দেখেই বোঝা যায়, জার্মানিতে প্রবীণরা কত ভালো আছেন | আলাপ | DW | 10.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

দেখেই বোঝা যায়, জার্মানিতে প্রবীণরা কত ভালো আছেন

জার্মানিতে বয়স্ক বা প্রবীণদের জীবনযাত্রা বাংলাদেশের তুলনায় পুরোপুরি ভিন্ন৷ তাঁদের স্বাস্থ্য, হাঁটা-চলা, সাজগোজ দেখলে, কথাবার্তা শুনলে মনেই হয় না যে তাঁরা প্রবীণ৷

আর তা হবেইবা কেন৷ জার্মানিতে প্রবীণদের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা৷ মানুষের  জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার স্বাস্থ্য, হোক সে তরুণ বা প্রবীণ৷ তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সুস্থ থাকা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে৷ 

সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিমা, যা কিনা জার্মানির শতকরা ৯০জন নাগরিকেরই রয়েছে৷ প্রবীণদের সুচিকিৎসার নিরাপত্তা থাকায় তাঁরা নিশ্চিন্ত৷ আর থাকা খাওয়ার কোনো সমস্যা তো তাঁদের নেই-ই৷ বয়স্ক যাঁদের পেনশন খুব কম, তাঁদের জন্য সরকারই এগিয়ে আসে ব্যয়ভার বহন করতে৷ 

জার্মানির মোট জনসংখ্যা ৮কোটি ২০ লাখের মধ্যে এক কোটি ৭০ লাখ অর্থাৎ ২০ ভাগ প্রবীণ৷ জার্মানিতে প্রবীণ তাঁদেরই ধরা হয়, যাঁদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি৷

চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতি ও সচেতনতার বৃদ্ধির কারণে  জার্মানিতে মানুষের গড় আয়ু দিন দিন বাড়ায় প্রবীণদের সংখ্যাও বাড়ছে৷ বর্তমানে গড় আয়ু নারীর ক্ষেত্রে ৮২ আর পুরষদের ক্ষেত্রে ৭৮ বছর৷ তাঁরা কেমন আছেন ? এক কথায় বলতে গেলে বলতে হবে অনেক দেশের তুলনায় খুবই ভালো

জার্মানির বিত্তবানদের অনেকেই কিন্তু বৃদ্ধ বয়সেও নিজের বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন৷ তাঁদের কেউ কেউ দেখাশোনার জন্য ঘন্টা হিসেবে সেবিকা বা নার্স রাখেন৷ আবার কেউ কেউ দিনরাত থাকার জন্যও পোল্যান্ডের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সদের রাখেন৷ পোল্যান্ড থেকে চুক্তিতে আসা নার্স আসেন আবার  চুক্তি শেষে দেশে  ফিরে যান৷ 

আসলে জার্মানিতে প্রতিটি নাগরিকের মোটামুটিভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকার কারণেই তাঁরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে এতটা ‘ফিট' থাকতে পারেন৷ 

আর নানা ধরনের বৃদ্ধাশ্রম তো রয়েছে, যে যার সামর্থ ও সুবিধা মতো সেগুলো বেছে নিতে পারেন৷ সেখানে  থাকা-খাওয়া, সেবা, যত্ন ও চিকিসার পাশাপাশি নানা ধরণের বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকে৷

জার্মানিতে ৬৫তম জন্মদিনের পরেই সবাই সিনিয়র নাগরিক হিসেবে কিছু বাড়তি সুবিধা পান৷ বাস, ট্রাম, ট্রেন, মিউজিয়াম, কনসার্ট বা খেলা দেখার টিকিটের মতো অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়৷ তাই প্রায়ই প্রবীণদের দল বেঁধে এসব উপভোগ করতে যেতে দেখা যায়৷ সে দৃশ্য দেখে ভীষণ ভালো লাগে আমার৷ আমাদের দেশে এরকম দৃশ্যের কথা তো ভাবাই যায়না! 

যাঁদের হাঁটতে কষ্ট হয়, তাঁদের জন্য বেড়ানো তেমন কোনো সমস্যাই নয়৷ হুইল চেয়ারে বসেও ৮০ বছরের একজন প্রবীণ  দিব্যি ঘোরাফেরা করে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন৷ বাস, ট্রামেও কিন্তু নির্ধারণ করা থাকে দেশের বয়স্ক নাগরিকদের জন্য আলাদা সিট বা জায়গা৷

ছুটির দিন বা রোববারগুলোতে জার্মানির ভালো রেস্তোরাঁ বা কফিশপগুলোতে  থাকে ফিটফাট আর সাজগোজ করা প্রবীণ নারী-পুরুষদের ভিড়৷ বয়স বেড়েছে বলে কি আর সাধ-আহ্লাদ থাকতে নেই!

বয়স্ক জার্মানরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে কতটা ফিট তার একটি ছোট্ট উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ৷ গত বছর করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, জার্মানিতে ৮০ বছরের ওপরে যাঁদের বয়স, তাঁদের মধ্যে শতকরা ৩০ জন নিজে গাড়ি ড্রাইভ করেন৷ ২০০৫ সালে হিসেবটা ছিল শতকরা ১৯ ভাগের মতো৷

অন্যদিকে তরুণদের মধ্যে গাড়ি চালানোর  প্রবণতা কমছে৷ বিশেষ করে ৪০ বছরের কম যাঁদের বয়স, তাঁরা গাড়ির পরিবর্তে অনেকে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করছেন৷

আসলে অনেক জার্মান প্রবীণের সাথে আমার সখ্য গড়ে ওঠে সেই তরুণী বয়সেই,মানে জার্মানিতে আসার পর থেকেই৷ এরই মধ্যে তিন তিনটি যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে৷ নিজের আপনজনদের দেশে ফেলে আসার কারণেই কিনা জানিনা, ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকার সময়ে আমাদের বাড়িওয়ালা আর বাড়িওয়ালীর সাথে আমার কেন যেন বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যেতো৷ প্রবীণ মালিকদের কাছ থেকে সে সময় খুবই স্নেহ, ভালোবাসা পেয়েছি৷  সেসময় কিন্তু নিজেকে  কখনো বিদেশি বলে মনে হয়নি৷ যা-ই হোক  আমি তাঁদের সাথে মেশার ফলে তাঁদের ভাষা, তাঁদের সংস্কৃতিকে জানা অনেক সহজ হয়েছে আমার জন্য৷ 

Nurunnahar Sattar Kommentarbild App

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

কোলনে বসবাসরত আমাদের বেশ কয়েকজন ইতিবাচক চিন্তার জার্মান প্রতিবেশী প্রবীণদের জীবনযাত্রা, তাঁদের জীবনে সফলতা, দীর্ঘজীবী হওয়ার গোপণ রহস্যের নানা তথ্য নিয়ে একটি ছবির প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম কিছুদিন আগে৷ সেটা আমার এই লেখার সাথে যুক্ত করলাম৷

লেখাটি এখানে শেষ করলে হয়তো সুন্দর হতো৷ কিন্তু  জার্মানির প্রবীণদের জীবনযাত্রার পুরো চেহারাটা তো এমন নয়! সাম্প্রতিক আরেক সমীক্ষা জানাচ্ছে,  জার্মানিতে প্রবীণদের মধ্যে দারিদ্রের ঝুঁকি বাড়ছে দিনদিন৷ পেনশন সিস্টেমের পরিবর্তন না করলে আগামী ২০৩৬ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে শতকরা ১৬ থেকে ২০ জন প্রবীণ হুমকির মুখে পড়তে পারেন৷

তাছাড়া এমন অনেক প্রবীণ আছেন, তাঁদের বলতে গেলে কোনো আপনজন নেই৷ বৃদ্ধাশ্রমেও তাঁদের কেউ দেখতে আসেনা বা খোঁজ নেয়না৷ এমনকি ‘বড়দিনেও  সন্তানের জন্য অপেক্ষা করে করে চোখের পানি ফেলেন তাঁরা৷ ব্যস্ততার এই যুগে তাঁদের যে মা-বাবার জন্যও সময় নেই !

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়