দলগুলোর মধ্যে এবার ব্যবধান অনেক কমেছে | বিশ্ব | DW | 17.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

দলগুলোর মধ্যে এবার ব্যবধান অনেক কমেছে

বাংলাদেশে বসেই বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপের খুঁটিনাটি উঠে এলো তাঁর কথায়৷

ডয়চে ভেলে: এবার বিশ্বকাপটা কেমন হলো?

আমিনুল হক: আমার মনে হয়, রাশিয়া বিশ্বকাপটি অন্যান্য বিশ্বকাপের চেয়ে অনেক বেশি রোমাঞ্চকর ছিল৷ আমরা জানি যে, গতানুগতিকভাবে যাঁরা বিশ্বকাপের দাবিদার, যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, এমনকি জার্মানির মতো দল, যারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তারা আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে৷ জার্মানি তো প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে৷ স্বাগতিক হিসেবে রাশিয়া ভালো খেলেছে৷ আইসল্যান্ডের শেষটা ভালো না হলেও শুরুটা ভালো হয়েছে৷ পাশাপাশি বেলজিয়ামের অসাধারণ পারফরম্যান্স৷ এই দলটাকে তাদের গোল্ডেন ‘জেনারেশন বলা' হয়৷ ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে বাদ পড়েছে৷ ক্রোয়েশিয়ার মতো দল ফাইনালে উঠেছে৷ ফুটবলের এই যে পরিবর্তনের ধারা, সেটা ভালো লেগেছে৷ নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দেখতে বিশ্ববাসী আগ্রহভরে অপেক্ষা করেছে৷ যদিও ফ্রান্স আগেও চ্যাম্পিনয় হয়েছে৷ আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ থেকে ফুটবল নতুন কিছু পেয়েছে৷ এর অন্যতম হলো, আমরা জানি স্পেন, জার্মানি বা ব্রাজিল টিকিটাকা ফুটবল খেলে থাকে৷ তারা হয়ত বল ৭০ বা ৭৫ ভাগ সময় দখলে রেখেছে, কিন্তু যারা ২৫ বা ৩০ ভাগ সময় বল রেখেছে, তাদের অনেক দলও কিন্তু দিন শেষে জিতে গেছে৷ এবার কাউন্টার অ্যাটাকে কিন্তু প্রতিটি দলই সফলতা পেয়েছে৷

অডিও শুনুন 09:48

‘এবার কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিটি দলই সফলতা পেয়েছে’

এবারের বিশ্বকাপের কোন দিকটা আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে?

আয়োজন তো অবশ্যই৷ যে দেশেই এই আয়োজন হয়, ওই দেশের কালচার সেখানে থাকে৷ এবার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার যে বিষয়, সেটা হলো, দলগুলোর মধ্যে যে পার্থক্যটা, সেটা এবার অনেক কমে গেছে৷ আগে যেখানে একটি দলের মান ২০ হলে আরেকটি দলের মান ছিল ১৭ বা ১৮, এবার সেখানে আমাদের এশিয়ার দল বা আফ্রিকার দল, ল্যাটিন অ্যামেরিকার দল বা ইউরোপের দল কারো মধ্যেই পার্থক্য খুব বেশি ছিল না৷ এটা সর্বোচ্চ সাড়ে ১৯ বা ২০৷ বিশেষ করে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপান তো খুবই ভালো খেলেছে৷

এবার তো বেশ কিছু বড় দল আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে৷ বিশেষ করে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেন, এমনকি ব্রাজিলও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি৷ কেন এমন হলো?

এটা হয়কি সবগুলো দেশেরই বড় প্লেয়াররা বিশ্বের নামি-দামি ক্লাবে খেলে থাকেন৷ ফলে সেখান থেকে এসে দলের অন্য প্লেয়ারদের সঙ্গে অ্যাডজাষ্ট করে টিম কম্বিনেশনে কিছুটা সময় লাগে৷ আমরা জানি, জার্মানি সব সময় পাওয়ার ফুটবল খেলে, রোবটিক ফুটবল খেলে, তবে এখন কিন্তু তাদের খেলার ধরনও বদলে গেছে৷ দেখেন সবশেষ ম্যাচে আমাদের দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে কাউন্টার অ্যাটাকে জার্মানিকে গোল দিলো সেটা কিন্তু খুবই দৃষ্টিনন্দন৷ সারা বিশ্ববাসী এটা অনেকদিন মনে রাখবে৷ এখন খেলাটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। যেমন ধরেন আর্জেন্টিনার আগে যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার দরকার ছিল, সেটা কিন্তু তারা খেলতে পারেনি, যে কারণে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে কোচ সাম্পাওলিকে টিম কম্বিনেশন করতে হয়েছে৷ তাঁর কাছে তো এটা কল্পনাই করা যায় না৷ আবার ব্রাজিলের সব বিভাগেই ভালো করার কথা ছিল৷ যেহেতু খেলার ধরন বদলে গেছে, সবাই ডিফেন্স ঠিক রেখে অ্যাটাকে যাওয়ার চেষ্টা করেছে৷ সেখানে ব্রাজিলের ডিফেন্সে কিন্তু সমস্যা দেখা গেছে৷ ওদের ডিফেন্ডাররা উপরে উঠে গেলে আর নামতে পারেনি৷ স্পেন রাশিয়ার সঙ্গে ৭৫ ভাগ সময় বল দখলে রেখে খেলেছে৷ কিন্তু দিন শেষে রেজাল্ট নিতে পারেনি৷ ট্রাইব্রেকারে তারা হেরে গেছে৷  

কয়েকটি বড় দল সমর্থকদের হতাশ করলেও যাদের ছোট দল মনে করা হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অনেকে কিন্তু এবার চমকে দিয়েছে৷ বিশেষ করে এশিয়ার জাপান এবং দক্ষিণ  কোরিয়ার খেলা তো বিস্ময় জাগিয়েছে৷ এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন? দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য কি কমে আসছে?

অবশ্যই৷ আগেই তো বলছিলাম, এখন এশিয়া, আফ্রিকা বা ইউরোপ কারো সঙ্গে ব্যবধান অনেক বেশি না৷ সাড়ে ১৯ বা ২০৷ প্রত্যেকটি দেশই কিন্তু এখন ফুটবলের ধারাটা বদলে ফেলেছে৷ তারা অনেক বেশি ‘বৈজ্ঞানিক' ফুটবল খেলছে৷ আপনার যদি সামর্থ্য ভালো থাকে, তাহলে আপনি কিন্তু যে কোনো দলের সঙ্গে ফাইট করতে পারবেন৷ আমাদের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কিন্তু সেটা করে দেখিয়েছে৷ ইউরোপের দলগুলোর সঙ্গে তারা যেভাবে লড়াই করেছে তাতে কখনোই মনে হয়নি যে তারা আন্ডারডগ৷ বরং তাদের যে প্রফেশনাল ফুটবল সেটার উন্নতি হয়েছে অনেক৷ 

এবার এমন দু-তিনজন ফরোয়ার্ডের কথা বলুন, যাদের খেলা আপনাকে মুগ্ধ করেছে...

বেলজিয়ামের স্টাইকার হ্যাজার্ডের কথা বলতে পারেন৷ রাশিয়ার চেরিশেভ এবং গলভিন৷ বেলজিয়ামের লুকাকুর খেলা ভালো লেগেছে৷ আর এমবাপে তো অবশ্যই৷ তাঁর কথা বলতেই হবে৷

ডিফেন্সে এবার সেরা ছিলেন কারা? মধ্যমাঠে কার কার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আপনার নজর কেড়েছে?

মাঝমাঠে আমি একজনের কথাই বলবো, সেটা হল লুকা মদ্রিচ৷ সে বলতে গেলে একাই দলটাকে আজকে ফাইনালে তুলেছে৷ যদিও তার সঙ্গে রাকিটিচ আছে৷ তারপরও বিশেষভাবে মদ্রিচের কথা বলতেই হবে৷ আর ডিফেন্সে ইংল্যান্ডের স্টোনসের খেলা ভালো লেগেছে৷

সেরা গোলরক্ষকের দৌড়ে কাকে এগিয়ে রাখবেন এবং কেন ?

ফ্রান্সের লরিসকে আমি এগিয়ে রাখবো৷ বিশেষ করে কোয়াটার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে ও যে সেভগুলো করেছে সে কারণেই ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে পেরেছে৷ আর ট্রাইব্রেকারের কথা বললে ক্রোয়েশিয়ার সুবাসিচের কথা বলতেই হবে৷ সে-ও দারুণ খেলেছে৷

সব মিলিয়ে রাশিয়াকে কি আয়োজক হিসেবে সফল বলবেন? কোন জায়গায় সফল? ব্যর্থতাইবা কোথায় ছিল বলে মনে করেন?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আমি তাদের সব জায়গায় সফল বলবো৷ যদিও আমি সেখানে নেই, তারপরও তাদের কোনো ব্যর্থতা আমার চোখে পড়েনি৷ আমি তাদের সফলই বলবো্৷

ভিএআর-এর অন্তর্ভূক্তি আপনি কি চোখে দেখছেন? এটা কি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত কমাতে পেরেছে?

কিছুটা তো অবশ্যই পেরেছে৷ ভিএআর আসার কারণে কিন্তু রেফারিরা সমালোচনার উর্ধ্বে চলে গেছেন৷ যদিও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আছে৷ দেখেন, প্রথম রাউন্ডে যেভাবে ভিএআরের ব্যবহার হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে ভিএআরের ব্যবহার কিন্তু অনেকাংশেই কমে গেছে৷ 

অনেকে বলেছেন, ভিএআর কোনো কোনো ক্ষেত্রে খেলার গতিকে মন্থর করেছে৷ আপনি কি তাঁদের সঙ্গে একমত?

আমার মনে হয় না৷ কারণ, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত একটা দলকে যেভাবে এগিয়ে দিতে পারে, আবার একটা ভুল সিদ্ধান্ত একটা দলকে ডুবিয়ে দিতে পারে৷ ভিএআরের কারণে কিন্তু রেফারির কোনো কনফিউশন হলে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছেন৷ এখন সেটা কারো বিরুদ্ধে গেলে তারা তো লস করবেই৷ 

এবার তো অনেক বেশি পেনাল্টি হয়েছে? এমন হলো কেন?

ভিএআরের কারণেই হয়েছে৷ আবার ভিএআরের বাইরেও হয়েছে৷ দেখেন, আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচে মাসচেরানো যেভাবে একজন প্লেয়ারকে ডি-বক্সের মধ্যে ফেলে দিলো, সেটা মনে হচ্ছিলো প্যানাল্টি হবে৷ কিন্তু রেফারি সেটা দেননি৷ আবার ব্রাজিলের বিপক্ষে একজন হেড করতে গেলে তার হাতে বল লাগে৷ প্রকাশ্যে দেখা গেছে৷ কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেননি৷ কারণ তিনি বলেছেন, এটা সে ইচ্ছে করে লাগায়নি৷ আসলে মাঠে রেফারি কী ভাবছেন সেটার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করে৷

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল৷ এত বেশি দল কি বিশ্বকাপের আকর্ষণ বাড়াবে, নাকি আয়োজনটাকে বেশি দীর্ঘ এবং একঘেঁয়ে করে ফেলবে?

আমার মনে হয় একঘেঁয়ে করে ফেলবে৷ কারণ, ৩২টি দল অংশ নিলে কম্পিটিশনের যে লেভেলটা ছিল সেটা কমে যাবে৷ নতুন যারা আসবে, তাদের মধ্যে হয় উৎসাহটা বাড়বে৷ দেখেন ইংল্যান্ডের কাছে পানামা ৬ গোল খেলো৷ এই ধরনের ব্যবধান তখন বেড়ে যাবে৷ অনেক বেশি গোলের পার্থক্য দেখা যাবে৷ এতে আমার মনে হয়, সৌন্দর্য্য বাড়বে না, বরং নষ্ট করবে৷

সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন