দিল্লি কবে নিরাপদ হবে? | বিশ্ব | DW | 22.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

দিল্লি কবে নিরাপদ হবে?

এমনিতেই নারী সুরক্ষা তলানিতে৷ দিনেদুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রনেতার ওপর হামলা৷ সামগ্রিক আইন-‌শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে মতপার্থক্যের অবকাশ নেই৷ কিন্তু সমস্যাটা ঠিক কোথায়?‌

দিল্লির শাসনভার কার হাতে, তা নিয়ে বিবাদ মোটামুটি মিটলেও দিল্লি পূর্ণরাজ্য হবে কিনা অথবা পুলিশের পরিচালন ভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে লড়াইয়ের শেষ নেই৷ নিত্যদিন শিশুকন্যা ধর্ষণের খবর বেরোচ্ছে৷ নারী সুরক্ষায় দেশের সবচেয়ে নিচের তলার রাজ্য৷

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি, কার্যত হু হু করে বাড়ছে দিল্লির জনসংখ্যা৷ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দিল্লির জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬০ লক্ষ‌ ৭০ হাজার৷ ২০১৪-তে তা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ৮০ হাজার৷ ফলে ধরে নেওয়া যেতে পারে বর্তমানে দিল্লির জনসংখ্যা প্রায় দু-‌কোটি৷ জেনে রাখা ভালো, দিল্লি পুলিশের অন্তত ৪০ শতাংশ পুলিশকর্মীকে সর্বদা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা দিতেই ব্যস্ত থাকতে হয়৷ দিল্লিতে মোট পুলিশকর্মীর সংখ্যা ৭৭,৯৬৫জন৷ দিল্লি পুলিশে পদ শূন্য আছে ৬৬,০০০৷ সম্প্রতি ৩৬০০জন পুলিশকর্মী নেওয়ার অনুমোদন মিলেছে, যা ফাঁকা পদের মাত্র ৬ শতাংশ! ‌তাহলে সহজেই অনুমেয় কেন দিল্লির আইন-‌শৃঙ্খলা তলানিতে ঠেকেছে৷

কিছুদিন আগে দিল্লির একটি সরকারি বিদ্যালয়ে এক ছ'‌বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে৷ তিনি নিজে এই ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘‌‘‌গত কয়েক বছর ধরে দিল্লিতে শিশুকন্যা ও মহিলাদের ওপর জঘন্যতম অপরাধের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর৷'‌'‌ তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও দিল্লির উপ-‌রাজ্যপাল অমিল বাইজালের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন৷ বলেছেন, ‘‌‘‌এর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার৷ কারণ, বার বার বলা সত্ত্বেও কার্যত হাত গুটিয়ে বসে আছে দিল্লি পুলিশ৷ দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে৷ আমাদের হাতে দেওয়া হোক৷'‌'‌ তবে কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপালেও দিল্লি সরকার যে চুপ করে বসে নেই, তা জানাতে ভোলেননি কেজরিওয়াল৷ বলেছেন, ‘‌‘পরিস্থিতি বিচার করে গোটা দিল্লিজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ‌আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকমাসের মধ্যে প্রায় ৩০-‌৪০ শতাংশ ঘটনা কমে যাবে৷ তবে এমন ঘটনা বন্ধ করতে হলে আইন-‌শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে৷ সেখানে বড়সড় খামতি৷'‌'‌

ভারতের রাজধানীতে সাধারণ মানুষের প্রাণও নিরাপদ নয়৷ সীমান্তে নাশকতার ঘটনা আখছার৷ রাজধানী শহর সুরক্ষিত কি?‌ মোটেই তা নয়৷

সম্প্রতি ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক সরেজমিন সমীক্ষায় রাজধানীর বড় রেল স্টেশনগুলির নিরাপত্তায় মারাত্মক ফাঁকফোকর ধরা পড়েছে৷ নয়া দিল্লি, পুরোনো দিল্লি, নিজামুদ্দিন এবং আনন্দ বিহারের মতো স্টেশন, যেখানে বিপুল জনসমাগম হয়, সেখানে ভারী মালপত্র নিয়ে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা৷ সেই মালপত্র পরীক্ষা করা, উপযুক্ত স্ক্যানিং পদ্ধতি নেই, যাত্রী সুরক্ষায় যা অত্যন্ত জরুরি৷ পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‌‘‌সুরক্ষা ব্যবস্থায় চরম উদাসীনতা ধরা পড়েছে৷ জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে যদি এমন কোনো একটি মালপত্রের ভিতর বিস্ফোরক রেখে ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে এই স্টেশনগুলিতে বহু মানুষ প্রাণ হারাতে পারে৷'‌'‌

অডিও শুনুন 04:17

‘গোটা উত্তর ভারতে বাড়ির মেয়েদের দ্বিতীয় নাগরিক মনে করেন পুরুষরা’

ডয়চে ভেলে কথা বলেছে দিল্লির পুরোনো বাসিন্দা, প্রাক্তন বাঙালি আমলা সুগত হাজরার সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ‘‌‌‘‌‌দিল্লিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বহিরাগত৷ আশেপাশের রাজ্যগুলি থেকে এখানে যারা আসে, তাদের বেশিরভাগেরই চালচুলো নেই৷ তারা ঘরসংসার ছেড়ে আসে৷ দিল্লি শহরে এসে বেশি পয়সা রোজগার করে৷ ফলে মনোরঞ্জন চায়৷ তারপর পথেঘাটে কাউকে পছন্দ হলেই তাদের সঙ্গে জোরজবরদস্তি করতে চায়৷ শুধু এই ধরনের লোক নয়, আরও একটি দিক হলো গোটা উত্তর ভারতে বাড়ির মেয়েদের দ্বিতীয় নাগরিক মনে করেন পুরুষরা৷ তাই নিজেদের বাড়িতে তো বটেই, পথেঘাটেও মহিলাদের সম্মান করে না তারা৷ এছাড়া মনে রাখতে হবে, দিল্লিতে কর্মরত পুলিশকর্মীরা এসেছেন উত্তর ভারতের এমন সমাজ থেকেই৷ ফলে স্বাভাবিক ভাবে তাঁদের মধ্যেও মহিলাদের সম্পর্কে ধারণা তেমনই৷'‌'‌

ঠিক কী ধরনের অপরাধ ও অপরাধী রয়েছে দিল্লিতে ?‌ একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ দিনকয়েক আগে দিল্লি পুলিশের হাতে এসেছে ‘‌অপরাধ জগতের গডমাদার'৷ সঙ্গম বিহার এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছরের সেই মহিলা চুক্তিতে হত্যা করতে অভ্যস্ত৷ অনেকটা সিনেমার মতোই৷ ২০১৭ সালে এক ২১ বছরের যুবককে হত্যার ঘটনার পর থেকে গত ৮ মাস ধরে গা-‌ঢাকা দিয়েছিল বসিরন নামের ওই মহিলা৷ নিজের ৮ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো অপরাধ জগতে রাজত্ব চালাতো বসিরন৷

অডিও শুনুন 04:02

"কবে মেয়েরা নিরাপদে বাইরে বেরোতে পারবে, উত্তর নেই কারও কাছে"

দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় বসু ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‌‌‘সরকারি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩৬০০ জন মানুষ দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা হচ্ছে৷ গত তিন বছর ধরে লাগাতার সিসিটিভি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ কয়েকদিন আগেই সংসদ ভবন থেকে ঢিলছোঁড়া দূরে জেএনইউ-‌র ছাত্রনেতা উমর খালিদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র-হ আক্রমণ চালালো দু্ষ্কৃতীরা৷ ১০দিন পরে হলেও পুলিশ সিসিটিভি-র সূত্র ধরেই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে৷ ফলে কেজরিওয়াল যে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং যে দাবি করছেন, তার সারবত্তা আছে, সেটা পরীক্ষিত সত্য৷'‌'‌

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে জানিয়েছে, নয়াদিল্লি মিউনিসিপাল কর্পোরেশন এলাকা, যার মধ্যে সংসদ ভবন, নর্থব্লক, সাউথব্লক, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সরকারি কর্মচারীদের আবাসন রয়েছে, সেইসব এলাকার দায়িত্ব নিক কেন্দ্র৷ কিন্তু দিল্লির বাকি ৯০ শতাংশ এলাকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিক৷ তাতে মোটেও রাজি হচ্ছে না ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার৷ এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক চক্রান্ত৷'‌'‌ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, চাপান-‌উতোর তো চলছেই, কিন্তু, কবে মেয়েরা নিরাপদে বাইরে বেরোতে পারবে?‌ উত্তর নেই কারো কাছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন