দল পরিচিতি: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম) | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.04.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

দল পরিচিতি: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম)

১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা সিপিআই বিভক্ত হয়ে সিপিআইএম-এর প্রতিষ্ঠা৷

default

দলের নেতা প্রকাশ কারাত

মতাদর্শগত বিরোধের জায়গা থেকে ভাঙন হয়েছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে৷ বিরোধটা মূলত ছিল কট্টরপন্থা বনাম মধ্যপন্থা এবং কমিউনিজমের সোভিয়েত লাইন বনাম চীনা লাইনের৷ ৬০-এর দশকেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সংস্কারপন্থী মনোভাব নিয়ে আপত্তি তুলেছিল৷ অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন ভারতের নবগঠিত কংগ্রেস সরকার ছিল সোভিয়েত ঘেঁষা৷ ফলে চীন-ভারত সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করেছিল৷ পরিণতিতে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ৷ ভারতের কমিউনিস্টদের এক পক্ষ সেসময় সরকারকেই সমর্থন করেছিল৷ অন্যপক্ষ ছিল চীনপন্থী৷

১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি দুভাগ হল৷ সোভিয়েতপন্থী সিপিআই-এর থেকে আলাদা হয়ে গেল চীনপন্থী সিপিআই এম৷ পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিপিআই নেতা, জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে চলে গেলেন সেই নতুন দলে৷ ১৯৬৭ সালে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হল৷ পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরল বিধানসভায় প্রধান শক্তি হল সিপিআইএম৷ কেরলে ই এম এস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বে বাম সরকার গঠিত হল৷ পশ্চিমবঙ্গে বাংলা কংগ্রেসের নেতা অজয় মুখোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করে গঠিত হল যুক্তফ্রন্ট সরকার, যার পিছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিপিএম৷ কিন্তু সেই বছরই কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে ভেঙে দেওয়া হল সেই প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার৷

১৯৬৭ সালেই হল নকশালবাড়ি কৃষক বিদ্রোহ৷ কট্টরপন্থা এবং সংস্কারপন্থার বিভেদের জেরে আবার ভাঙন ধরল কমিউনিস্টদের মধ্যে৷ ১৯৬৮তে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কট্টরপন্থীরা, যারা মনে করছিলেন সংসদীয় রাজনীতি নয়, শ্রেণীসংগ্রামই একমাত্র পথ৷১৯৬৯ সালে নতুন করে নির্বাচন হল পশ্চিমবঙ্গে৷ আবারও সিপিএম-ই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে ফিরল৷ সিপিআই এবং বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে হাতমিলিয়ে গঠিত হল দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার৷ কিন্তু সিপিআই এবং বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় সেই সরকারকেও ফেলে দিল কংগ্রেস৷ জারি হল রাষ্ট্রপতির শাসন৷

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভোট হল দেশজুড়ে৷ ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় এল কংগ্রেস৷ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটেও গঠিত হল কংগ্রেস সরকার৷ পরের বছরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেন ইন্দিরা গান্ধী৷ জরুরি অবস্থার শেষে, ১৯৭৭ সালের বিধানসভা ভোটে হার হল কংগ্রেসের৷ পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-এর নেতৃত্বে ক্ষমতায় এল বামফ্রন্ট৷ মুখ্যমন্ত্রী হলেন জ্যোতি বসু৷ ১৯৭৭ থেকে ২০০৯, টানা ৩২ বছর পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-এর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় বহাল৷ ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রে তৃতীয় ফ্রন্টের সরকার গড়ার সময় প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে জ্যোতি বসুর নাম উঠে এসেছিল৷ কিন্তু সরকারে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিপিএম পলিটব্যুরো৷ যে সিদ্ধান্তকে জ্যোতি বসু চিহ্নিত করেন ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে৷

২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি-কে দূরে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়ার স্বার্থে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউ পি এ জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন জোগায় সিপিএম তথা বামফ্রন্ট৷ কিন্তু মার্কিন পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে সেই সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নেয়৷ ২০০৯ লোকসভা ভোটে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে, বিজেপি-কে দূরে রেখে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়তে উদ্যোগী হয়েছে সিপিএম৷ তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারের মূল কথা, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার, বাজারমুখী নয়, সমাজমুখী অর্থনীতি এবং মার্কিন প্রভাবমুক্ত বিদেশ নীতি৷

Buddhadev Bhattacharya, Ministerpräsident von Westbengalen (Indien)

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

নেতা পরিচিতি: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

জন্ম ১ মার্চ, ১৯৪৪, উত্তর কলকাতায়৷ পারিবারিক সূত্রে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভ্রাতুস্পুত্র৷

শিক্ষা শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে, তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে৷

১৯৬৪ সালে সিপিআই-এম দলের প্রাথমিক সদস্য হন৷

সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন খাদ্য আন্দোলনে, ৬৮ সালের ভিয়েতনাম বিক্ষোভে৷

সিপিআই-এমের ছাত্র-যুব সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইউথ ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন৷

জরুরি অবস্থার শেষে, ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের জন্য রাজ্য বিধানসভায় নির্বাচিত হন৷ সেবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এল৷ সাহিত্য ও সিনেমাপ্রেমী বুদ্ধদেব রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন৷

১৯৮২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাশীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে যান বুদ্ধদেব৷ ১৯৮৭ সালে নির্বাচন কেন্দ্র বদলে চলে যান যাদবপুরে৷ এখনও যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রেরই নির্বাচিত বিধায়ক তিনি৷

১৯৯৩ সালে, তৎ কালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন বুদ্ধদেব৷ বলেছিলেন চোরেদের মন্ত্রিসভায় থাকব না৷ দু বছর পরই অবশ্য ফিরে আসেন৷

১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে পঞ্চম বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তথ্য - সংস্কৃতির সঙ্গে স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান বুদ্ধদেব৷ ওই সময় থেকেই তাঁকে ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল৷

২০০০ সালে জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হন পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷দায়িত্বে এসেই শিল্পায়নে উদ্যোগী হন বুদ্ধদেব৷ জোর দেন তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি নির্ভর শিল্পে. ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তি বদলাতে সফল হন৷ দেশি-বিদেশি লগ্নি আসতে শুরু করে৷


মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পভাবনার সুফল পাওয়া যায় ভোটবাক্সে৷ ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩৫টিতেই জিতে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে তাঁর দল৷

কিন্তু জনমতকে অগ্রাহ্য করে, বিরোধীদের এমনকি বামফ্রন্ট শরিকদেরও অগ্রাহ্য করে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাশুল দিতে হচ্ছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে৷ নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাব প্রকল্প বাতিল করতে হয়েছে৷ সিঙ্গুরের টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে গেছে গুজরাটে৷

সরকার প্রধান হিসেবে এখন বামফ্রন্টকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অনেকটাই বুদ্ধদেবের কাঁধে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন