দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্র, মানল মোদী সরকার | বিশ্ব | DW | 12.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্র, মানল মোদী সরকার

দিল্লি হিংসায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও বহিরাগতদের যোগসাজস ছিল, সংসদে এমন দাবি করছে সরকার৷ একই দাবি করে আসছে বিরোধী পক্ষ৷ তবে, উসকানিমূলক ভাষণে অভিযুক্ত বিজেপি'র নেতা-মন্ত্রীদের পরিবর্তে সরকারের তীর সিএএ-বিরোধী দিকে৷

দিল্লি হিংসা নিয়ে সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের'কথা স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ দিল্লি হাইকোর্টের কোনও বিচারককে দিয়ে সমগ্র হিংসার তদন্ত করাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ আইনমন্ত্রী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই মর্মে চিঠি লিখেছেন৷ অমিত শাহর দাবি, হামলা চালাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে ৩০০-র বেশি লোক উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ঢুকেছিল৷২৪ ফেব্রুয়ারি দুই রাজ্যের সীমান্ত সিল করা হয়েছিল৷ ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলে হিংসা ছড়ানো হয়েছিল৷ পুরো ঘটনার পিছনে বড় ষড়যন্ত্র ছিল৷ পুলিশ তদন্ত করছে৷ এখন পর্যন্ত ২৬৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে৷ বিশেষ সফটঅয়্যার দিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ হচ্ছে৷ এখনও পর্যন্ত ১১০০ জনকে এই সফটঅয়্যার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ শান্তি কমিটি গঠন করে ৬৫০টি বৈঠক হয়েছে৷ ১১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে৷ ষড়যন্ত্রকারীরা রেহাই পাবে না৷ এখনও পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ জখম ৫২৬ জন৷ ৩৭১টি দোকান পোড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

বিরোধীদের দিকে সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝানোর অভিযোগ তোলেন শাহ৷ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ভাষণ ও '৮৪-র শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন৷ সে সময় কংগ্রেস সাংসদরা ওয়াকআউট করেন৷ অমিত শাহর কথায়, ‘‘ষড়যন্ত্রকারীরা দাঙ্গা কবলিত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়েছে৷ ঘনবসতি এলাকা৷ পুলিশের গাড়ি, দমকল পর্যন্ত যেতে পারে না, এমন এলাকা৷ তাছাড়া ওই এলাকায় অপরাধের ইতিহাস আছে৷ তা সত্ত্বেও মাত্র ৭২ ঘন্টায় পুলিশ বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে৷''

নিজে না গিয়ে দাঙ্গা কবলিত এলাকায় এনএসএ অজিত দোভালকে পাঠালেন কেন?বিরোধীদের এই প্রশ্নের উত্তরে শাহ বলেন, ‘‘আমি নিজে এলাকায় গেলে পুলিশ আমার নিরাপত্তা নিয়েই ব্যস্ত থাকত৷ তাই যাইনি৷ পুলিশকে পুলিশের কাজ করতে দিয়েছি৷ তবে, নিজে কড়া নজর রেখেছিলাম৷''উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য দলের নেতাদের নয়, বরং বিরোধী নেতা, নেত্রীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন শাহ৷ যদিও, ভারতীয় জনতা পার্টি ছাড়া বাকি প্রায় সব দলই  দিল্লি হিংসার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসিনতা ও ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে৷

কংগ্রেসের আক্রমণ—

কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরি তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উল্লেখ করে মহাত্মা গান্ধী, নজরুল ইসলাম থেকে মার্টিন লুথারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন৷ প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘দিল্লির ঘটনা পরিকল্পিত গণহত্যা৷'প্রশ্ন তুলেছেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিজেপি'র নেতা, মনত্রী সাংসদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললেও শাসক দল ও দিল্লি পুলিশ নির্লজ্জজনক ভাবে মুখে কুলুপ এঁটেছে কেন?ঘটনার সময় পুলিশের কাছে আসা প্রায় ২০ হাজার ‘বিপন্ন কল'এর জবাব না দেওয়ার জন্য একহাত নিয়েছেন মোদী সরকারকে৷ কাঠগড়ায় তুলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারকেও৷

অন্যদিকে, বিরোধীরা দিল্লি পুলিশের দন্ডমুন্ডের কর্তা হিসেবে শাহর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ অভিযোগ, টানা ৭২ ঘন্টা উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে বেপরোয়া হিংসা চললেও হাত গুটিয়ে বসেছিলেন শাহ৷ উঠে এসেছে মার্কি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর চলাকালীন  নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাসিনতার অভিযোগ৷

ট্রাম্পের সফর ও উদাসীনতা—

বিরোধী দলগুলি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরে আমেদাবাদ, আগ্রা ও দিল্লি সফর নিয়ে খোঁচা দিয়েছে মোদী সরকারকে৷ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের কথায়, ‘‘গুজরাট দাঙ্গার কথা মনে আছে, আমেদাবাদকে টেনে আনা হয়েছে দিল্লিতে৷''এই সম্পর্কে শাহর জবাব, ‘‘ট্রাম্পের কর্মসূচি আগে থেকে ঠিক ছিল৷ আমি আমেদাবাদে বসে ছিলাম না৷ তথ্য বিকৃতি করা হচ্ছে৷ সেদিন বিকেল সাড়ে ছ'টায় দিল্লি পৌঁছে গিয়েছিলাম৷ পরদিন রাষ্ট্রপতি ভবন-সহ ট্রাম্পের কোনও অনুষ্ঠানে আমি যাইনি৷ একের পর এক পর্যালোচনা বৈঠক করেছি৷ এনএসএ অজিত দোভালকে এলাকায় পাঠানোর প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম৷ পুলিশের মনোবল বাড়ানোর কথা বলেছিলাম তাঁকে৷''

শাহর পদত্যাগ—

দিল্লি হিংসায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ব্যর্থতা'নিয়ে সরব বিরোধী শিবির৷ সংসদে আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর চোখে চোখ রেখে ইস্তফা চাইলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়৷ শাহর উদ্দেশে বললেন, ‘‘এখনই বিদায় নিন৷ তা না হলে আপনার কপালে লেখা থাকবে, দাঙ্গা আটকাতে ব্যর্থ হয়েও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন আপনি৷''

গণহত্যা—

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির হিংসাকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা'আখ্যা দিয়েছেন৷ দলের দাবি, এর যথেস্ট কারণ রয়েছে৷ মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ যারমধ্যে রয়েছেন দুই পুলিশকর্মী, ১১জন সংখ্যাগুরু এবং ৪০জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ৷ জাফরাবাদ, কারওয়াল নগর, ভজনপুরা, শিব বিহার ও চাঁদবাগ-সহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে৷ উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লির অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন হিংসাপীড়িতরা৷

বিচারক বদলি —

নরেন্দ্র মোদি সরকার কি বিচারকদের পিছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছে?সংসদ ভবনের আনাচে কানাচে ঘোরাফেরা করছে প্রশ্নটা৷ সংশয়ের স্রষ্টা বিজেপি সাংসদ মীনাক্ষী লেখি৷ বুধবার লোকসভায় তিনি বলেছেন, ‘গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই দিল্লি হাইকোর্টের বিচারক মরলীধরকে বদলি করা হয়েছে৷''আরও বলেছেন, ‘‘বিচারকদের সম্পর্কে আই বি রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা উচিত৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন