দক্ষিণ ইউক্রেনে রাশিয়ার পাসপোর্ট বিলির নির্দেশ | বিশ্ব | DW | 26.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন

দক্ষিণ ইউক্রেনে রাশিয়ার পাসপোর্ট বিলির নির্দেশ

দক্ষিণ ইউক্রেনের একাধিক শহর এখন রাশিয়ার দখলে। বাসিন্দাদের দ্রুত রাশিয়ার পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ পুটিনের। ইউক্রেনের প্রতিবাদ।

পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব ইউক্রেনের একের পর এক অঞ্চল দখল করছে রাশিয়ার সেনা। কোনো কোনো অঞ্চলে রাশিয়ার অর্থ রুবল চালু করা হয়েছে গত মে মাস থেকে। ইন্টারনেটের সার্ভার রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। এবার ওই সব অঞ্চলের বাসিন্দাদের ফাস্ট ট্র্যাকে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন। ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া যা করছে 'ভয়াবহ অপরাধ'।

মূলত ঝাপারিজঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে দ্রুত রাশিয়ার পাসপোর্ট সেখানকার নাগরিকদের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুটিন। এই দুই অঞ্চলই এখন সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার দখলে। দনেৎস্ক এবং লুহানস্কের নাগরিকদের জন্যও একই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রশাসন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ অপরাধমূলক। এভাবে ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। রাশিয়া অবশ্য এখনো পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়ার কোনো জবাব দেয়নি।

হাসপাতালে পুটিন

রাশিয়ার সেনাদের দেখতে এই প্রথম হাসপাতালে গেলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন। মস্কোর একটি হাসপাতালে সাদা কোট পরে একের পর এক আহত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পুটিন জানিয়েছেন, ওই সেনারাই দেশের আসল হিরো। দেশের এবং দনবাস অঞ্চলের মানুষের জন্য তারা প্রাণ দিয়ে লড়াই করেছেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দনবাস অঞ্চলের নাম করে পুটিন আসলে একটি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, দনবাসের সাধারণ মানুষ আসলে রাশিয়ার অংশ হতে চায়। সে কারণেই লড়াই করছেন রাশিয়ার সেনারা। বস্তুত, এদিনও তিনি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। যুদ্ধ শব্দটি এদিনও ব্যবহার করেননি তিনি।

জার্মানিতে ইউক্রেনের সেনা

পোল্যান্ড হয়ে জার্মানি পৌঁছেছেন বেশ কিছু আহত ইউক্রেনের সেনা। জার্মানির সামরিক হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জার্মানির তরফে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কত সংখ্যক সেনাকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এখনো পর্যন্ত সাতটি ব্যাচে ইউক্রেনের সেনা আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মানির সামরিক মন্ত্রণালয়।

ভিডিও দেখুন 01:10

রুশ রাষ্ট্রদূতকে লাল রং দিয়ে হামলা, ক্ষমা দাবি

অর্থনৈতিক মন্দা অবশ্যম্ভাবী

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা ঘোষণা করল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস জানিয়ছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে জ্বালানির দামও লাফিয়ে বাড়ছে। এই দুই কারণই অর্থনৈতিক মন্দা তৈরির জন্য যথেষ্ট। তার মতে, করোনার ধাক্কাই এখনো সামলে উঠতে পারেনি বিশ্ব। ২০২১ সাল থেকে উন্নত দেশের অর্থনীতি একটু একটু করে উপরে উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ সব গুলিয়ে দিয়েছে।

ডেভিস জানিয়েছেন, গরিব দেশগুলি খাদ্য সংকটে ভুগছে। উন্নতিশীল দেশগুলির অর্থনীতি করোনার পরে এখনো নড়বড়ে। তারই মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় উন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক গ্রাফ থমকে গেছে। তারই মধ্যে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিক মন্দার জমি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে গেছে। যে কোনো সময় গোটা বিশ্ব মন্দার কবলে পড়তে পারে।

অস্ত্র নিয়ে বিতর্ক

পশ্চিমা দেশগুলির কাছে আরো অনেক ভারি অস্ত্র দাবি করেছে ইউক্রেন। কিন্তু পশ্চিম কি সত্যিই সে সব অস্ত্র ইউক্রেনকে দিতে পারে? এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ন্যাটোর সূত্র জার্মান সংবাদমাধ্যম ডিপিএ-কে জানিয়েছে, মৌখিকভাবে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত, ইউক্রেনকে সমস্ত অস্ত্র তারা তুলে দিতে পারে না।

ঘটনার সূত্রপাত, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা সম্প্রতি দাভোসের বৈঠকের গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা জার্মানির মার্ডার ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল, লিওপার্ড ব্যাটেল ট্যাঙ্ক চায়। কিন্তু জার্মানি তা দিতে অস্বীকার করছে। কেন জার্মানি এমন আচরণ করছে, তা ইউক্রেন বুঝতে পারছে না।

এরই উত্তরে ন্যাটোর সূত্র ডিপিএ-কে একথা জানিয়েছেন। রোববার জার্মানির সামরিক মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জানিয়েছিলেন, ন্যাটো আগেই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। ট্যাঙ্ক বা ইনফ্যান্ট্রি ভেহিক্যাল ইউক্রেনকে দেওয়া হবে না। এখন কেউ যদি তা অস্বীকার করে, তাহলে হয় সে ভুলে গেছে অথবা মিথ্যে কথা বলছে।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)