দলিত ইস্যুতে বিজেপিনেতারাও বিজেপির বিরুদ্ধে! | বিশ্ব | DW | 04.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

দলিত ইস্যুতে বিজেপিনেতারাও বিজেপির বিরুদ্ধে!

ভারতে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের ওপর অত্যাচার বেড়েছে৷ তবে এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলিতরা৷ বিক্ষোভ হয়েছে দেশজুড়ে৷ তবে লক্ষ্য করার বিষয় এই ইস্যুতে কয়েকজন বিজেপি নেতাও আছেন দলিতদের পাশে৷

দেশে দলিত ইস্যুতে সহিংস বিক্ষোভ সমাবেশের জেরে চতুর্দিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার৷ প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই সরকার ও শাসক দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় মরিয়া কংগ্রেস৷ সুযোগ হাতছাড়া করার কোনো অবকাশ না দিয়ে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত৷

অডিও শুনুন 02:35
এখন লাইভ
02:35 মিনিট

‘সরকার নিজেদের কৃতকর্মের জন্যই ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে’

ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরেও সরকারের নীতি ও দলিত‌বিরোধী কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছেন একাধিক নেতা-‌নেত্রী৷ উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সাবিত্রীভাই ফুলে প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন৷ দলিতের স্বার্থ রক্ষায় জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি৷ দলের নেতা, সাংসদ তথা তিন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশোবন্ত সিংহ, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং অরুণ শৌরি একধাপ এগিয়ে কার্যত মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ ইতিমধ্যেই এই তিন নেতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিবৃতিও দিয়েছেন৷ তাতে তাঁরা স্পষ্টতই মোদী সরকারকে উৎখাতের কথা বলেছেন৷ ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে অবশ্য ইতিমধ্যে এই ‘‌বিদ্রোহী'‌ নেতাদের দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে দল৷

বুঝতে অসুবিধা নেই, এই মুহুর্তে ঘরে-‌বাইরে প্রবল চাপে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও তার শীর্ষ নেতারা৷ দলিত-‌হিংসার জেরে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৭ রাজ্যে মোট ৯জন প্রাণ হারিয়েছেন৷ বহু মানুষ জখম৷ কয়েকশ' কোটি টাকার সম্পত্তি জ্বলেপুড়ে ছাই৷ বিষয়টি আচমকা ঘটেছে, এমন নয়৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘‌‘‌গত ৪ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের দলিত‌বিরোধী মানসিকতার কারণে দলিতের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটে চলেছিল৷ ফলে, সরকারের বিরুদ্ধে দলিত সম্প্রদায়ের ক্ষোভ, আক্রোশ জমা হচ্ছিল৷ ভারত বনধকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে হিংসার ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ৷'‌'

প্রসঙ্গত, ভারতে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি আইন অনুযায়ী, দেশের যে কোনো প্রান্তে কোনও  অনগ্রসর (‌দলিত)‌ নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেইঅভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে হতো পুলিশকে৷ অভিযুক্ত ব্যক্তি যে-‌ই হোন না কেন, দলিত নিপীড়নে অভিযুক্ত হলে আর রেহাই নিলত না৷ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই গ্রেপ্তারি নিয়ে নানা সময় নানা প্রশ্ন উঠলেও আইন অনুযায়ী তা-‌ই করে এসেছে পুলিশ৷ বহু ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ সম্প্রতি (‌২০ মার্চ)‌ একটি মামলার রায় ঘোষণা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ‘‌তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি'‌ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে৷ সরকারি কর্মী, আমলাদের গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

তারপর থেকে যাবতীয় বিতন্ডা, অসন্তোষ এবং হিংসাত্মক প্রতিবাদ এই রায়কে কেন্দ্র করেই৷ বিরোধীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে উদাসীন থেকে পরোক্ষভাবে তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি আইনটিকে লঘু করতে সাহায্য করেছে মোদী সরকার৷ কারণ, সরকারের অ্যাটর্ণি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আদালতে হাজির ছিলেন না৷ 

অডিও শুনুন 02:10
এখন লাইভ
02:10 মিনিট

‘দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ইদানীং বেড়েছে’

সংসদে দলিত উৎপীড়নের প্রতিবাদে বরাবর সোচ্চার হন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম৷ তাঁর কথায়, ‘‌‘‌ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বের সরকার তাদের কৃতকর্মের জন্যই ঘরে-‌বাইরে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে৷ কারণ, প্রথমত, বিজেপি'‌র মূল রাজনীতিই হলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ পরিবারের কঠোর হিন্দুত্বের রাজনীতি৷ মনুবাদের প্রচার এবং দলিতবিরোধী অত্যাচার৷ দলিতদের কখনোই নিজেদের বলে মনে না করলেও নেহাত রাজনৈতিক স্বার্থে, ক্ষমতায় আসার জন্য দলিত সম্প্রদায়ের অনেককে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করেছিল তারা৷ কিন্তু, আরএএসের সর্বেসর্বা মোহন ভাগবতের মতো নেতা এখনও দলিতদের সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার জন্য সওয়াল করে যাচ্ছেন৷ ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দেশজুড়ে কী হচ্ছে?‌ দলিত বলে কোথাও উলঙ্গ করে হাঁটানো৷

নেতা-‌মন্ত্রীরা দলিতদের ‘‌কুকুরের বাচ্চা'‌ বলে সম্বোধন করছেন৷ পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে৷ এতকিছুর পরে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট করলেন না?‌ এখন যখন দেশ উত্তাল, তখন চাপে পড়ে দু-‌সপ্তাহ পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউই এই বিষয়ে মুখ খোলেননি৷ এখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখেই তাঁরা কার্যত পিঠ বাঁচাতে ময়দানে নেমেছেন৷'‌'‌

সমস্ত বিষয়টির জন্য বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দলিত-‌বিরোধী মানসিকতাকেই দায়ী করেছে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, এনসিপি, এনসি, আরজেডি, ডিএমকে‌সহ প্রায় সব বিরোধী দল৷

যদিও শাসক দল বিজেপি'‌র একাধিক মন্ত্রী বলছেন, দলিতের এই ক্ষোভ সরকারের বিরুদ্ধে নয়৷ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে৷ তবে, এই মামলায় সরকারের অংশ না নেওয়া এবং রায়ের পর দু-‌সপ্তাহ ধরে আদালতে পুনর্বিবেচনার আর্জি না জানানোর জন্য সমালোচিত হচ্ছেন আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ৷ এখনও পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য বক্তব্য পেশ করতে পারেননি তিনি৷

বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে বাহরাইচ কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ সাবিত্রীভাই ফুলে ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘‌‘যদি কেউ ‌দলিত নেতা তথা ভারতের সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে অপমান করেন, তাহলে তিনিই দলিতবিরোধী।'‌'‌ আম্বেদকরের নামের সঙ্গে ‘‌রাম'‌ শব্দটি জুড়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার৷

এই নিয়েও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দলিত নেত্রীর৷ লখনউয়ের ‘‌নমো বুদ্ধায় জনসেবা সমিতি'‌র মঞ্চ থেকে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি৷ সেইসঙ্গে আম্বেদকর, গৌতম বুদ্ধ এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কাশিরামের প্রশংসা করতে ভোলেননি৷ নিশানায় ছিল, উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার এবং কেন্দ্রের মোদী সরকার৷ মঞ্চে মহারাষ্ট্র থেকে আসা গায়িকা ‘‌মনুবাদীদের মুখে কালি'‌ গান গেয়ে আসর জমিয়ে দিয়েছিলেন৷ সেইসঙ্গে দু-‌আড়াই দশক আগের দলিত আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন৷

এদিকে, মহারাষ্ট্রের দলিত নেতা (‌রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রণেতা)‌ তথা কেন্দ্রীয় ন্যায়বিচার ও সশক্তিকরণ দপ্তরের রাষ্টমন্ত্রী রামদাস বন্ধু আঠাওলে ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‌‘‌সন্দেহ নেই দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ‌ইদানিং বেড়েছে৷ এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিলো৷ এখন আদালতের রায়ের পর তা সামনে এসে পড়েছে৷ রাজ্য সরকারগুলোর নিহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত৷ তবে, বিক্ষোভকারীদের যতটা না রাগ সরকারের ওপরে, অনেক বেশি রাগ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে৷ উসকানি জুগিয়েছে কংগ্রেস ও বসপা৷ এখন দলিত আইন সংশোধনের কথা ভাবতে হবে৷'‌'‌‌

এই অবস্থায় ‘‌ড্যামেজ কন্ট্রোল'‌ করতে ময়দানে একাই নেমেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ তাঁর কথায়, ‘‘‌দলিতের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ের সঙ্গে সর্বদা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়েছে বিজেপি৷ বিরোধীরা হিংসার আগুনে ঘি ‌ঢালছে৷ এতে দেশের সামগ্রিক ক্ষতি হচ্ছে৷'‌'‌ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের ৭টি রাজ্যে সহিংস বিক্ষোভ সংঘটিত করেছে দলিত সংগঠনগুলি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়