দুর্নীতির কারণে সহায়তা কমিয়ে দেয়ার হুমকি দাতাদের | অন্বেষণ | DW | 03.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দুর্নীতির কারণে সহায়তা কমিয়ে দেয়ার হুমকি দাতাদের

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে৷ বিদেশি সহায়তাও এসেছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন৷ তবে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা৷

বাংলাদেশে প্রায় এক হাজারেরও বেশি নদী ও খাল আছে৷ বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ এছাড়া প্রায়ই ঝড় আর অতিবৃষ্টি হচ্ছে৷ ভূমি যাচ্ছে হারিয়ে

বরগুনা জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, নদীভাঙন থেকে গ্রাম রক্ষা করতে অতীতে নদীতে বাঁধ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি৷

মাহফুজুল হক প্রায়ই এ ধরনের গল্প শোনেন৷ তিনি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হয়ে কাজ করেন৷

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেয়া অভিযোজন ও মিটিগেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও সেগুলোর অর্থায়ন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ বিদেশি অর্থ পাচ্ছে৷ কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী তা পর্যাপ্ত নয়৷ এর পরিমাণ বাড়াতে

হবে৷ সব মিলিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত ৭০০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছি, যার বেশিরভাগই এসেছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে৷''

সরকার প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে৷

প্রকল্পের আওতায় এমন সব স্কুল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়ও নিতে পারবে৷ তবে এ ধরনের ভবন তৈরির কাজ ব্যয়বহুল৷ এবং অনেক সময় দেখা যায়, যেখানে বেশি দরকার, সেখানে এমন ভবন নেই৷

কীভাবে এবং কোথায় অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার খেয়াল রাখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল৷

বরগুনার একটি স্কুল কাম জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র এমন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে যেখান থেকে বেশিরভাগ গ্রাম অনেক দূরে অবস্থিত৷ প্রশ্ন হলো, এর পেছনে কি লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে? করলে কেন? মাহফুজুল হক বলেন, ‘‘জলবায়ু তহবিল থেকে এখানে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে৷ প্রকল্পগুলোতে ঠিকমত অর্থ ব্যয় হয়েছে কিনা তা অনেকসময় বোঝা কঠিন হয়৷ তবে এটা খুবই ব্যতিক্রমী একটা ঘটনা যেখানে আমরা দেখছি যে, একটা স্কুল ঠিকমত ব্যবহৃত হচ্ছে না৷''

কেন এমন এক জায়গায় স্কুল তৈরি করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন৷ হক এটি জানেন না – কিংবা বলতে চান না৷

বাংলাদেশে সমালোচনা করা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে৷ মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অনেক সমালোচক নিখোঁজ হয়েছেন৷

জার্মানির রাষ্ট্রদূত টোমাস প্রিনৎস অবশ্য কথা বলতে ভয় পান না৷ অনেক বাংলাদেশি হয়ত তাঁর সঙ্গে একমত হবেন, যদিও তাঁরা হয়ত সে কথা স্বীকার করবেন না৷ টোমাস প্রিনৎস বলেন, ‘‘এই দেশে উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি, বলে আমি মনে করি৷ এই দেশের দরকার দুর্নীতিমুক্ত সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান৷ এক্ষেত্রে সবার আগে যেটা থাকা উচিত তা হচ্ছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা৷ কিন্তু তেমন কোনো লক্ষণ আমি দেখছি না৷''

বাংলাদেশে অনেক বাজার নদীর কাছে অবস্থিত৷ যে ভবনগুলোতে এগুলো অবস্থিত সেগুলো বন্যা ও সাইক্লোনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকার মতো মজবুত নয়৷

একটি আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত উঁচু হতে হবে কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থিত হতে হবে যেন বন্যার সময় মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে৷

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু তহবিল থেকে সরে আসার হুমকি দিচ্ছে বিদেশি দাতারা৷

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে৷ মাহফুজুল হক বলেন, ‘‘সরকার এই সব পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী৷ ক্রমান্বয়ে তারা এ সব বিষয় তাদের পরিকল্পনা ও নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করছে৷ ফলে এটি বাংলাদেশকে জলবায়ু তহবিল থেকে আরও টাকা পেতে সহায়তা করছে৷''

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি৷ তাই প্রভাব মোকাবিলার জন্য যে-কোনো সাহায্য পেতে আগ্রহী দেশটি৷

মারিয়ন হ্যুটার/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন