‘দুদকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে′ | বিশ্ব | DW | 08.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘দুদকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে'

অভিযোগ জানাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন খোলার প্রথম সাত-আট কর্মদিবসেই প্রায় এক লাখ ফোনকল এসেছে৷ এর অর্থ দুদকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান৷

গেল ২৭শে জুলাই কমিশন হটলাইন ১০৬ চালু করে৷ উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে দুর্নীতি ঠেকাতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জনগণের সঙ্গে কাজ করা৷ এতে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে৷ প্রথম দিনেই প্রায় ২,০০০ কল আসে৷ আর এক সপ্তাহের মাথায় সংখ্যাটি প্রায় পৌনে এক লাখে পৌঁছায়৷

তবে বেশিরভাগ অভিযোগই দুদক আইনের আওতার বাইরে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন কমিশনের মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য৷ ‘‘অনেকেই পারিবারিক বিষয়ে অভিযোগ করছেন৷ যৌতুকের অভিযোগও আসছে৷ কিন্তু এগুলো আমাদের এখতিয়ারে নয়৷''

দুদক আইনের আওতায় যেসব বিষয় পরে, তা হলো, সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘুষ দেয়া বা নেয়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থের অবৈধ ব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করা, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও ব্যাংক জালিয়াতি৷

দুদক কর্মকর্তারা মনে করেন, জনগণ আস্তে আস্তে বিষয়টিতে অভ্যস্ত হবেন৷

যেসব অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই সরকারি ভূমি রেকর্ড অফিস, সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল ও স্কুল এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে৷

অডিও শুনুন 06:10
এখন লাইভ
06:10 মিনিট

দুদক আইনের আওতায় দুর্নীতির যেসব খাত আছে, সেগুলোতে দুর্নীতি ‘বিশাল' ও ‘গভীর'

দুদকে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়া সংস্থাটির প্রতি মানুষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান৷ ‘‘এর অর্থ মানুষের মধ্যে দুদকের প্রতি প্রত্যাশা বেড়েছে৷ দুদকের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে৷'' বলছিলেন তিনি৷

তবে এটি দুদকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন ড. ইফতেখার৷ ‘‘দুদককে এই আস্থা ধরে রাখতে হলে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত করে দেখতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ৷''

তবে  দুদক আইনের আওতায় দুর্নীতির যেসব খাত আছে,  সেগুলোতে দুর্নীতি ‘বিশাল' ও ‘গভীর' বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

গত বছরের হিসেবে দুর্নীতি সূচকে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশের পয়েন্ট ২৭৷ এটি ৪৩ হলে মোটামুটি একটা পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি রোধ করা গেছে বলে মনে করা হয়৷

ড. ইফতেখার বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দুর্নীতিতে এক নম্বরে থাকা বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের চেয়ে ভালো হয়েছে৷ ‘‘কিন্তু এখনো আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়৷ আমাদের নীচে একমাত্র আফগানিস্তান৷''

টিআইবির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ সেবা খাতে দুর্নীতির শিকার৷

দুদকের হটলাইন উদ্বোধন করতে এসে অর্থমন্ত্রী ‘সবাই পরোক্ষভাবে দুর্নীতিতে জড়িত' বলে যে মন্তব্য করেছেন তার সমালোচনা করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ ধরনের মন্তব্য ঠিক না৷

‘‘সেবা খাতে যারা দুর্নীতিবাজদের কারণে জিম্মি হয়ে জনগণ দুর্নীতির আশ্রয় নেয়৷ এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে৷''

ড. ইফতেখার মনে করেন, এক ধরনের হতাশা বা হাল ছেড়ে দেয়ার মতো এ ধরনের মন্তব্য দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারের সামর্থ্যহীনতা যতটা না প্রকাশ করে, তার চেয়ে সদিচ্ছার অভাবের প্রশ্নটিই সামনে আনে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন