দলে বিদ্রোহ, অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত | বিশ্ব | DW | 24.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়া

দলে বিদ্রোহ, অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্যদের সপ্তাহব্যাপী বিদ্রোহে পদত্যাগে বাধ্য হলেন ম্যালকম টার্নবুল৷ নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন ট্রেজারার স্কট মরিসন৷

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বলা হয় ট্রেজারি৷ তবে ট্রেজারার মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই পালন করেন৷ মন্ত্রিসভায় আলাদা করে অর্থ মন্ত্রণালয় থাকলেও অর্থমন্ত্রী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেজারারের ডেপুটি হিসেবেই কাজ করেন৷

লিবারেল পার্টির অধিকাংশ পার্লামেন্টারিয়ান শুক্রবার ম্যালকমের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দেন৷ একই সাথে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনও করেছে দেশটি৷

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটনকে ৪৫-৪০ ভোটে হারিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ট্রেজারার স্কট মরিসন৷ গত ১১ বছরে মরিসন হবেন অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী৷

 

টার্নবুলকে উৎখাতের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিভক্ত লিবারেল পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন মরিসন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্থিতিশীলতা, ঐক্য এবং জনগণের আশা-ভরসা ফিরিয়ে আনবো৷ আমরা আপনাদের পাশে আছি, এটা মূল কথা৷''

কে এই মরিসন?

১৯৬৮ সালে সিডনির এক শহরতলীতে জন্ম মরিসনের৷ ২০০৭ সালে পার্লামেন্টে আসার আগে পর্যটনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি৷ লিবারেল সরকারের বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি৷ ২০১৩-১৪ সালে অভিবাসন ও সীমান্ত সুরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কিত অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন করেছেন তিনি৷

সিডনির ম্যাকোয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি গবেষক গ্লেন কেফোর্ডের মতে, মরিসনের অধীনে আরো বেশি রক্ষণশীল নীতির দিকে ধাবিত হবে অস্ট্রেলিয়া৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘মরিসন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খুবই রক্ষণশীল এবং ধর্ম নিয়েও তাঁর চিন্তাভাবনা কঠোর৷ গত বছরের সমকামী বিয়ের প্রস্তাবে তিনি ‘না' ভোট দিয়েছিলেন৷''

অবশ্য ২০১৯ সালের মে মাসে জাতীয় নির্বাচনে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে হলে তাঁকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরোতে হবে বলেও মনে করেন কেফোর্ড৷ তাঁর মতে, ‘‘মেয়াদের মাঝামাঝি এসে নেতৃত্বের বদলকে স্বাভাবিকভাবে নেননি অস্ট্রেলিয়ার ভোটাররা৷ তাঁরা এই পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না৷''

কেফোর্ড বলছেন, ‘‘ইতিহাস বলে, পরবর্তী নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, সরকারে ফিরে আসা তাঁদের জন্য বেশ কঠিনই হবে৷''

অবসরে টার্নবুল

ভোটের পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডুটন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি মরিসনকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন৷ তিনি বলেন, ‘‘স্কট মরিসনের প্রতি আমার সম্পূর্ণ আনুগত্য থাকবে৷ পরবর্তী নির্বাচনে বিল শর্টেনকে (লেবার পার্টির নেতা) হারানো এবং আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে৷''

টার্নবুলকে সরিয়ে দলের নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে ডুটনের প্রয়োজন ছিল ৪৩টি স্বাক্ষর৷ ডুটন সেটি করতে সমর্থ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় টানা চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজের দলের সদস্যদের কাছেই ক্ষমতা হারালেন টার্নবুল৷

ডুটনের ওপর ক্ষুব্ধ টার্নবুল বলছেন, ‘‘অনেক অস্ট্রেলিয়ানই যা হচ্ছে তা দেখে অবিশ্বাষে মাথা নাড়ছেন৷'' ডুটনের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘পাগলামি' এবং ‘প্রতিহিংসামূলক' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি৷

এর আগে মঙ্গলবারও টার্নবুলকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সে দফা রুদ্ধদ্বার ভোটে ৪৮-৩৫ ভোটে রক্ষা পান তিনি৷ তবে এর পরের কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী টার্নবুলের অপেক্ষাকৃত উদারপন্থি নীতির বিরোধিতা করে তাঁর পক্ষ ত্যাগ করেছেন৷

অর্থমন্ত্রী ম্যাথিয়াস কোরমানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যও টার্নবুলের নেতৃত্বের বিরোধিতা করে পদত্যাগও করেছেন৷

প্রধানমন্ত্রীত্ব যে সংকটে বৃহস্পতিবারই তা বুঝতে পেরেছিলেন টার্নবুল৷ সেদিনই তিনি ঘোষণা দেন, নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি আর অংশ নেবেন না, এমনকি পার্লামেন্টেও আর থাকবেন না৷

পরে শুক্রবার বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুতই রাজনীতি থেকেও অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সদ্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী৷

এডিকে/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন