দলের অঙ্গ সংগঠন থাকবে কি না, একটি অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা | আলাপ | DW | 30.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

দলের অঙ্গ সংগঠন থাকবে কি না, একটি অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা

বাংলাদেশের পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাই এডহক ভিত্তিক৷ এক সময় ‘পঞ্চ বার্ষিক' পরিকল্পনার কথা শোনা যেত৷এখন শোনা যায় ‘রূপকল্প'র গল্প৷বাস্তবে যখন যে সমস্যা সামনে আসে, তখন সেটা আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক হয়৷

এখন আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক চলছে ‘হেলেনা জাহাঙ্গীর'কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন নিয়ে৷যেমন একটি অপকর্মের পরে  আলোচনায় আসে ছাত্র সংগঠনগুলো৷ আলোচনায় আসে ‘অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ' ছাত্র রাজনীতি থাকবে, কি থাকবে না৷ঘটনার মূলে প্রবেশ করি না৷এখন হেলেনা ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আলোচনা চলছে হেলেনা জাহাঙ্গীর প্রসঙ্গে৷তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ‘চাকুরীজীবী লীগ' গঠন করেছেন৷ যার পরিপ্রেক্ষিতে হইচই৷ এসেছে দল থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত৷প্রশ্ন এসেছে, আওয়ামী লীগের এত অঙ্গ সংগঠন থাকার দরকার আছে কি না? রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন থাকার দরকার আছে কি না? তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে,  আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যা আসলে কত? 

এই প্রশ্নের উত্তরের সঠিক কোনো সংখ্যা কারও কাছে আছে বলে মনে হয় না৷যতদূর জানা যায়, গত ১০-১২ বছরের ক্ষমতার আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যা শতাধিক৷

 এখন সবাই আওয়ামী লীগ করেন এবং সব মানুষের স্থান আওয়ামী লীগ ও তার স্বীকৃত সাতটি অঙ্গ সংগঠনে দেওয়ার সুযোগ নেই৷ফলে যে যেভাবে পেরেছে ‘শিশু লীগ' ‘ওলামা লীগ' ‘প্রজন্ম লীগ' তৈরি করে নিয়েছে৷বছরের পর বছর ধরে তারা দাপটের সঙ্গে ‘আওয়ামী লীগ' করছে৷

তাহলে হঠাৎ করে হেলেনা জাহাঙ্গীর ‘চাকুরিজীবী লীগ' করলেন আর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেন? নেপথ্যের কারণ কী?

হেলেনা জাহাঙ্গীর গত দশ বারো বছরে ইর্ষণীয় পরিমান অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন৷ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির মন্ত্রী-নেতাদের প্রায় সবার সঙ্গে তার সখ্যতা৷স্থান পেয়েছেন অগণিত সংখ্যার আলোচিত ‘উপকমিটি'তেও তার দাপটে অস্থির থাকেন অন্য হাইব্রিড ও ত্যাগী নেতাকর্মীরাও৷'চাকুরীজীবী লীগ' করার পর তার প্রতিপক্ষ একটা সুযোগ পেয়েছেন৷সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে দল থেকে বের করে দিতে সক্ষম হচ্ছেন৷ যদিও অঙ্গ সংগঠন বিষয়ে আওয়ামী লীগ তার অবস্থান পরিস্কার করছে বলে আভাস দেওয়া হচ্ছে৷বাস্তবে বিষয়টি সম্ভবত তেমন নয়৷শতাধিক অঙ্গ সংগঠন গড়ে তোলা ‘নেতাদের' বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বা হবে, বিষয়টি তেমনও নয়৷'এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই' এমন ঘোষণা ছাড়া বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম৷ স্মরণ করা যেতে পারে ‘আওয়ামী ওলামা লীগ'র প্রসঙ্গ৷আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা বহুবার বলেছেন ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু তাতে ওলামা লীগের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হয়নি৷আওয়ামী লীগের ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে তারা সভা সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে৷কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি৷

গোলাম মোর্তোজা, সাংবাদিক

গোলাম মোর্তোজা, সাংবাদিক

আসলে মূল সমস্যা শতাধিক অঙ্গ সংগঠন তৈরি হয়ে যাওয়া নয়৷ মূল সমস্যা এ ধরনের অঙ্গ সংগঠন কেন তৈরি হয়, তার কারণ বিশ্লেষণ না করা৷ আর কারণ বিশ্লেষণ করা বর্তমান ধারার রাজনীতিতে সম্ভব নয়৷ কারণ বর্তমানে রাজনীতিটাই ঠিকমত চলছে না৷ বাংলাদেশের মত কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরেও গণতান্ত্রের চর্চা নেই৷ অতীতে ছিল এখন নেই,তেমনও নয়৷ তবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক  দলটি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হতো৷ অন্যদের মতামত দেওয়ার একটা সুযোগ ছিল৷ যা এখন আর নেই৷একক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসন নির্ভর দল হয়ে যাওয়ার কারণে পরিক্ষিত নেতাদেরও দলে কোনো প্রভাব নেই৷তারা সব দেখেন, কিছু বলতে পারেন না৷ বলতে পারেন না মানে, বললে কাজ হয় না বলে তারা কিছু বলেন না৷ এই সুযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীর বা শাহেদরা দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন৷ এদের দু'একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, আইওয়াশ ছাড়া আর কিছু নয়৷

একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে লেখা শেষ করি৷

আওয়ামী লীগের নাটোর জেলা সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস৷ তিনি আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত প্রবীণ নেতা৷ তিনি ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করে বলেছেন, তিনি নাটোরে থাকতে পারেন না, নাটোরে যেতে পারেন৷ দলের সভাপতি হয়েও তিনি নাটোর ছাড়া৷ তাকে নাটোর ছাড়া করেছে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল৷ কয়েকদিন আগে ১২ কোটি টাকায় স্ত্রীর নামে কানাডায় বাড়ি কেনা সংবাদে আলোচনায় এসেছিলেন৷ তার এই অর্থের উৎস-পাচার-বাড়ি কেনার অভিযোগ কোনো কিছুরই তদন্ত হয়নি৷ এটা শুধুমাত্র ঘটনা নয়,নয় বিচ্ছিন্ন ঘটনাও৷ এই ধারাতেই চলছে আওয়ামী লীগ৷ রাজনীতির ধারা যদি এমন হয়, তবে এমন বিচিত্র অঙ্গ সংগঠন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়৷

আইন করে যদি এসব অঙ্গ সংগঠন নিষিদ্ধও করা হয়, তাতেও সুফল মিলবে না৷ যদি না রাজনীতি সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়৷ রাজনীতি সঠিক ধারায় ফেরাতে হলে নির্বাচন দিনে ও ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ থাকতে হবে৷ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হলে শিমুলদের চেয়ে কুদ্দুসদের গুরুত্ব বাড়বে৷ হেলেনা জাহাঙ্গীরদের কদর থাকবে না৷বন্ধ হবে অঙ্গ সংগঠন গড়ে তোলার উৎসবও৷

সুতরাং রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন থাকবে কি থাকবে না, এটা ডিম আগে না মুরগি আগের মত অপ্রাঙ্গিক আলোচনা৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়