দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: হাইকোর্ট | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: হাইকোর্ট

প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি হবে মঙ্গলবার৷ এ বিষয়ে আদালত বলেছে, ‘যতবড় রাঘব বোয়াল হোক না কেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’৷

বাংলাদেশে অর্থ আত্মসাৎ ও বিপুল টাকা পাচারের মামলার আসামি পি কে হালদারকে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)৷ ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ রুল শুনানির আবেদন করে৷ এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামীকাল দিন ধার্য করেন৷ এ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে৷ পরে এ বিষয়ে আদালত বলেছে- অর্থপাচারকারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না৷ আদালত আরও বলেন যে যতবড় রাঘব বোয়াল হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না৷ একইসঙ্গে এ ঘটনায় (গ্রেপ্তার) সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আদালত৷’’

আদালতের বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘‘পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছে- আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার, দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অর্থপাচারকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না৷ তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না৷ দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের ব্যাপারে আমরা খুবই সিরিয়াস৷’’

দুদকের পক্ষে ছিলেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান৷

২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেপ্তারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট৷ দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল৷ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক চলতি বছর জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় দুদক৷ ডাকযোগে পাঠানো সেই চিঠি এসবি পায় ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায়৷ পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারী ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়৷

ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সেই নির্দেশনা পায়৷ কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগেই বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ছেড়ে যান৷

গুঞ্জন ছিল, পি কে হালদার কানাডায় কানাডা গিয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন৷ কিন্তু গত শুক্রবার হঠাৎ করেই খবর আসে, পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গে অভিযানে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)৷ পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় সংস্থাটি৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানায়নি৷ ভারত এ ব্যাপারে জানালেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে৷ এসব অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক৷ এরইমধ্যে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা করা হয়েছে৷ বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য৷

এএস/এফএস (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন