দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় নিউরোস্টিমিউলেশন | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 25.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় নিউরোস্টিমিউলেশন

জার্মানিতে প্রতি আট জনে একজন ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় ভোগেন৷ অনেককেই যন্ত্রণালাঘব করতে ওষুধের সাহায্যে দিনটা পার করতে হয়, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়৷ অথচ নতুন এক ধরনের প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে এই সব রোগীকে৷

default

৫০ বছর বয়স্ক উটের স্লিপ্ড ডিস্ক বা মেরুদণ্ডের হাড়ের ডিস্কে সমস্যা দেখা দেয় বছর দশেক আগে৷ সফল একটা অপারেশনও হয়৷ দু বছর ভালই কাটে উটের৷ কিন্তু তারপর আবার তাঁর স্লিপ্ড ডিস্ক হয়৷ দ্বিতীয় অপারেশনের পর সংক্রমণ দেখা দেয়, যা থেকে শুরু হয় ব্যথা৷ উটের ভাষায়, ‘‘অবস্থাটা ছিল আশাহীন৷ প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আমি নড়াচড়া করতে পারতাম না৷ জীবনের কোন কিছুতে অংশ গ্রহণ করতে পারতাম না৷ কড়া ডোজের মর্ফিন নিয়ে দিন কাটাতে হত৷ জীবনটা ছিল হতাশায় ভরা৷''

উটের মত আরো অনেক ব্যথার রোগীরই এই রকম অবস্থা হয়৷ নিয়মিত কড়া যন্ত্রণালাঘব ওষুধ'এর সাহায্যে জীবন কাটাতে হয় তাঁদের৷ এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মারাত্মক৷ উটে জানান, ‘‘এই ওষুধের ফলে আমার ডিপ্রেশন দেখা দেয়৷ আমি নিজেকে মানুষের কাছ থেকে সরিয়ে নেই৷ আট বছর ধরে, বলা যায় আমি গৃহবন্দিই ছিলাম৷ আমার স্বামীও আমার এই দুর্ভাগ্যের সঙ্গী হন৷''

মর্ফিনমুক্ত জীবন

নয় মাস ধরে উটের আর মর্ফিন নিতে হয় না৷ আধুনিক এক নিউরোস্টিমিউলেটর ওষুধের বিকল্প হিসাবে কাজ করছে৷ এক ধরনের ব্যথানিরোধক পেসমেকার৷ পাশাপাশি রাখা আটটি ক্ষুদ্র ধাতু বা ইলেকট্রড৷ একটি সরু কাঠির মত দেখতে এই ইলেকট্রড মেরুদণ্ড বরাবর বসানো হয়, যেখান থেকে ইলেকট্রিক পাল্স পাঠানো হয়৷ ইলেকট্রড থেকে একটি তার নিতম্ব পর্যন্ত যায়৷ সেখানে থাকে একটি ব্যাটারি, যা আয়তনে একটি রবারের দ্বিগুণ৷ কোলন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের নিউরোসার্জারির ডাক্তার টর্সটেন রিথমান উটের শরীরে এই যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এই নিউরোস্টিমিউলেশন অনেকটা মস্তিষ্ককে ফাঁকি দিয়ে কাজ করে৷ আমরা অস্থির মজ্জায় ইলেকট্রড বসিয়ে মস্তিষ্কে পাঠানো ব্যথার অনুভূতিকে অনেকটা বন্ধ করে দেই৷ ফলে রোগী যন্ত্রণার বদলে একটা শিহরণ অনুভব করে৷''

অন্যান্য অসুখেও কাজে লাগে এই পেসমেকার

শুধু স্লিপ্ড ডিস্ক হলেই নয়, অন্যান্য অনেক ক্রনিক অসুখ বিসুখ ও আঘাত জনিত ব্যথায়ও সাহায্য করে এই নিউরোস্টিমিউলেশন৷ যেমন হৃদযন্ত্রের রক্তচলাচলে সমস্যা দেখা গেলে প্রয়োগ করা যেতে পারে নিউরোস্টিমিউলেশন৷ ডা. রিথমানের ভাষায়, ‘‘ব্যথা না থাকায় রোগীরা সক্রিয় জীবনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন৷ এর ফলে হার্টেও রক্ত চলাচল ভাল হয়৷''

রিথমান আরো জানান, ‘‘আমাদের কাছে এমন সব রোগীও আসেন, যারা কোনো যুদ্ধ বিগ্রহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন৷ গাড়ি বা মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরাও লাভবান হন আমাদের চিকিত্সায়৷''

সাধারণত ব্যথার পেসমেকার প্রতিস্থাপন দ্রুত ও সহজেই করা সম্ভব৷ কয়েক দিন পরই রোগী হাসপাতাল ছাড়তে পারেন৷ উটের কাছে পেসমেকার লাগানোটা ছিল যন্ত্রণাময় এক জীবনের পর খুব সামান্য ব্যাপার৷ এরপর তাঁর জীবনটা যেন আমূল বদলে গেছে৷ উটে জানান, ‘‘এটাই আমার কাছে এখন ব্যথার ওষুধ৷ রোগ থেকে মুক্ত হইনি আমি৷ আগের মত আমার অসুখটা এখনও আছে৷ পেসমেকার আমার ওষুধের বিকল্প এখন৷''

যন্ত্রণার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায় না

উটের পেসমেকার সবসময় চলে তবে ব্যথা কম বেশি হলে তিনি যন্ত্রটাও বাড়াতে কমাতে পারেন৷ উটে বলেন, ‘‘গতকাল আমার সাঙ্ঘাতিক ব্যথা উঠেছিল৷ এরকম হলে আগে আমি যন্ত্রণায় চিত্কার করতাম৷ এখন আমি পেসমেকারের যন্ত্রটা বাড়িয়ে দেই৷ খিঁচুনিটা থাকে৷ কিন্তু ব্যথার অনুভূতিটা মস্তিষ্কে পৌঁছায় না৷ পায়ের খিঁচুনি লক্ষ্য করতে পারি, কিন্তু কোনো যন্ত্রণা অনুভূত হয়না৷ আমার কাছে এটা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার৷''

ইলেকট্রিক পাল্স নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উটের কাছে একটি রিমোট কন্ট্রোল থাকে৷ এই যন্ত্রটি আবার একটি অ্যান্টেনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেটি অনেকটা ক্রিমের কৌটার মত দেখতে৷ অ্যান্টেনাটি পেসমেকারের কাছে নিতম্বের ওপরে ধরে রাখেন তিনি৷ উটের ভাষায়, ‘‘কয়েকদিন পরপর ব্যাটারি চার্জ করি৷ এজন্য একটি চার্জারও আছে৷ অ্যান্টেনার মাধ্যমেই ব্যাটারি চার্জ করা যায়৷ পাশাপাশি ঘরকন্নার টুকিটাকি কাজ, রান্না বান্না বা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করাও চলে৷''

শুধু উটেরই যন্ত্রণাময় আটটি বছর কাটেনি৷ তাঁর স্বামীকেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে৷ স্ত্রীকে সহায়তা করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাঁকে৷ উটে হেসে জানান, ‘‘আমার স্বামী বলেন, ‘দুষ্টামি করলে তোমার রিমোট কন্ট্রোলটা কেড়ে নেব৷ কী নিষ্ঠুর তাই না?''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন