দিল্লির মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে? | বিশ্ব | DW | 14.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

দিল্লির মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে?

সপ্তদশ সংসদীয় নির্বাচনের সাত দফা ভোটের মধ্যে ছয় দফা শেষ৷ বাকি মাত্র এক দফা৷ ১৯শে মে৷ কাজেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ভোট সমীক্ষকদের মধ্যে এখন থেকেই অঙ্ক কষা চলেছে জোর কদমে৷

কোন দল বা জোট সরকার গড়বে? শাসক ও বিরোধী উভয়ের দাবি, তারাই গড়বে সরকার৷ পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলির মহাজোট সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে বলছে, সরকার গঠনের সম্ভাবনায় তারাই এগিয়ে৷

এই জল্পনার অবসান হবে ২৩ মে ভোট গণনার পরেই৷ কিন্ত তার আগেই সরকার গড়া নিয়ে হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে গেছে, সংসদের নিম্নসভা লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে শাসক দল, বিরোধী দল এবং আঞ্চলিক দলগুলির মহাজোট কে ক'টা আসন পেতে পারে৷ শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ধারণা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতের মুঠোয়৷ অন্যদিকে আঞ্চলিক দলগুলির দাবি, সরকার গড়ার চাবিকাঠি তাদের হাতেই৷ তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, শাসক ও বিরোধী দল সরকার গড়ার মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আঞ্চলিক দলগুলিকে কাছে টানতেই হবে৷ দেখা যাক, বিকল্প সম্ভাবনা কী কী হতে পারে৷

এক, ২০১৪ সালের মতো বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলো এবং শরিক দলগুলিকে নিয়ে এনডিএ (জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট) সরকার গঠন করল৷

দুই, শরিকদের নিয়েও দেখা গেল বিজেপি এনডিএ সরকার গড়তে পারলো না৷ সেক্ষেত্রে শরিক দলকে সরকার গড়তে দিয়ে বিজেপি বাইরে থেকে সমর্থন দিলো৷

অডিও শুনুন 03:45

‘ভোটে মোদী হাওয়া বলে এবার কিছু নেই’

তিন, শরিকদের নিয়েও যদি বিজেপি সরকার গড়তে না পারে, সেক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ (সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট) সরকার দিল্লির মসনদ দখল করতে পারে৷

চার, বিরোধী শিবিরের আঞ্চলিক দলগুলি মিলে সরকার গড়লো এবং কংগ্রেস তাদের সমর্থন দিলোবাইরে থেকে৷ এই ফেডারেল ফ্রন্ট সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জোর তত্পরতা চালিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও প্রমুখ৷ তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের প্রধান স্টালিন কিন্তু এই জোটে যোগ দেবেন কিনা সে বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেননি৷

কিন্তু সবথেকে বড় প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে৷ আঞ্চলিক দলগুলির মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী হবেন কে? চন্দ্র শেখর রাও দক্ষিণী রাজ্যগুলির কাউকে প্রধানমন্ত্রী করার ইঙ্গিতও দিয়ে এসেছেন৷ এমনটাই শোনা যাচ্ছে৷ কিন্তু সবথেকে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে (৮০টি আসন) প্রধান দুই দল দলিত নেত্রী মায়াবতীর বিএসপি (বহুজন সমাজ পার্টি) এবং অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির জোট এখন পর্যন্ত একটু তফাতে থাকতেই পছন্দ করছে৷ কারণ, মায়াবতী মনে করেন, তিনিই ফেডারেল ফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবার উপযুক্ত প্রার্থী৷

ষষ্ঠ দফা ভোটেরপরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকার গড়া নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২০১৪ সালের মতো ভোটে মোদী হাওয়া বলে এবার কিছু নেই৷ গত পাঁচ বছরে মোদী সরকারের কর্মকাণ্ডের একটা অভিঘাত তো পড়তেই পারে, বিশেষ করে দুটো বিষয়ের উল্লেখ করা যেতে পারে, একটা হচ্ছে নোটবন্দি (বিমূদ্রাকরণ), অন্যটা হচ্ছে জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা শুল্ক)৷ এই দুটো সিদ্ধান্ত নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং খুচরো ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট চাপে ফেলেছে৷ এর একটা ফল তো পড়বেই৷ অনেক আসনে বিজেপি এজন্য ভোট হারাবে৷ সাম্প্রদায়িকতা বা সংখ্যালঘু স্বার্থের কথা যদি বাদও দিই, অর্থনৈতিক দিকগুলো বিজেপির জনপ্রিয়তায় চাপ বাড়িয়েছে৷ মনে হয়, সেটা বিজেপি সরকার এখনো পুনরুদ্ধার করতে পারেনি৷ তবে হ্যাঁ, গ্রামাঞ্চলে কিছু কিছু উন্নয়ন কর্মসূচি মোদী সরকার বাস্তবায়িত করেছে৷ যেমন, গ্রামীণ শৌচালয়, অল্প দামের বাড়িঘর তৈরি ইত্যাদি৷''

সেদিক থেকে কংগ্রেসের সম্ভাবনা কতটা দেখছেন? উত্তরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় বললেন, ‘‘কয়েকটা রাজ্যে কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলে মনে হয়৷ যেমন, পাঞ্জাব, রাজস্থানে ভালো ফল করতে পারবে৷ এছাড়া ছত্তিশগড়,মধ্যপ্রদেশ এমনকি কেরালাতেও কংগ্রেস আগের চেয়ে ভালো ফল করবে৷ তবে কেন্দ্রে একক সরকার গড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছোবে না৷ তখন বাইরের সমর্থন ছাড়া চলবে না৷ সামগ্রিক ছবিটা এখনো পর্যন্ত খুব স্পষ্ট নয়৷ কাজেই ছয়-দফা ভোটের পর কংগ্রেসকে মাঝখানে রেখে বা বাইরে রেখে আঞ্চলিক দলগুলির মহাজোটের সম্ভাবনাই ক্রমশ উজ্জ্বল মনে হচ্ছে৷ অন্তত আমি তাই মনে করি৷''

মহাজোট কি দেশকে একটা স্থিতিশীল সরকার দিতে পারবে? কারণ আঞ্চলিক দলগুলির মতাদর্শের ভিন্নমুখীনতা বারংবার উঠে এসেছে এবং আসছে৷ ‘‘সেক্ষেত্রে সরকার চালাতে দলীয় স্বার্থের সংঘাত দেখা দিতে পারে৷ সহমতে আসা কঠিন হয়ে পড়বে৷ সেই রকম পরিস্থিতিতে বিজেপি সেই সুযোগ নেবে৷ কংগ্রেস যদি ১৪০ কিংবা ১২০-১৩০এর মতো আসন পায় এবং মহাজোট যদি দেড়শ'র মতো আসন পায়, তাহলে সরকার গঠন করতে অসুবিধা হবে না৷ তার পরে কী হবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না,'' বললেন অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায়৷ 

   

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন