দলাই লামার অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 10.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত-চীন

দলাই লামার অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

ফাঁস হলো কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের চিঠি৷ যার জেরে দলাই লামার অনুষ্ঠান দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ধর্মশালায়৷ ভারত-চীন সম্পর্কে আবার ঢুকে গেল দলাই লামার নাম৷

বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না৷ কখনো সরাসরি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি৷ কখনো আবার তাঁকে ঘিরে জমে ওঠে সমস্যার মেঘ৷ সম্প্রতি দলাই লামাকে নিয়ে ঘিরে আবারো বিতর্কশুরু হয়েছে ভারতে৷ এবং স্বাভাবিকভাবেই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তা পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে৷

ঘটনার সূত্রপাত একটি চিঠিকে ঘিরে৷ ৬০ বছর হয়ে গেল চীন থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামা৷ আগামী ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল সেই উপলক্ষ্যে দু'টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দলাই লামার সংগঠন সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা সিটিএ৷ কথা ছিল রাজধানী দিল্লিতে বড় করে আয়োজন হবে সেই অনুষ্ঠানের৷ কিন্তু তারপরেই বিতর্ক দানা বাঁধে৷ দিনকয়েক আগে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের অফিসার বিজয় গোখলের একটি গোপন চিঠি ফাঁস হয়৷ যেখানে তিনি ক্যাবিনেট সচিব পি কে সিংহকে লিখেছেন, দলাই লামার অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে যেন কোনো অংশগ্রহণ না হয়৷ ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগসূত্র তৈরি করতে চায় না বিদেশমন্ত্রক৷ এরপরেই দ্রুত অনুষ্ঠানের স্থান বদলে ফেলা হয়৷ দিল্লির কর্মসূচি বাতিল করে সিটিএ পুরো অনুষ্ঠানটিই ধর্মশালায় স্থানান্তরিত করেছে৷ সেখানেই দলাই লামার বাসভবন৷ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন দলাই লামার ভারতে বসবাসের ৬০ বছর উদযাপন করা হবে – এমন কথাই ছিল৷ আর দ্বিতীয় দিন ‘থ্যাংক ইউ ইন্ডিয়া' বলে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হবে দলাই লামাকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য৷

প্রশ্ন হলো, কেন হঠাৎ এমন একটি সার্কুলার জারি করল বিদেশমন্ত্রক? কী করেই বা তা ফাঁস হয়ে গেল? বস্তুত, গত কয়েকবছর ধরে ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক মোটেই ভালো যাচ্ছে না৷ মূলত তিনটি অঞ্চলে ভারতীয় সেনার সঙ্গে চীনা সেনার উত্তেজনা লেগেই আছে৷ যার একটি অঞ্চল লাদাখের প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকা৷ পাহাড়ি যে এলাকায় চীন অযাচিতভাবে প্রবেশ করছে বলে ভারতের অনেক দিনের দাবি৷ অন্যদিকে অরুণাচলের একটি অংশেও ভৌগোলিক সীমান্ত নিয়ে দু'দেশের মধ্যে গোলোযোগ আছে৷ তৃতীয়ত, ভুটানের ডোকোলাম পাস৷ সম্প্রতি সেই পাসের অধিকার নিয়ে প্রায় যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছিল দু'দেশের মধ্যে৷ দু'দেশের সেনাদের হাতাহাতিও করতে দেখা যায়৷ সেই তখন থেকেই কূটনৈতিকভাবেও দু'দেশের সম্পর্ক বেশ খানিকটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়৷

ভিডিও দেখুন 00:58
এখন লাইভ
00:58 মিনিট

ভারত-চীন সম্পর্ক কি অবনতির পথে?

চীন এবং ভারত দু'দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি করতে থাকে৷ মনে করা হচ্ছে, ভারত সেই সমস্যায় ইতি টানতে চাইছে৷ সে কারণেই চীনের ‘শত্রু' দলাই লামার অনুষ্ঠানের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে৷ উল্লেখ্য, দলাই লামাকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ায় প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ চীন৷ বারংবার দলাই লামাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আর্জি জানিয়েছে চীন সরকার৷ কিন্তু ভারত বরাবরই বৌদ্ধ ধর্মগুরুকে উচ্চাসনে রেখেছে৷ এবং সম্মানজনকভাবে বসবাসের এবং নিজের কাজ চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে৷

আসলে গত কয়েক বছরে এশিয়ার রাজনীতিতে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে গিয়েছে৷ ভারতের প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে মালদ্বীপ পর্যন্ত চীন তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছে৷ বাংলাদেশের শেয়ার বাজারেও ঢুকে পড়েছে চীন৷ অভিযোগ, পাকিস্তানকেও অস্ত্র এবং কূটনৈতিক সাহায্য করে চীন৷ এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই বিতর্কিত৷ পাশাপাশি ভারত চাইছে, বিশ্বের রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে৷ যার জন্য এশিয়ার বাজার ধরা খুবই জরুরি৷ এবং সেখানে চীনের সঙ্গে তার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা৷ এর মধ্যে অ্যামেরিকা বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তানকে অনেকটাই কোণঠাসা করে দিয়েছে নতুন বছরের গোড়ায়৷ এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করতে চাইছে ভারত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে নতুন করে মিত্রতা স্থাপন করে ভারত পাকিস্তানকে আরো বেশি কোণঠাসা করতে চাইছে এবং চীনের বন্ধু দেশগুলোর বাজারে ঢুকতে চাইছে৷

বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এই কারণেই চীনের সঙ্গে সদ্ভাব তৈরির জন্য দলাই লামার অনুষ্ঠানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে ভারত৷ চীনকে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাদের ‘শত্রু'-কে ভারত খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না৷ ভারত সরকারের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, অনেক ভাবনা চিন্তা করেই ভারত এই পদক্ষেপ করেছে৷ বস্তুত আগামী এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাংহাই যাওয়ার কথা৷ তার আগে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি জরুরি৷

তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এই ঘটনাটিকে ভুল কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন৷ ললিত মানসিংহের মতো প্রাক্তন বিদেশ সচিবের মতে, সাধারণ একটি সার্কুলার ভারত-চিন রাজনৈতিক বিতর্ক বন্ধ করে দেবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই৷ চীন যদি এবার প্রশ্ন তোলে দলাই লামাকে এখনো কেন আশ্রয় দিচ্ছে ভারত, সরকারের কাছে তার কোনো উত্তর থাকবে না৷

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বিদেশমন্ত্রক ওই চিঠিটি ফাঁস করেছে৷ যাতে চিঠিটি নিয়ে আলোচনা হয়৷ তবে তাঁদের মতে, এভাবে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো করা যাবে না বলেই তাঁদের বিশ্বাস৷

চিঠিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ভারত সরকারও খানিক সংযত হয়েছে৷ একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দলাই লামাকে আগের মতোই শ্রদ্ধা করে ভারত৷ তাঁর ভারতে অবস্থান এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই৷ দলাই লামার অনুষ্ঠানেও সরকারের কোনো বাধা নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে৷ এখন দেখার, এই বিতর্কে চীন কোনো নতুন ইন্ধন জোগায় কিনা!

এসজি/ডিজি

বন্ধু, ভারত-চীন সম্পর্ক কি সত্যিই অবনতির পথে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন