দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে নাবালক অপরাধীর শাস্তি নিয়ে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 04.09.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে নাবালক অপরাধীর শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের একজন নাবালক আসামির বিচার ও লঘু শাস্তি নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে৷ ধর্ষণকাণ্ডে ঐ নাবালকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ৷ তা সত্ত্বেও বয়সের কারণে বিচারে তার মাত্র তিন বছরের জেল হয়৷

দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের অন্যতম একজন আসামির বয়স ১৮ বছরের কয়েকমাস কম হওয়ার সুবাদে আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তাকে নাবালক বলে গণ্য করে তার বিচার হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে৷ বিচারে তার শাস্তি হয় মাত্র তিন বছরের জেল৷ বিচারপর্ব চলাকালীন প্রায় আট মাস সে জেলে কাটিয়েছে৷ অর্থাৎ, অবশিষ্ট দু'বছর চার মাস তাকে থাকতে হবে জেলের সংশোধনাগারে৷ এরপর, এত বড় একটা অপরাধ করেও সে মুক্ত হয়ে যাবে৷ তাই একে সুবিচার বলে মনে করে না নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশ৷

গুরু অপরাধে লঘু শাস্তি নিয়ে দেশ জুড়ে চলেছে তুমুল বিতর্ক৷ ক্ষোভ ব্যক্ত করে ধর্ষিতা তরুণীর পরিবার বলেছে, (সবাই তরুণীর নাম দিয়েছে নির্ভয়া) এর প্রতিকারে তাঁরা উচ্চতর আদালতে যাবেন৷ কারণ বয়সটা অপরাধের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না৷ বিবেচ্য হওয়া উচিত কী ধরণের অপরাধ সে করেছে৷ এরকমটা না হলে এই বিচারে দেশের কাছে ভুল বার্তা যাবে, বেড়ে যাবে অনুরূপ অপরাধ করার সাহস৷

Gruppenvergewaltigung Proteste Urteil gegen Teenager in Neu Delhi Indien

নাবালক আসামির বিচার ও লঘু শাস্তি নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে

সংলাপ নামে এক নারী সংগঠনের প্রধান ইন্দ্রানী সিংহ ডয়চে ভেলের কাছে এই প্রসঙ্গে বললেন, এটা আইনি বিচার হলেও ন্যায়বিচার হয়নি৷ আইনে আছে ১৮ বছরের নীচে হলে সে নাবালক৷ সেদিক থেকে ঠিক আছে৷ ‘‘তবে আমি যদি বিচারক হতাম, তাহলে আরো অনেক বেশি বছর ঐ অপরাধীকে জেলের সংশোধনাগারে আটকে রাখতাম৷'' ছেলে বা মেয়ের ক্ষেত্রে নাবালকত্বের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করলেও বিপদ আছে ৷ সম্মতিসাপেক্ষে যৌন মিলনের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে, ডয়চে ভেলেকে বলেন ইন্দ্রানী সিংহ৷

৯/১১-র মুম্বই সন্ত্রাসী হামলা মামলার বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের মতে, নাবালকের অতীত অপরাধের রেকর্ড, পরিবারের ইতিহাস, অপরাধের প্রকৃতি খতিয়ে দেখেই স্থির করতে হবে অপরাধীকে নাবালক বলে গণ্য করা যায় কিনা৷ ইন্টারনেটের যুগে বয়সটাই নাবালকত্বের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না৷ আগে ১৬ বছর পর্যন্ত ছিল নাবালকের বয়সসীমা৷ বিভিন্ন দেশের শিশু অধিকার এনজিওগুলির চাপে তা বাড়িয়ে করা হয় ১৮ বছর৷ তাদের যুক্তি ছিল, এটা করা না হলে নাবালকরা পরে দাগি অপরাধী হয়ে যেতে পারে৷ দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের পর মনমোহন সিং সরকার বিচারপতি জে.পি ভার্মার নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিও নাবালকের বয়সসীমা কম করার সুপারিশ করেনি৷ বলা হয়, নাবালকদের সংশোধনের সুযোগ দেয়া উচিত৷ ভারতের শীর্ষ আদালতও তাই মনে করে৷

ম্যাগসেসাই পুরস্কার প্রাপ্ত প্রাক্তন পুলিশ অফিসার কিরণ বেদি মনে করেন, আদালতের রোবটের মতো কাজ করা ঠিক নয়৷ আইন তৈরি হয় সুবিচার পেতে, তার দাস হয়ে থাকতে নয়৷ প্রাক্তন জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো গত বছর প্রায় ৪০ হাজারের মতো নাবালককে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে বেশ কিছুর বিরুদ্ধে ছিল গুরুতর অপরাধের অভিযোগ৷ এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নিরক্ষর বা অশিক্ষিত এবং গরিব৷ সংশোধনাগারের ভেতরে থেকেও ওরা যৌন অপরাধ, মারপিঠ, গুন্ডামি করে থাকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন