হয়েছে৷ এই সাম্প্রদায়িক রূপের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা আশা করা যায় না৷ বঙ্গবন্ধুর যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের নীতি সেটা হতে হলে ৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে৷

মাইনরিটির স্বার্থরক্ষায় বিদেশিরা কীভাবে সহায়তা করে থাকেন?

প্রথম কথা হচ্ছে, মাইনোরিটিদের স্বার্থ রক্ষা করবে তো আমার দেশ৷ আমার সংসদ৷ সেখানে সব দল মিলে৷ বিদেশিরা আমার স্বার্থ কিভাবে রক্ষা করতে পারে, সে বিষয়ে আমার কোন জানাশোনা নেই৷ এটা আমি মনেও করি না৷ জনগণের সমস্যা নিয়ে তো পার্লামেন্টেই আলোচনা হবে৷ বিদেশিরা আসলে কি করবেন, সে ব্যাপারে আমার কোন ধারণাও নেই৷

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় কী নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

এটা আমার চোখে দৃশ্যমান নয়৷ এখনও আমি লক্ষ্য করছি, প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে পুঁজি করে মহলবিশেষ ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরী করে যাচ্ছেন৷ এবং একটি সংঘাতমূলক পরিস্থিতি তৈরী করার জন্য তারা প্রতিনিয়তই হুমকি দিয়ে চলেছেন৷ আর এর বিরুদ্ধে প্রশাসনে বা আইন শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে কোন ধরনের ভূমিকা নিতে আমরা দেখিনি৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন