দুর্গ, প্রাসাদের মডেল বানানো যার শখ | অন্বেষণ | DW | 08.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

দুর্গ, প্রাসাদের মডেল বানানো যার শখ

জার্মানির ৮৭ বছর বয়সি গ্যুন্টার বাইনার্ট রাজমিস্ত্রি ছিলেন৷ তার শখ সিমেন্ট আর ইটের খোয়া দিয়ে দুর্গ ও প্রাসাদের মডেল বানানো৷ এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি প্রাসাদের মডেল বানিয়েছেন তিনি৷

এর মধ্যে ৪০টির বেশি বানিয়েছেন তার জন্মভূমি গ্যার্বস্টেটে৷

গ্যুন্টার বাইনার্টের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে জার্মানির সাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যের মানসফেল্ড কাসেল৷ জার্মানির দক্ষিণের হার্ৎস অঞ্চলে অবস্থিত আসল মানসফেল্ড কাসেল একাদশ শতকে নির্মিত হয়েছে৷ একসময় এটি সেন্ট্রাল জার্মানির সবচেয়ে বড় দুর্গ ছিল৷ ঐ কাসেলকেই ১:২৫ স্কেলে তৈরি করেছেন বাইনার্ট৷ সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর৷ ১২০ বর্গমিটার জায়গার উপর এটি বানানো মডেল মানসফেল্ড কাসেলের পরিধি ৩৮ মিটার৷ এর মধ্যে হাঁটাও যায়৷

ভিডিও দেখুন 04:31

মডেল দুর্গ বানান ৮৭ বছরের বাইনার্ট

বাইনার্টের আরেক কাজ ভেটিন কাসেল৷ সিমেন্ট আর ইটের খোয়া দিয়ে এটি বানিয়েছেন তিনি৷ বাইনার্ট বলেন, ‘‘ছাদের পুরনো টাইলস ভেঙে আবার জোড়া লাগিয়েছি আমি৷ প্লাস দিয়ে প্রতিটার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে৷ সবকিছুই হাতে তৈরি৷’’

গ্যুন্টার বাইনার্ট রাজমিস্ত্রি ছিলেন৷ গত শতকের ৩০-৪০ দশকের দিকে সিগারেটের প্যাকেটে থাকা কাসেলের ছবি দেখে তিনি এসব নির্মাণ করেছেন৷ তিনি জানান, ‘‘আমি প্রথম মা-বাবার বাড়িতে একটি ফ্যান্টাসি কাসেল বানিয়েছিলাম৷ আনন্দের জন্যই করেছিলাম৷ জানিনা কীভাবে আমার মধ্যে সেই ধারনা এসেছিল৷’’

গ্যুন্টার বাইনার্ট ১৯৪৯ সালে কাসেল বানানো শুরু করেন৷ একসময় কাসেলের সংখ্যা এত বেশি হয়ে গিয়েছিল যে, তার বাগানে আর জায়গা হচ্ছিলনা৷ তখন শহর কর্তৃপক্ষ তাকে জায়গা দিয়ে সহায়তা করে৷ তবে কাসেল বানানোর জন্য তাকে কোনো অর্থ দেয়া হয়নি৷ বাইনার্ট বলেন, ‘‘মানুষের জন্য আমি এসব করি, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য৷ তাদের আমি খুশি দেখতে চাই৷ তারা আনন্দ পেলে সেটাই আমার সম্মানি৷ এর বেশি কিছু আমি চাই না৷’’

শুধু কাসেল নয়, কয়েকটি লোকোমোটিভও বানিয়েছেন বাইনার্ট৷ প্রতিটির ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিষয়ও খেয়াল রেখেছেন৷

গ্যার্বস্টেটের পুরনো রেলস্টেশনে রাখা মডেলগুলোর মধ্যে আছে বিশ্বের অন্যতম বড় লোকোমোটিভ, নাম ‘বিগ বয়’৷ আরও আছে জার্মানির প্রথম স্টিম লোকোমোটিভ ‘দ্য আডলার'৷ বাইনার্ট বলেন, ‘‘অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আমি জীবনে কখনও রেলওয়েতে কাজ করিনি৷ ফলে লোকোমোটিভ সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা ছিল না৷ তবে সাঙ্গারহাউজেনের আমার এক সহকর্মী আমাকে ছবি দিয়ে সাহায্য করেছে৷ আমার কাছে একটা লোকোমোটিভ আগেরটার চেয়ে ভালো লেগেছে৷ এভাবে ৪০-৪২টা লোকোমোটিভ তৈরি হয়ে গেছে৷’’

বাইনার্টের তৈরি মডেলগুলো এখন গ্যার্বস্টেটের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে৷ হেঁটে সব কাসেল দেখার জন্য পথের নকশাও তৈরি করা হয়েছে৷ বাইনার্ট তার কাজ নিয়ে গর্বিত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি এখন এগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি: তুমি কীভাবে এসব করলে, কীভাবে পারলে?’’

সিমেন্ট আর ইটের খোয়া দিয়ে তৈরি দুর্গ, প্রাসাদ আর লোকোমোটিভ- এমন উন্মুক্ত জাদুঘর সম্ভবত পৃথিবীতে আর নেই৷

কিয়র্স্টিন শুমান/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়