দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ | বিশ্ব | DW | 01.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

নতুন ধরনের করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। আক্রান্তের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে। উদ্বিগ্ন কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার প্রকোপ বাড়ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার প্রকোপ বাড়ছে।

করোনা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার থেকে আরো কড়া ব্যবস্থা নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অ্যালকোহল বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। রাত নয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত কার্ফিউ জারি থাকছে। প্রেসিডেন্ট নিজেও এখন কোয়ারান্টিনে। কারণ, গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ''আমরা নজরদারিতে একটু ঢিলেমি দিয়েছিলাম। এখন তার মূল্য দিতে হচ্ছে।''

দক্ষিণ আফ্রিকার চিন্তা আরো বাড়িয়েছে, নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাস অনেক বেশি ছোঁয়াচে। নতুন ভাইরাসের জন্য করোনা আরো দ্রুত ছড়াচ্ছে। আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন(আফ্রিকা সিডিসি)-র প্রধান জন এনকেঙ্গাসঙ জানিয়েছেন, ''দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিছনে আছে এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস।'' 

বিমানবন্দরে আটক যাত্রীরা

এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস আটকাতে অনেক দেশই এখন যুক্তরাজ্যের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গেও বিমান চলাচল আপাতত স্থগিত রেখেছে। তাই বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ডামাডোল দেখা দিয়েছে। ট্রেসি-লি-দে ওয়েট আয়ারল্যান্ড থেকে এসেছিলেন মায়ের কাছে। তাঁর বিমান বাতিল হয়ে গেছে। ডিডাব্লিউ-কে তিনি জানান, ''আমি কবে বাড়ি ফিরতে পারব জানি না। আমার চাকরির কী হবে, তাও বুঝতে পারছি না।'' তাঁকে খুবই উদ্বিগ্ন ও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।

Südafrika Kapstadt | Coronavirus | Flughafen

বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী।

অ্যামেরিকার ডালাসে থাকেন মিঙ্গা। তিনিও দুই দিন ধরে জোহানেসবার্গের বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। তিনি বলছিলেন, ''আমার কাছে কোনো অর্থ নেই। আমার কাছে কিছুই নেই। আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই। আমার স্ত্রী ও বাচ্চার কাছে যেতে চাই।''

করোনা সব চেয়ে বেশি ছড়িয়েছে কেপ টাউন, পোর্ট এলিজাবেথের মতো জায়গায়। সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার একটা সীমা আছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কড়াকড়ির ফলে অর্থনীতি বিপুল চাপে পড়েছে।

নতুন সার্স-কোভিড ভাইরাস নাইজেরিয়াতেও

গত সপ্তাহে নাইজেরিয়াতেও নতুন ধরনের সার্স-কভ-২ ভাইরাস পাওয়া গেছে। গবেষকরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এই ভাইরাস বাইরে থেকে আসেনি। এখানেই হয়েছে। অবশ্য তার মানেই এই ভাইরাস বেশি ছোঁয়াচে হবে এমন নয়।

এই নতুন ধরনের ভাইরাস চিহ্নিত হয় গত সপ্তাহে। আফ্রিকা সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর জিনোমিক্স অফ ইনফেকসিয়াস ডিসিস(এসিইজিআইডি)-র বিজ্ঞানীরা এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করেন। সংস্থার ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান হাপ্পি জানিয়েছেন, ''বিজ্ঞানীরা নতুন ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। তার আগে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। এই নতুন বিপদ সম্পর্কে জানার জন্য আরো গবেষণা জরুরি।'' 

আফ্রিকায় প্রকোপ কিছুটা কম

নাইজেরিয়ায় ৮২ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন এক হাজার ২৪৬ জন। ২০ কোটির দেশে করোনায় আক্রান্তের এই সংখ্যা খুব বেশি বলা যাবে না। কিন্তু ডিসেম্বরের গোড়া থেকে প্রতি সপ্তাহে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সব চেয়ে বেশি হচ্ছে দেশের আর্থিক রাজধানী লাগোসে। তার ফলে রাতে কার্ফিউ এবং ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আফ্রিকায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ। বিশ্বের মোট সংখ্যার তিন দশমিক ছয় শতাংশ। এই মহাদেশে মারা গেছেন ৫৭ হাজার মানুষ। অ্যামেরিকায় যত মানুষ মারা গেছেন তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

তা সত্ত্বেও আফ্রিকা সিডিসি-র প্রধান সব মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, সতর্ক থাকতে, কারণ, করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার নিতে পারে।

ক্রিস্টিনা বার্তোলাসে-ক্রিপ্পাহি /জিএইচ

থুসো খুমালো এই রিপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন