দর্শকের চোখে ধুলা দিতে ওস্তাদ জার্মান চিত্রকর | অন্বেষণ | DW | 29.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

দর্শকের চোখে ধুলা দিতে ওস্তাদ জার্মান চিত্রকর

জাদুকর চোখে ধুলা দিলে যে আমোদ পাওয়া যায়, চিত্রকরও সে রকম এফেক্ট সৃষ্টি করলে কেমন লাগবে? এক রুশ-জার্মান শিল্পী কাগজের উপর এমন বিস্ময়কর বস্তু সৃষ্টি করছেন, নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলি প্রায় জীবন্ত মনে হবে৷

দেখলে একেবারে আসল মনে হলেও মারমুখী এক কাঁকড়াবিছে আসলে হাতে আঁকা৷ আসল হলে সেটির সামনে অসাবধান হওয়ার জো থাকতো না৷ জার্মানির উত্তর-পশ্চিমে মিন্ডেন শহরের শিল্পী স্টেফান পাবস্ট সেটি এঁকেছেন৷ চোখে ধুলা দিতে ওস্তাদ এই শিল্পী হাতে-আঁকা থ্রিডি মোটিফ দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেন৷ কখনো গায়িকা বিলি এলিশ কাগজ থেকে বেরিয়ে আসেন৷ কখনো বা ছোট আইফেল টাওয়ার ধরাছোঁয়ার মধ্যে চলে আসে৷ এমন ব্যতিক্রমী শৈলির ব্যাখ্যা দিয়ে স্টেফান বলেন, ‘‘একই জিনিস আঁকতে আঁকতে বড় একঘেয়ে লাগছিল৷ ভালো শিল্পীরা হাজার বার সে সব এঁকেছেন৷ তাই নতুন কিছু করার ইচ্ছা হলো, যা কেউ কখনও দেখেনি৷''

তার সর্বশেষ মোটিফের জন্য এই রুশ-জার্মান শিল্পীর প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছে৷ কেউ স্বেচ্ছায় কাছাকাছি যায় না বলে তিনি মোটিফ হিসেবে কাঁকড়াবিছে বেছে নিয়েছেন৷ যেমন কাগজের উপর বসা মাকড়সার মতো থ্রিডি ছবি আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ সেটা দেখলে মনে ভয় জাগে৷

ভিডিও দেখুন 04:15

দর্শকের চোখে ধুলা দেয়ায় ওস্তাদ তিনি

স্টেফান সেই কাজে বেশ সফল৷ তিনি নিজের সৃষ্টিকর্ম নিয়মিত ইউটিউবে প্রকাশ করেন৷ মারাত্মক ট্যারান্টুলা মাকড়সার ভিডিও এক কোটি বিশ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে৷ সেই ভিডিওতে নিজের মেয়ের প্রতিক্রিয়াই হয়তো বিশেষ আকর্ষণ৷ সে প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পারলেও তারপর সেটি ধরার উপক্রম করছে৷

ফটো অনুযায়ী পোর্ট্রেট আঁকাই স্টেফানের পেশা৷ সেই ছবি কখনো দ্বিমাত্রিক, কখনো বা ত্রিমাত্রিক৷ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ‘স্টার ওয়ার্স' ফ্যানকে তিনি ডার্থ ভেডারের একটি ছবি বিক্রি করেছেন৷ তার সৃষ্টি করা একটি সাপ দেখলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে৷ মনে হয় সেটি যেন ঘরের মধ্যে চলে বেড়াচ্ছে৷ তার পানির গ্লাসের ভি়ডিও ইউটিউবে বড় হিট হয়ে উঠেছে৷

বাস্তব অনুপাত বজায় রেখে এবং বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে স্টেফান পাবস্ট সৃষ্টির কর্মে মেতে ওঠেন৷ ত্রিমাত্রিক এফেক্ট পেতে হলে দর্শককে নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল বা দৃষ্টিকোণ বেছে নিতে হয়৷ স্টেফান বলেন, ‘‘যেমন লেগোর এই টুকরোগুলির ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত ভাবে আঁকলে মূল এফেক্ট পাওয়া যায়৷ তারপর দর্শকের দিকে মুখ করে সেটি রাখলে সঠিক অনুপাত ফুটে ওঠে৷''

খুঁটিনাটী বিষয়গুলি যতটা সম্ভব নিখুঁত হওয়া জরুরি৷ যেমন কাঁকড়াবিছের ছায়া পড়েছে এবং দাঁড়ায় ক্ষুদ্র রোম দেখা যায়৷ সবশেষে স্টেফান কাগজের একটা অংশ কেটে ফেলেন৷ স্টেফান পাবস্ট মনে করেন, ‘‘হাতে আঁকা বিষয়বস্তুর কাগজের সীমানা অতিক্রম করা থ্রিডি এফেক্টের জন্য অত্যন্ত জরুরি৷ দেখে মনে হয় বস্তুটি যেন কাগজের উপর নেই৷''

কাঁকড়াবিছের থ্রিডি এফেক্ট পেতে হলে নির্দিষ্ট এক জায়গা থেকে ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে সেটি দেখতে হবে৷ সেখান থেকে সরে গেলে সেই বিস্ময় আর থাকবে না৷ সম্ভব হলে স্টেফান প্রকৃতির মাঝে এমন এক এফেক্ট সৃষ্টি করতে চান৷ তিনি বড় আকারে কাজের স্বপ্ন দেখছেন৷ যেমন ভুট্টার খেতে থ্রিডি নক্সা সৃষ্টি করে উড়ন্ত ড্রোন থেকে সেই এফেক্টের ভিডিও তৈরি করা যায়৷

এখনো তিনি সেই মোটিফ গোপন রাখতে চান৷ তবে সেই সৃষ্টিকর্মও অবিকল বাস্তব মনে হবে বলে অনুমান করা যায়৷

ক্রিস্টিয়ান ভাইবেসান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়