দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকারের হিড়িক | বিশ্ব | DW | 05.04.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকারের হিড়িক

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিনি নির্দোষ, তাই পদত্যাগ করবেন না৷ রাশিয়া মনে করে, ‘পানামা পেপার্স' আসলে পুটিনবিরোধী প্রচারণার অংশ৷সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলা ‘পানামা পেপার্স' নিয়ে তদন্তের উদ্যোগও নিচ্ছে কয়েকটি দেশ৷

‘পানামা পেপার্স'-এর অনুলিপি চেয়েছে ক্যানাডা৷ অনুলিপি পেলে তদন্ত করে অভিযোগ যাচাই করবে বলেও জানিয়েছে দেশটি৷ ক্যানাডার সবচেয়ে বড় ব্যাংক আরবিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ধণাঢ্য ব্যক্তিদের অর্থ পাচারে সহায়তা করেছে৷ ব্যাংকটি অবশ্য সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

মূলত অভিযোগ অস্বীকারের হিড়িকই চলছে এখন৷ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পানামা পেপর্সে সে দেশের বড় বড় নেতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সর্বৈব মিথ্যা৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই বলেন, ‘‘এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাবে আমার কিছু বলার নেই৷''

পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা-র প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ দলিল-দস্তাবেজ এক বছর ধরে খুঁটিয়ে দেখার পর রবিবার বিশ্বখ্যাতদের অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে যুক্তরাষ্ট্রের কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (আইসিআইজে)৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার বিশিষ্ট জনদের কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত বিপুল তথ্য প্রকাশ করে তারা৷

গত ৪০ বছরের কাগজপত্র ঘেঁটে অর্থ কেলেঙ্কারির এই তথ্য উদ্ধারে বিশ্বের ৭৬টি দেশের একশ'রও বেশি মিডিয়া গ্রুপের সাড়ে তিনশ'রও বেশি সাংবাদিক আইসিআইজে-র সঙ্গে কাজ করে৷

আইসিআইজে-র দাবি, তাদের অনুসন্ধান থেকে অন্তত ১২ জন রাষ্ট্রনায়কের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিতে বিদেশের বিভিন্ন ‘শেল কম্পানি'-তে টাকা রাখার তথ্য বেরিয়ে এসেছে৷ রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, আর্জেন্টিনা, জর্জিয়া, আইসল্যান্ড, ইরাক, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউক্রেনসহ বেশ কিছু দেশের ১৪৩ জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও তাঁদের আত্মীয়দের নাম এসেছে ঐ তালিকায়৷

‘শেল কম্পানি' আইনগতভাবে বৈধ এমন এক ধরণের প্রতিষ্ঠান যাদের নিজস্ব কোনো ব্যবসা নেই৷ তারা শুধু অন্যকে নানান নামে অর্থ খাটানোর খাটানোর সুযোগ করে দেয়৷

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ চীনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধেও এমন কিছু কম্পানির সহায়তায় অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে উড়িয়ে দিয়েছে চীন৷

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছে তাঁর এক বাল্যবন্ধু এবং কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের শেল কম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ৷ ক্রেমলিন যথারীতি দাবি করেছে, পুরো বিষয়টি নিছক ওয়াশিংটনের হয়ে আইসিআইজে-র পুটিনবিরোধী অপপ্রচার৷

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পক্ষ থেকে তাঁর সরকারের মুখপাত্রও বলেছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন৷

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড গানলগসনেরও দাবি যে, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিতে বিদেশে টাকা রাখার অভিযোগে এক বিন্দুও সত্যি নেই৷

এদিকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে রেকইয়াভিকে শুরু হয়েছে আন্দোলন৷ ডেভিড গানলগসন জানিয়েছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ মেনে নিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন না৷

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কোও বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন৷

সব দেশের সরকার অবশ্য ‘ভিত্তিহীন' বলেই অভিযোগের পাহাড়কে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে না৷

ক্যানাডার মতো অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডসও জানিয়েছে, অভিযোগ সংক্রান্ত কাগজপত্রের অনুলিপি পেলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে৷

এসিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন