দিনে দুই দফা বাড়ছে পেঁয়াজের দাম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

দিনে দুই দফা বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে চলছে ভয়াবহ অস্থিরতা৷ প্রতিদিনই দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে৷ এমনকি দিনেই কয়েক দফা বেড়ে যাচ্ছে৷ খুচরা দোকানদারদের অনেকে তাই পণ্যটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন৷

ঠিক এক বছর আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩৫-৪০ টাকা৷ আর আমদানিকৃতটি বিক্রি হয়েছে ২৫-৩৫ টাকায়৷ সেখানে শনিবার ঢাকায় বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা কেজিতে, দেশি ২২০-২৩০ টাকায়৷ এই পরিসংখ্যান সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, টিসিবির৷ তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে এর চেয়েও বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে রাজধানীতে৷

পেঁয়াজের দাম বাড়ছে প্রতিদিন, যার সঙ্গে শুধু ক্রেতারাই নন, হিসাব করে উঠতে পারছেন না এমনকি খুচরা বিক্রেতারাও৷ তাই দিনের চাহিদা মিটাতে সকালে ও বিকালে অল্প পেঁয়াজ আনছেন তারা৷ তাতেও দামের পার্থক্য হওয়ায় পড়ছেন বিপাকে৷ শুক্রাবাদ বাজারের আসলাম হোসেন দেশি-বিদেশি সব ধরনের পেঁয়াজ শনিবার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন৷ তার দোকানে তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে আমাদনি করা এবং দেশি সব ধরনের পেঁয়াজই আছে৷ তবে সেগুলোর দামের কোন তফাৎ নেই৷

আসলামের দাবি, তিনি এই পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে আছেন৷ কারণ একদিনেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম দুই দফা করে বাড়ছে৷ তিনি জানান, ‘‘শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি ২০০ টাকা কোজি দরে পেঁয়াজ কিনে আনি৷ বিক্রি করি ২২০ টাকা দরে৷ কিন্তু বিকেলে আবার সেই পেঁয়াজ আনতে হয়েছে ২৩০ টাকা কেজিতে৷ বিকেলে যখন তা ২৫০ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করতে যাই তখন ক্রেতারা তা মানতে চান না৷ আমাদের হয়েছে বিপদ৷''

অডিও শুনুন 01:01

মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে: আব্দুল আলিম

এই কারণে তার পাশের দোকানদার আব্দুল আলিম পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘পেঁয়াজের বাজার দ্রুত আপডাউন করছে৷ তাই ভরসা পাচ্ছি না৷ মানুষের সাথে কথা রাখতে পারছি না৷ আবার আজ বেশি দামে কিনে আনব, কাল যদি কমে যায় তাহলেতো আমাদের লোকসান হবে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘পেঁয়াজ যে আনবো কতটুকু আনবো তাওতো বুঝতে পারছি না৷ কারণ মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে৷ আগে যারা এক কেজি কিনতেন তারা এখন ২৫০ গ্রামের বেশি কিনছেন না৷ এখন ১০-২০ টাকার বেশি পেঁয়াজ খুব কম মানুষই কিনেন৷''

ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাঠালবাগান বাজারে খোঁজ নিয়েও একই চিত্র পাওয়া গেছে৷ কাঠালবাগানের আকাশ হাওলাদার মিন্টু পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না তিনদিন ধরে৷ তার কথা, ‘‘পেঁয়াজ বিক্রি এখন ঝামেলা৷ মানুষ এখন ১০টাকার বেশি পেঁয়াজ কিনে না৷ আর বাজার অস্থির৷ দামের কোনো ঠিকঠিকানা নাই৷ প্রতিদিনই দাম বাড়ছে৷ আবার হঠাৎ করে কমে গেলেতো আরেক বিপদ৷ তাই এখন আর পেঁয়াজ বেঁচি না৷ বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমি আর পেঁয়াজ বিক্রি করব না৷ আমাদের ব্যবসা হয় সামান্যই৷ যা ব্যবসা করার পাইকারি বিক্রেতারা করেন৷ আমরা কেন ফাও ঝামেলার মধ্যে যাবো৷''

অডিও শুনুন 00:28

আমরা কেন ফাও ঝামেলার মধ্যে যাবো: আকাশ হাওলাদার মিন্টু

মোহাম্মদপুরের নবিউল ইসলামের পেঁয়াজের দাম নিয়ে রীতিমত ঝগড়া করতে হয়েছে ক্রেতাদের সঙ্গে৷ তিনি বলেন, ‘‘এই পেঁয়াজের কারণে আমার বাধা কাস্টমার কয়েকজন ছুটে গেছেন৷ মনোমালিন্য হয়েছে৷ তাই পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছি৷''

এদিকে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ঢাকায় খুচরা পেঁয়াজের দাম একেক দোকানে একেক রকম৷ শনিবার খুচরা ২৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও কোনো দোকানে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে৷ কোথাও একই পেঁয়াজ ২১০ বা ২৩০ টাকায়ও পাওয়া গেছে৷ এর কারণ হিসেবে দোকানদার বলেন, ‘‘যে দোকানদার এক দিন আগে পেঁয়াজ কিনেছেন তিনি একটু কমে দিতে পারবেন৷ কিন্তু আজ যিনি কিনেছেন তাকে বেশি দামেই বেঁচতে হবে৷ কারণ সকাল বিকাল পেঁয়াজের দাম বাড়ছে৷''

পেঁয়াজ আসছে বিমানযোগে 

বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে মিয়ানমার ও তুরস্কের পেঁয়াজের প্রাধান্যই এখন বেশি৷ সেই সঙ্গে মিশর থেকে পেঁয়াজ আসবে বলে সবাই অপেক্ষায় আছে৷ এই পেঁয়াজ আসছে বিমানযোগে৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার নিজেই এক অনুষ্ঠানে ‘সুখবর' দিয়ে বলেন, ‘‘এখন পেঁয়াজ নিয়ে একটা সমস্যা চলছে৷ এই সমস্যা যাতে না থাকে সেজন্য কার্গো ভাড়া করে আমরা এখন পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি৷ কাল-পরশুর মধ্যে বিমানে পেঁয়াজ আসা শুরু হবে৷ এখন পেঁয়াজ বিমানেও উঠে গেছে, কাজেই আর চিন্তা নাই৷'' বাণিজ্যমন্ত্রনালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই পেঁয়াজ মঙ্গলবার এসে পৌঁছাবে৷

দায়ি আমদানিকারকরা?

জানা গেছে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিদেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির আমদানি মূল্য ৪২ থেকে ৬৮ টাকা৷ তারপরও খুচরা বাজারে কেন এই পাগলা ঘোড়া? এর জবাবে চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমদানিকারকরাই এর জন্য দায়ি৷ তারা সিন্ডিকেট করছে৷ আমরা চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের চিহ্নিত করেছি৷ সারাদেশে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন৷ কিন্তু সেটা হচ্ছে না৷ আর আমদানিকারক ও আড়তদাররা পুরো ব্যবসাটাকে পেপারলেস করে ফেলেছেন৷ তারা কোনো ডকুমেন্ট রাখছেন না৷ ফলে তাদের ধরাও কঠিন হয়ে পড়েছে৷''

এদিকে আমদানিকারক ও আড়তদাররা সবধরনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন দাম বাড়িয়ে৷ তারা স্টক করার কারণে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে গেছে৷ সেটিও পুষিয়ে নিচ্ছেন দাম বাড়িয়ে৷ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আইন অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে সরকার৷''

বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

এদিকে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন নামে একটি সামাজিক সংগঠন৷ তারা এই হরতাল সফল করতে মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে৷

গত ২৮ অক্টোবর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়৷ এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি৷ রপ্তানি বন্ধের আগের দিনও পেঁয়াজের কেজি ছিলো ৮০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়৷ ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের পর দুই, একদিন ৩০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে রান্নার এই উপকরণটি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন