দেউলিয়া হওয়া থেকে সুরক্ষা চাইল এয়ার বার্লিন | বিশ্ব | DW | 16.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

দেউলিয়া হওয়া থেকে সুরক্ষা চাইল এয়ার বার্লিন

ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের ফান্ডিং তুলে নেবার পর জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন এয়ার বার্লিনকে পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য দেউলিয়া সুরক্ষার পথ ধরতে হয়েছে৷

সহজ কথায়, এয়ার বার্লিনের কাছে আর প্রতিদিনের কাজ চালানোর মতো নগদ অর্থ নেই৷ সম্প্রতি সরকারি সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও ইতিহাদের ফান্ডিং এয়ার বার্লিনের কাছে অপরিহার্য ছিল৷ তবুও তারা কাজ চালিয়ে যেতে চায়, বলে এয়ার বার্লিন জানিয়েছে৷

শেয়ারবাজারে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন দাখিল করার সময় এয়ার বার্লিন বলে যে, তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ‘‘এয়ারলাইনটি চালু রাখার সপক্ষে কোনো ইতিবাচক লক্ষণ'' নেই৷ দাখিলপত্রে আরো বলা হয়, এয়ার বার্লিনের পরিচালকমণ্ডলীর যে দু'জন সদস্য ইতিহাদের দ্বারা মনোনীত হবার পর বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন, তারা পদত্যাগ করেছেন৷

ইতিহাদ মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে বলে যে, এয়ার বার্লিনের ঋণ পরিশোধে অযোগ্যতার আবেদন দাখিল উভয় পক্ষের জন্যই ‘‘হতাশাজনক''৷ ইতিহাদ গত ছয় বছরে এয়ার বার্লিনকে পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য দিয়েছে, বলে ইতিহাদ দাবি করে৷ গত এপ্রিল মাসে এয়ার বার্লিন কাজ চালানোর জন্য ইতিহাদের কাছ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো পেয়েছে, বলে ইতিহাদ জানায়৷

এয়ার বার্লিন তাদের নিজেদের ম্যানেজমেন্টের তত্ত্বাবধানে ইনসলভেন্সি প্রক্রিয়া সম্পাদন করার আবেদন করেছে, বলে এয়ার বার্লিন জানায়৷ এর ফলে ‘‘লুফৎহানসা ও অপরাপর আগ্রহী পক্ষদের সঙ্গে এয়ার বার্লিনের অপারেশনস বিক্রির ব্যাপারে কথাবার্তা বলা'' আরো সহজ হবে, বলে এয়ার বার্লিনের ধারণা৷

জার্মান সরকারের সূত্রে প্রকাশ যে, এয়ার বার্লিনের উড়ালগুলি যাতে সময়সূচি মতো উড়তে পারে, সেজন্য জার্মান সরকার সাময়িকভাবে ১৫ কোটি ইউরো মূল্যের একটি ঋণ দিতে প্রস্তুত৷

‘‘বর্তমানে হাজার হাজার যাত্রী ও পর্যটক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ছুটি কাটানোর জায়গায় রয়েছেন'', বলে জার্মান অর্থনীতি মন্ত্রণালয় ও জার্মান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়৷ ঐ ঋণ ব্যতিরেকে ‘‘এই সব যাত্রীর এয়ার বার্লিনের মাধ্যমে জার্মানিতে ফেরা সম্ভব হত না৷''

এছাড়া সরকারি অর্থায়নের ফলে এটাও নিশ্চিত হবে যে, এয়ার বার্লিন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোউইংস ও অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস-এর কাছ থেকে যে বিমানগুলি ধার নিয়েছিল, এয়ার বার্লিন সেগুলি পূর্বাপর ব্যবহার করতে পারবে৷

বিপুল লোকসান

গত দু'বছরে এয়ার বার্লিন মোট ১২০ কোটি ইউরো লোকসান দেখিয়েছে৷ ২০০৮ সাল যাবৎ মাত্র দু'টি কোয়ার্টার, অর্থাৎ তিন মাসের কর্মকাল ছাড়া এয়ার বার্লিন কখনো লাভের মুখ দেখেনি এবং বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ শেয়ারহোল্ডার ইতিহাদের তরফ থেকে নগদ বিনিয়োগের উপর নির্ভর থেকেছে৷

বাজেট ক্যারিয়ারটি যে এই অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেনি, এমন নয়৷ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এয়ার বার্লিন একটি বড় আকারের কাঠামো বদল পরিকল্পনা কার্যকরি করে: সেসময় এয়ার বার্লিনের ৩৮টি বিমান – বিমানকর্মী সহ – লুফৎহানসাকে ভাড়া  দেওয়া হয়; এছাড়া এয়ার বার্লিনের প্রায় ১,২০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়, যা কিনা সংস্থাটির মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় এক-সপ্তমাংশ৷

রিস্ট্রাকচারিং-এর ঠিক মাঝামাঝি এয়ার বার্লিন এক পর্যায় উড়াল বাতিল অথবা বিলম্বের পাল্লায় পড়ে, যার ফলে যাত্রীদের অভিযোগ ও অসন্তুষ্টির সীমা থাকে না ও যাত্রীসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়৷ এ বছরের প্রথম সাত মাসে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার যাত্রী এয়ার বার্লিন ব্যবহার করেছেন, যা কিনা ২০১৬ সালে প্রথম সাত মাসের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম৷ ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এয়ার বার্লিনের যাত্রীসংখ্যা ছিল ২০১৬ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম৷

এখন জার্মানির মুখ্য বিমান পরিবহণ সংস্থা লুফৎহানসা দৃশ্যত এয়ার বার্লিনকে বাঁচাতে চলেছে৷ মঙ্গলবার লুফৎহানসা জানায় যে, তারা ‘‘ইতিমধ্যেই এয়ার বার্লিন গোষ্ঠীর একাংশের নিয়ন্ত্রণ নেবার ব্যাপারে এয়ার বার্লিনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে ও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করার সম্ভাবনা যাচাই করে দেখছে৷''

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন