দক্ষিণ আফ্রিকায় ভবনের ছাদে ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে | অন্বেষণ | DW | 15.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভবনের ছাদে ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে

জোহানেসবার্গের ছাদে ছাদে বাগান তৈরির চল শুরু হয়েছে৷ হাইড্রোপনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও পানির অপচয় না করে সেখানে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে৷ ফলে স্থানীয় বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে সবজি পাওয়া যাচ্ছে, কর্মসংস্থানও হচ্ছে মানুষের৷

ভিডিও দেখুন 05:03
এখন লাইভ
05:03 মিনিট

জমি নেই? ফসল ফলান ছাদে

দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম জনবহুল এলাকা হিলব্রো-র ভবনগুলোর ছাদ ধীরে ধীরে কৃষিভূমিতে পরিণত হচ্ছে৷ ক্যাথেরিন খামবুলে আর থান্ডি এনগুবেনি ‘কোটজে রুফটপ ফুড গার্ডেন কোঅপারেটিভ'-এ কাজ করেন৷

ক্যাথেরিন আর থান্ডি শখের গার্ডেনার নন৷ এ বিষয়ে রীতিমত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁরা৷ এখন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৭০ কেজি শাক উৎপাদন করছেন৷ এছাড়া সালাদ, ঔষধি গাছ, বাঁধাকপি ইত্যাদির চাষও করেন৷ স্থানীয় বাজারে এগুলো বিক্রি করা হয়৷

হাইড্রোপনিক প্রযুক্তিতে ছাদে বাগান করা হচ্ছে৷ এভাবে ফসল ফলাতে মাটির প্রয়োজন হয় না৷ টিউবে করে চারা গাছগুলোতে পানি দেয়া হয়৷ এই উপায়ে চারা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এভাবে সারা বছরই চাষ করা যায়৷ ক্যাথেরিনকে শুধু প্রতিদিন দেখতে হয় পানিতে পিএইচ আর পুষ্টির মাত্রা ঠিক আছে কিনা৷

ভিডিও দেখুন 03:22
এখন লাইভ
03:22 মিনিট

ছাদের উপর ধান চাষ

ক্যাথেরিন খামবুলে বলেন, ‘‘এই প্রযুক্তিতে পানির অপচয় হয় না৷ এই ব্যবস্থায় এক ফোঁটা পানিও নষ্ট হয় না৷ টিউবের মধ্য দিয়ে পানি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে আবার ফিরে আসে৷ ফলে পানি একটুও নীচে পড়ে না, এক ফোঁটাও না৷''

দেশজুড়ে যখন খরা চলছে তখন পানির অপচয় না হওয়াটা দারুণ ব্যাপার৷ খরার কারণে অনেক কৃষক ঠিকমত ফসল ফলাতে পারছেন না৷ জোহানেসবার্গ সহ অন্যান্য শহরে পানি ব্যবহারের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করে দেয়া হয়েছে৷ ফলে এখন শস্য, মাংস আর সবজি আমদানি করতে হচ্ছে৷ এ কারণে ২০১৬ সালে খাদ্যমূল্য ১০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল৷ আগামী বছরগুলোতেও খরার পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় জোহানেসবার্গের শহর কর্তৃপক্ষ ‘ছাদ কৃষি'-তে বিনিয়োগ করছে৷

শহর কর্তৃপক্ষ চাষাবাদের জন্য জায়গা, হাইড্রোপনিক প্রযুক্তি আর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে৷ পানি অপচয় রোধ ও স্থানীয় বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা ছাড়াও ‘রুফটপ গার্ডেন' প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন চাকরি সৃষ্টি হচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 03:33
এখন লাইভ
03:33 মিনিট

ছিল বস্তি, হয়ে গেল বাগান

জোহানেসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ডোনি ফাকগিয়ো বলেন, ‘‘দারিদ্র্যতা থেকে নাগরিকদের বের করে আনার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতা বাড়ানো রুফটপ গার্ডেন প্রকল্পের একটি লক্ষ্য৷ শহর কর্তৃপক্ষের আওতায় যে ভবনগুলো আছে মূলত আমরা সেগুলোতেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাই৷ তবে ব্যক্তিগত ভবনের ছাদেও যেন প্রকল্পের কাজ ছড়িয়ে দেয়া যায় সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি আমরা৷''

রুফটপ গার্ডেন প্রকল্পে যোগদানের আগে অনেক নারীর কোনো আয় ছিল না৷ আর এখন সবুজ জোহানেসবার্গ গড়ার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাঁরা৷

ক্যাথেরিন খামবুলে বলেন, ‘‘নামের সঙ্গে উদ্যোক্তা শব্দটি আমাদের গর্বিত করে না৷ যা আমাদের গর্বিত করে তা হচ্ছে, আমরা এখন নিজেরাই নিজেদের দেখাশোনা করতে পারি, কারও উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না৷''

এখন পর্যন্ত ছয়টি ছাদে বাগান তৈরিতে সহায়তা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ৷ ক্যাথরিন আর তাঁর সঙ্গীরা প্রকল্প সম্প্রসারণ ও আরও কিছু নতুন লোক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে৷ কারণ জোহানেসবার্গে বাগান করার জন্য উপযুক্ত ছাদের অভাব নেই৷

স্টেফান ম্যোল/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও