দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীর ক্ষমতায়নে বস্ত্র ব্যাংক | অন্বেষণ | DW | 11.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীর ক্ষমতায়নে বস্ত্র ব্যাংক

চেনস্টোরদের ফেলে দেওয়া জামাকাপড় নিয়ে দুঃস্থ মহিলাদের স্বনির্ভর হতে শেখায় দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সংস্থা৷ প্রকল্পটির নাম ক্লোদিং ব্যাংক বা বস্ত্র ব্যাংক৷

eco@africa - Tracey Gilmore

ক্লোদিং ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ট্রেসি গিলমোর

ডার্বানের ‘ক্লোদিং ব্যাংক’-এর মহিলাদের দিন শুরু হয় নাচ ও গান দিয়ে৷ ট্রেসি গিলমোর ও তাঁর এক সহযোগী মিলে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ বড় বড় চেনস্টোরগুলো যে সব জামাকাপড় বিক্রি করতে পারে না, সেগুলো এখানে কাজে লাগানো হয়৷

ট্রেসি জানালেন, ‘‘এ সবই পুরনো স্টক, নতুন করে লেবেল লাগানো হয়েছে৷ আমাদের দাতা আর পৃষ্ঠপোষকদের খুচরো বিক্রির দোকান থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে৷ পুরনো লেবেল সরিয়ে গুদামে ঝোলানো হয়েছে, যাতে মহিলারা এসে এগুলো তাদের নিজের বিক্রির জন্য কিনতে পারেন৷ কাজেই তারা তাদের নিজেদের পণ্য নিজেরাই বেছে নিচ্ছেন৷’’

মহিলারা গুদাম খোলার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছেন৷ এখানে তারা যা সস্তায় কিনতে পাবেন, তা পরে বাইরে বিক্রি করে তাদের কিছু রোজগার হবে৷ দরজা খুললেই মহিলারা সেরা পণ্যগুলি হাত করার চেষ্টা করবেন৷ প্রত্যেকেই জানেন, তাদের খদ্দেররা কী চান৷ বস্ত্র বিপনীগুলির জন্য এ সব ফেলে দেওয়ার মাল, কিন্তু আসলে অধিকাংশ জামাকাপড়ই বেশ ভালো মানের৷

ভিডিও দেখুন 05:32
এখন লাইভ
05:32 মিনিট

নারীর ক্ষমতায়নে বস্ত্র ব্যাংক

যখন একা

নন্সেবা মাদিকিজেলা একা সন্তান প্রতিপালন করেন৷ তিনি বললেন, ‘‘আমার টাকা ছিল না, কোথাও কোনো চাকরি পাইনি, খাবার কিনতে পারতাম না, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারতাম না, কেননা আমি একা৷’’

তাবিসা মাথান্দাবিজো-র কাহিনী অনুরূপ, তিনিও একা সন্তান প্রতিপালন করেন৷ তাবিসা বললেন, ‘‘আমি জীবনে যা হতে চেয়েছিলাম, তা হতে পারিনি৷ খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম, পরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিলাম৷ তারপর শুনলাম ক্লোদিং ব্যাংকের কথা, এরা নাকি প্রশিক্ষণ দেয়, ব্যবসা করতে শেখায়৷ আমি চিরকালই আমার ব্যবসা শুরু করতে চেয়েছি, কিন্তু কীভাবে করতে হয়, কোথা থেকে ফান্ডিং পেতে হয়, এ সব জানতাম না৷’’

ক্লোদিং ব্যাংক বিশেষ করে যে সব মায়েরা একা সন্তান প্রতিপালন করছেন, তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করে৷ দক্ষিণ আফ্রিকায় দু'বছরের কম বয়সি সন্তান প্রতিপালনরত মায়েদের ৬৮ শতাংশই স্বামী বা সঙ্গিবিহীন৷ তবুও ক্লোদিং ব্যাংকের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়, বিশেষ বিশেষ শর্ত পূরণ করতে হয়৷

ট্রেসি গিলমোর বললেন, ‘‘আমরা বিশেষ করে মায়েদের দিকে নজর দিই, যার ফলশ্রুতি দ্বিগুণ হয়৷ মায়ের ক্ষমতায়নের অর্থ সন্তানের ক্ষমতায়ন, কেননা মায়েরা সর্বাগ্রে সন্তানের শিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করেন৷ তারপর বাসা, থাকা-খাওয়া ইত্যাদির উন্নতির চেষ্টা করেন৷’’

প্রশিক্ষণ

প্রত্যেক মহিলাকে সপ্তাহে একদিন করে মাল আলাদা করা ও সাজানোর কাজে সাহায্য করতে হয়৷ তাঁরা পুরনো লেবেল ও দামের টিকিট ইত্যাদি সরান ও টুকিটাকি মেরামত করেন৷ ক্লোদিং ব্যাংক মায়েদের একটি দু'বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়, যার ফি তাঁরা অংশত জামাকাপড় বেচে শোধ করতে পারেন৷ মহিলারা ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়ে স্বনির্ভরতার দিকে এগোবেন, এই হল ট্রেসি গিলমোরের ইচ্ছে৷ তিনি নিজে এক সম্পূর্ণ অন্য জগতের বাসিন্দা৷

ট্রেসির জগৎ

ট্রেসি গিলমোর ছেলেবেলায় বর্ণবৈষম্য দেখেছেন: ‘‘আমরা যে একটা স্বপ্নজগতে বাস করতাম, তা আমি স্বীকার করতে বাধ্য৷ শ্বেতাঙ্গ স্কুলে যেতাম, শ্বেতাঙ্গ সমাজে থাকতাম, আমাদের জীবন সত্যিই খুব বিচ্ছিন্ন, সুরক্ষিত ছিল৷ হাইস্কুলে যাবার পর প্রথম খেয়াল করলাম, কোথাও একটা গোলমাল আছে৷ আমাদের বাবা-মায়েরা আন্দোলনকারী ছিলেন না, কিন্তু তারা আমাদের সঠিক পথটা চিনিয়ে দিয়েছেন৷’’

ক্লোদিং ব্যাংকের দুই প্রতিষ্ঠাতা দেশে ব্যাপক সামাজিক ব্যবধানকে মেনে নিতে চাননি৷ বিশেষ করে যে সব মায়েরা একা সন্তান প্রতিপালন করছেন, তাঁরা এর শিকার হচ্ছেন, কেননা বাবাদের ৫০ শতাংশ কোনোরকম আর্থিক বা অপরাপর সাহায্য দেয় না৷ কাজেই ক্লোদিং ব্যাংকের প্রশিক্ষণে ব্যক্তিত্বের বিকাশ, ব্যবসা পদ্ধতি ও কম্পিউটারের ব্যবহার শেখানো হয়ে থাকে৷

মিলিসেন্ট

মিলিসেন্ট সেকে-র প্রশিক্ষণ প্রায় সমাপ্ত, এখন তিনি স্বাধীন ব্যবসায়ী৷ মিলিসেন্ট ক্লোদিং ব্যাংকে সস্তায় যে পোশাক-আশাক কেনেন, পরে তা ডার্বানের একটি শহরতলির রাস্তায় বিক্রি করেন৷ এভাবে তাঁর যা রোজগার হয়, তা থেকে তিনি তাঁর তিন ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাতে পারেন৷ গোড়ায় কাজটা সহজ ছিল না, কিন্তু এখন মিলিসেন্টের অনেক পরিকল্পনা: ‘‘এখন আমি আমার নিজের দোকান খোলার স্বপ্ন দেখছি, যেখানে আমি সব মালপত্র রাখতে পারব, এভাবে খোলা রাস্তায় নয়, একটা বড়সড় দোকানে৷ খুব আরামে বিক্রি করতে পারব৷’’

এই এলাকায় বেকারত্বের হার ২০ শতাংশেরও বেশি৷ মিলিসেন্ট শোনালেন, ‘‘গরিব মানে তোমার কিছু নেই, কোনো আশা নেই, শুধু কোনোমতে বেঁচে আছো, কালকের কথা ভাবার সময় নেই৷ এখানে গরিব মানে তাই৷ কাজেই ক্লোদিং ব্যাংকের প্রোগ্রামে ঢুকতে পারলে তুমি আর গরিব থাকবে না – কারণ আমরা প্রত্যেক দিন টাকা রোজগার করি৷ খেটে কাজ করি, কিন্তু রোজ টাকা পাই৷’’

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্লোদিং ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় মোট ৮০০ মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়৷ স্বনির্ভরতা আর নিজের ব্যবসা থেকে মিলিসেন্টের মতো মহিলারা এক নতুন ভবিষ্যতের হাতছানি দেখেন, অথবা মিলিসেন্টের ভাষায়, এক নতুন মানুষে পরিণত হন৷

মানুয়েলা কাসপার-ক্লারিজ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও