দুই বাংলাদেশি তরুণ যেভাবে ফোর্বসের তালিকায় | বিশ্ব | DW | 03.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

দুই বাংলাদেশি তরুণ যেভাবে ফোর্বসের তালিকায়

বাংলাদেশের দুই তরুণ ইলিয়াস হুসেইন এবং মোরশেদ মিশু প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’-এর অনূর্ধ্ব-৩০ এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন৷ ইলিয়াস রাইড শেয়ারিং ‘পাঠাও’ এর প্রধান নির্বাহী এবং মিশু একজন কার্টুনিস্ট৷

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৩টি দেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজে অবদান রাখা দুই হাজার সফল ও তরুণ উদ্যোক্তা এবার মনোনয়ন পান৷ যাদের বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর৷ তাঁদের মধ্য থেকে ৩০০ জনকে বাছাই করেন বিচারকরা৷ তার পর ফোর্বস এশিয়া প্রকাশ করে ২০১৯ সালের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি' তালিকাটি৷ চতুর্থবারের মতো তারা এই তালিকা প্রকাশ করল৷

ইলিয়াস হুসেইন

ইলিয়াস হুসেইন বাংলাদেশের প্রথম রাইড শেয়ারিং, অন-ডিমান্ড লজিস্টিকস ও ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ‘পাঠাও' এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা৷ এটি একটি অ্যাপ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান৷ ইলিয়াস হুসেইন ও শিফাত আদনান (৩০ ঊর্ধ্ব) এই দু'জন মিলে পাঠাও প্রতিষ্ঠা করেন৷ বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি শহর ও নেপালের কাঠমান্ডুতে মোটরবাইক ও গাড়ি শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে পাঠাও৷ এখানে বিদেশি বিনিয়োগও আছে৷ ফোর্বস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পাঠাও এখন পর্যন্ত চার রাউন্ডে ১২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি তহবিল পেয়েছে৷ এর বর্তমান মূল্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি৷ 

অডিও শুনুন 07:22

‘‘আমি যুদ্ধকে সুখ বা শান্তিতে রূপান্তরের চিন্তা করি’’

পাঠাওয়ের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী ইলিয়াস এটাকে বাংলাদেশের ‘সুপার অ্যাপ' করার চিন্তা করছেন বলে ফোর্বসকে জানিয়েছেন৷ বাংলাদেশ ও নেপালের কাঠমান্ডুতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পাঠাও অ্যাপ-এর মাধ্যমে গাড়ি, মোটর বাইক ব্যবহার করছেন৷ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পাঠাও যাত্রা শুরু করে৷

মোরশেদ মিশু

মোরশেদ মিশু'র পুরো নাম আব্দুল্লাহ আল মোরশেদ৷ তিনি একজন কার্টুনিস্ট এবং কার্টুন ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক৷ তিনি যুদ্ধের মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক দৃশ্যকে সুখের দৃশ্যে পরিণত করেন৷ তাঁর এই ইলাস্ট্রেশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে৷ বিশ্বের ৩০টি দেশের গণমাধ্যম তাঁর এই শিল্পকর্ম প্রকাশ করেছে৷ তিনি এসব কার্টুনের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, সহিংসতা বা যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবী কতটা সুন্দর হতো৷

এসব কার্টুন ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর, মিশুকে ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ' পদকে ভূষিত করা হয়৷ তিনি ‘মোরশেদ মিশু'স ইলাসট্রেশন' এরও প্রতিষ্ঠাতা৷

যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবী যেমন হতো

ডয়চে ভেলেকে মোরশেদ মিশু বলেন, ‘‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধের ছবি থেকে আমার মধ্যে যে হতাশার সৃষ্টি হয় সেখান থেকেই আমরা মাথায় এই নতুন ধরণের ইলাস্ট্রেশন-এর চিন্তা আসে৷ আমি যুদ্ধকে সুখ বা শান্তিতে রূপান্তরের চিন্তা করি৷ ভাবি পৃথিবীতে যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবীর চোহারা কেমন হতো৷ আমি সেটাই করেছি৷ একটি যুদ্ধের দৃশ্যকে সুখের দৃশ্যে পরিণত করেছি৷''

তিনি বলেন, ‘‘গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আমি ছবিগুলো আঁকা শুরু করি৷ আমি মোট ১১টি ইলাস্ট্রেশন করি৷ যেমন একটি হলো সিরিয়া বা ইয়েমেনের যুদ্ধে বড় বোন তাঁর শিশু ছোট বোনকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন দিতে গিয়ে নিজে অক্সিজেন পাননি৷ আমি সেটাকে পাশাপাশি হ্যাপিসেন-এ ট্রান্সফার করেছি৷ সেখানে একটি সুন্দর পরিবেশে ওই বোন তার শিশু বোনটিকে ফিডার খাওয়াচ্ছেন৷ ইরাকের মসুলের আরেকটি দৃশ্য হচ্ছে, বাবা তাঁর সন্তানকে বুকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন৷ আমি সেটাকে করেছি বাবা তাঁর সন্তানকে বুকে নিয়ে চমৎকার পোশাকে পার্কে হাঁটছেন৷ আবার হুইল চেয়ারে বসা এক যুদ্ধাহতকে রূপান্তর করেছি চেয়ারে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যে৷ আসলে যুদ্ধ না থাকলে পৃথিবীতো এমনই হতো৷''

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম তাঁর এই ইলাস্ট্রেশনকে প্রথমে গুরুত্ব দেয়নি৷ তাঁর বন্ধুরা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই নতুন চিন্তার ছবি নিয়ে যোগাযোগ করলেও কেউই এগুলো ছাপতে বা এনিয়ে কোনো প্রতিবেদন করতে আগ্রহ দেখায়নি৷ কিন্তু তাঁর ফেসবুক এবং অনলাইন থেকে এই শিল্পকর্মগুলো ধীরে ধীরে ভাইরাল হতে শুরু করে৷ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে৷ ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস অ্যাওয়ার্ড' পাওয়ার পর অনেকেই তাঁর দিকে নজন দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার এই কাজের সমালোচনাও আছে৷ তবে প্রশংসাই বেশি পেয়েছি৷''

তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনায় রয়েছে একটি প্রদর্শনী করা৷ এজন্য তিনি আরো ১৯টি ইলাস্ট্রেশন করবেন৷ এরপর বাংলাদেশে প্রথম প্রদর্শনী করতে চান৷ এই প্রদর্শনী তিনি দেশের বাইরেও নিয়ে যেতে চান৷

মোরশেদ মিশু বলেন, ‘‘উদ্যোক্তা বলতে শুধু ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্যোগই নয়৷ সামাজিক উদ্যোগ, সুখ ও শান্তির উদ্যোগ, সৃজনশীলতা এসবই উদ্যোগ৷ ফোর্বস মোট ১০টি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করে৷ তারা আমাকে মিডিয়া, মার্কেটিং এবং অ্যাড এই ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করেছে৷ আর পাঠাও'র ইলিয়াসকে নির্বাচন করা হয়েছে উন্নয়নশীল বিজনেস সেক্টরে৷''

বিজ্ঞাপন