1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
রাজনীতিদক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্বাচনের আগে কতটা ক্ষমতাশালী ডিপফেইক?

২ এপ্রিল ২০২৪

আসন্ন নির্বাচনের প্রচার ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার ভোটারদের দুভাগে বিভক্ত করছে৷ তার মধ্যেই সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তির সাহায্যে ছড়ানো ভুয়া ভিডিও বা ডিপফেইক৷

https://p.dw.com/p/4eM1H
ইউন সুক ইয়ুল
দক্ষিণ কোরিয়ায় সংসদ নির্বাচন শুরু হবে ১০ এপ্রিলছবি: KIM MIN-HEE/Reuters

দক্ষিণ কোরিয়ায় সংসদ নির্বাচন শুরু হবে ১০ এপ্রিল৷ কিন্তু তার দু'সপ্তাহ আগেই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও নির্বাচনি পদ্ধতিতে সাইবার হামলার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলে কর্তৃপক্ষ৷

২৮ মার্চ শুরু হয় প্রচারের কাজ৷ সেই দিনই দেশটির জাতীয় পুলিশ সংস্থা এনপিএ জানায় যে আসন্ন নির্বাচনের বৈধতা অস্বীকার করতে যেসব কাজকর্ম হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে তারা৷

কিছু ক্ষেত্রে প্রচার শুরুর আগে থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ৷ ইয়োনহাপ নিউজের সূত্র বলছে, ১৮ মার্চ ৬৭৬জনের বিরুদ্ধে মোট ৪০১টি নির্বাচন সম্পর্কিত অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়৷ এর মধ্যে, ৩৫২টি মামলা ছিল ভুয়া তথ্য ছড়ানোর দায়ে, ৭২টি ঘুসের অভিযোগে ও ১৭টি নির্বাচনি নির্ঘন্ট প্রকাশের আগেই প্রচার শুরু করার অভিযোগের ভিত্তিতে দাখিল করা৷

জনচেতনাকে বিভ্রান্ত করতে ‘ডিপফেইক'

এত বেশি সংখ্যায় এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তা চিন্তিত করছে কর্তৃপক্ষকে৷ ২০২২ সালে স্থানীয় নির্বাচনের সময়ে প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলকে একটি ভিডিওতে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে প্রচার করতে দেখা যায়৷ এই ভিডিও ক্লিপটি ছিল ডিজিটাল উপায়ে বিকৃত, অর্থাৎ এটি একটি ডিপফেইক৷

সম্প্রতি, একটি জনপ্রিয় ইউটিউব ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ইয়ুনকে দেখা যায় জনপ্রিয় গায়িকা লিম ইয়ুং-ভুঙের বিয়ে উদযাপন করতে৷ আসল বিষযে হচ্ছে, লিম বিবাহিত নন এবং এই বিয়ের অনুষ্ঠান কখনোই বাস্তবে ঘটেনি৷

৫২ লাখ তথ্যের ডিজিটাল টুকরো থেকে একটি ডিপ লার্নিং প্রোগ্রাম বুঝিয়ে দিতে পারে যে ভিডিওটি আসল না কম্পিউটারের সাহায্যে বিকৃত৷ এই প্রোগ্রামটি মার্চ মাসের শুরুতে প্রকাশ করে এনপিএ৷

৮০ শতাংশ সফলতার সাথে কাজ করতে পারা এই প্রোগ্রামটি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে নেয় পাঁচ মিনিট, জানায় পুলিশ৷

সৌলের ইউহা উয়োমানস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক লিউফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘‘তথ্যপ্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেবার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় থেকেছে দক্ষিণ কোরিয়া৷ এখানে সোশাল মিডিয়া ও অন্যান্য বিকল্প সংবাদ সূত্রের জনপ্রিয়তাও বেশি৷ প্রেসিডেন্ট ইয়ুন প্রায়ই এআই-এর বিকৃতির মতো ভুয়া তথ্য ছড়ানোর পন্থা বিষযে সচেতনতা ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন৷ এটি গণপরিসরে আলোচনা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে হুমকির মুখে ফেলে৷''

২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চালু করেন ‘সামিট ফর ডেমোক্র্যাসি', যা বিশ্ব নেতৃত্বের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক৷ এবছর এই বৈঠক আয়োজিত হয় সৌলে, যা ইজলির মতে, ‘‘বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ সূত্রদের ভুয়া তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ও প্রযুক্তিগত মান নির্ধারণ করবে৷''

চুংহাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও নৈতিকতা বিষয়ক অধ্যাপক হিয়োবিন লি বলেন যে এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলির তুলনায় ‘‘আরো গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর৷''

নির্বাচনে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততা

হিয়োবিন লি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বেশিরভাগ ভুয়া খবর ছড়ানো হয় দেশের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল থেকে, কারণ তাদের সমর্থকদেরা পুরনো প্রজন্মের৷ নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে তারা নেতিবাচক পন্থা অবলম্বন করে থাকে৷ দক্ষিণ কোরিয়ায় বাম ও ডানপন্থি শিবিরের মধ্যে বিশাল ফারাক, যা এক পক্ষকে বাধ্য করে আরেক পক্ষকে ‘শত্রুর' নজরে দেখতে৷ ভুয়া খবর গোপনে ছড়ানো হয় এই নেতিবাচক পন্থা হিসাবেই, যা এই প্রজন্মকে, বিশেষ করে যাদের বয়স ষাটের বেশি, প্রভাবিত করে৷''

কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে জনমত তৈরি করতে কতটা সক্ষম বিদেশের সরকাররা, সেবিষয়েও দুশ্চিন্তায় দক্ষিণ কোরিয়া৷

উত্তর কোরিয়া ও চীন দুটি দেশই বিরোধী পক্ষের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতির সমর্থন করে, ইয়ুনের রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির তুলনায়৷

১৮ মার্চ দ্য চোসুনইলবো পত্রিকা বলে, ‘‘ইয়ুন সুক ইয়োল সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে নেতিবাচক কন্টেন্ট তৈরি করে ছগাচ্ছে চীনা মিডিয়া ও প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্বরা৷'' সেই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের নীতির প্রতিবাদে দেশটির ডাক্তাররা ধর্মঘট করছিলেন৷

বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য মাধ্যমে দাবি করা হয় যে ধর্মঘটে অনগ থাকলে ডাক্তারদের সামরিক বাহিনীতে পাঠিয়ে দেবার কথা ভাবছে দক্সিণ কোরিয়া সরকার৷ সাথে, সামরিক বাহিনীতে বুলিং বা গুণ্ডামির ঘটনাও তুলে ধরে তারা৷

মন্তব্যের অংশ দ্রুত ভরে ওঠে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান লি জায়-মিয়ুঙের সমর্থনে৷ অনেকে এটাও বলেন যে ইয়ুনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক দেশটিকে মার্কিন ‘উপনিবেশ' করে তুলছে৷

অধ্যাপক লি বলেন, ‘‘চীন অনেকটা লি-পন্থি, তুলনায় জাপান ইয়ুন-পন্থি৷ আগের সরকারের তুলনায় ইয়ুন জাপানের দাবি অনেক সহজেই মেনে নেন৷ যেমন, (ফুকুশিমা পরমাণু প্লান্ট থেকে আসা) বিষাক্ত পানি জাপান এদিকে ছেড়ে দিলেও কোরিয়া সরকার তার সমালোচনা করেনি৷''

‘‘যেভাবে ইয়ুন সরকার জাপানের দিকে ঝুঁকে পড়চে, তা থেকে বোঝা যায় যে টোকিও চায় ইয়ুন এই নির্বাচন জিতুন৷ অন্যদিকে, চীন চাইবে লি ও বিরোধী দল জিতুক৷''

কিম সাং-ভু এক সময় বামগেঁষা সাউথ কোরিয়ান কংগ্রেস ফর নিউ পলিটিক্স-এর সদম্য ছিলেন৷ বর্তমানে কিম দায়-জুং পিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য তিনি৷ তার মতে, এই নির্বাচনের হারজিত ঠিক হবে বিপক্ষ দলের নীতি ও বিভিন্ন কেলেঙ্কারি বিষয়ে মানুষ কী ভাবছেন, তার ভিত্তিতে৷

অধ্যাপক লি বলেন, ‘‘সাধারণ ভোটারের কাছে এই নির্বাচনে সুযোগ রয়েছে ইয়ুন সরকারের কাজ বিষয়ে তাদের সিদ্দান্ত জানানোর৷ আমার মনে হয়না বেশিরভাগ মানুষ ডিপফেইক বা ভুয়া খবর নিয়ে চিন্তিত৷ আমার মতে, মানুষ বেশি নজর দিচ্ছেন নির্বাচনের প্রার্থী ও তাদের নীতির দিকে৷''

ইউলিয়ন রায়াল/এসএস