দারিদ্র্য মোচনে আফ্রিকায় ‘সবুজ সোনা’ অ্যাভোকাডোর চাষ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 08.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফ্রিকা

দারিদ্র্য মোচনে আফ্রিকায় ‘সবুজ সোনা’ অ্যাভোকাডোর চাষ

লোভনীয় ফল অ্যাভোকাডোর চাহিদা পূরণে ফলন বাড়াচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ৷ অন্য অঞ্চলে এই ফল চাষে পরিবেশগত সমস্যা হলেও আফ্রিকার এক্ষেত্রে এগুচ্ছে ভিন্ন চাষ পদ্ধতিতে৷  

লোভনীয় ফল অ্যাভোকাডোর চাহিদা পূরণে ফলন বাড়াচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ৷ অন্য অঞ্চলে এই ফল চাষে পরিবেশগত সমস্যা হলেও আফ্রিকার এক্ষেত্রে এগুচ্ছে ভিন্ন চাষ পদ্ধতিতে৷  

ছোট পরিসরে চাষের কারণে আফ্রিকায় অ্যাভাকোডা চাষ পরিবেশগতভাবে অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি টেকসই

‘‘একটি অ্যাভোকাডো গাছের আয়ু প্রায় ৫০ বছর৷ উগান্ডার মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৬০ বছর৷ একটি অ্যাভোকাডো গাছ মানুষের পুরো জীবন উপকার করতে পারে৷’’ ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন বেকার সেনেজেন্ডো৷ সেনেজেন্ডো বৃহত্তম অ্যাভোকাডো ফার্ম পূর্ব উগান্ডার মায়ুগ জেলার এক হাজার হেক্টর জমির মুসুবি খামারে কাজ করেন৷ অ্যাভোকাডো খামারে কাজ করে তিনি তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করছেন বলেও জানান৷ অ্যাভোকাডো চাষ করে দারিদ্র্যকে দূরে রাখতে চান তিনি৷

বেড়ে চলা চাহিদার কারণে এই ফলে রপ্তানি বাজার বেশ আকর্ষণীয়৷ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু অ্যাভাকোডার চাহিদা বেড়েছে ৪০৬ শতাংশ৷ আফ্রিকাতেও অ্যাভোকাডো চাষ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে৷ আফ্রিকার কৃষকদের কাছে অ্যাভোকাডো এখন দারিদ্র মোচনের ফসল৷ ফলটি সেখানে তাই পরিচিতি পাচ্ছে সবুজ সোনা নামে৷ আগামী দশকে শীর্ষ রপ্তানিকারী দেশগুলোর  তালিকায় উঠে আসার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে নাইজেরিয়া ও উগান্ডা৷ কেনিয়া ইতোমধ্যেই রয়েছে শীর্ষ দশের মধ্যে৷

তবে অ্যাভোকাডোর বাণিজ্যিক চাষের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে৷ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে একারণে পানির স্বল্পতা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে বলে সংবাদে উঠে এসেছে৷ সেখানকার শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক মেক্সিকো ও চিলির বাণিজ্যে এর ছায় পড়তে শুরু করেছে৷ তবে এক্ষেত্রে আফ্রিকার অ্যাভাকোডা চাষীদের রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যত৷ ছোট আকারে এবং বৃষ্টির উপর নির্ভর করায় লাতিন আমেরিকার তুলনায় আফ্রিকায় অ্যাভাকোডা চাষ সুবিধাজনক এবং পরিবেশগতভাবে ক্ষতি কম হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও চাষীরা৷

বড় খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বাজারে কফির দাম পড়ে যাওয়ায় আফ্রিকার কৃষকদের আয় কমে গিয়েছিল৷ কৃষকদের কাছে তাই আশার আলো এখন অ্যাভাকোডা৷ এই প্রসঙ্গে নাইরোবির ওয়ার্ল্ড এগ্রোফরেস্ট্রি সেন্টারের বিজ্ঞানী স্যামি কারসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অ্যাভোকাডো ফলটি আসলে স্বর্গের একটি উপহার, কৃষকরা কফি চাষের বিকল্প হিসাবে অ্যাভোকাডো চাষ করতে পারেন৷’’

নাইজেরিয়ার দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, গত বছর নাইজেরিয়ার অ্যাভোকাডো সোসাইটির (এএসএন) সদস্যদের সাথে এক বৈঠকে নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলুসেগুন ওবাসানজো অ্যাভোকাডোকে নাইজেরিয়ার নতুন তেল’ বলে মন্তব্য করেছেন৷

অ্যাভোকাডো ফলাতে তেমন বেশি জলের প্রয়োজন হয় না৷ ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী এক কিলো অ্যাভোকাডো ফলাতে ২,০০০ বা ৫২৮ গ্যালন জলের প্রয়োজন হয়৷ তাছাড়া উগান্ডা এবং নাইজেরিয়ার, অ্যাভোকাডো খামারগুলোর বেশিরভাগই যেসব জায়গায় বৃষ্টি হয় সেসব অঞ্চলে৷

নাইজেরিয়ার অ্যাভোকাডো সোসাইটির বুনমি নিজের জমিতে অ্যাভোকাডো চাষ করছেন৷ আগামীতে ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যে নিজের ফলানো অ্যাভোকাডো রপ্তানি করার আশা করছেন তিনি৷

মারী সিনা /এনএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন