দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহ্যগত চিকিৎসার পুনরুত্থান | অন্বেষণ | DW | 12.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহ্যগত চিকিৎসার পুনরুত্থান

দক্ষিণ আফ্রিকায় জড়িবুটি ও বিভিন্ন প্রাণীর শরীরের অংশ নিয়ে ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতি আজও জনপ্রিয়৷ কিন্তু বিপুল চাহিদার ফলে প্রয়োজনীয় ঔষধি গাছপালা হারিয়ে যাচ্ছে৷ এক অভিনব প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে৷

দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক বড় জনপদে এমন হাট বসে, যেখানে আফ্রিকার চিরায়ত পদ্ধতির চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সংগ্রহ করতে পারেন৷ সেখানে  জড়িবুটি, ছাল, শিকড় ও বিভিন্ন প্রাণীর শরীরের এমন সব অংশ পাওয়া যায়, যেগুলির বিশেষ নিরাময় ক্ষমতা আছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন৷

মাশালা এচেনি কা কুমালো নামের সাংগোমা বা চিকিৎসকও এখানে উপকরণ সংগ্রহ করতে এসেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন লক্ষ্যে এই জড়িবুটি ব্যবহার করি৷ যেমন অশুভ আত্মা তাড়াতে অথবা সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে৷ সত্যি বলতে কি, এ সব জড়িবুটি কোথা থেকে আসে, আমি তা জানি না৷ কোথায়, কীভাবে তা চাষ হয়, তাও আমার জানা নেই৷''

বিপুল চাহিদা, জোগানের সমস্যা

এমন উদাসীনতার পরিণাম সুখকর নয়৷ বর্ধিষ্ণু শহর ও গ্রামের বিপুল চাহিদা পূরণ করতে দক্ষিণ আফ্রিকায় লাগামহীনভাবে অনেক ঔষধি গাছ সংগ্রহ করা হয়৷ এককালে পেপারবার্ক বা গোলমরিচের গাছ গোটা দেশে ছড়িয়ে থাকলেও এখন সেটি লুপ্তপ্রায় হয়ে উঠেছে৷

ভিডিও দেখুন 04:12
এখন লাইভ
04:12 মিনিট

ফিরে আসছে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা

সাংগোমা-রা মূলত এই গাছের ছাল ব্যবহার করেন৷ সর্দিকাশি ও ফুসফুসে সংক্রমণসহ অন্য কিছু রোগ নিরাময়ে সেটি কাজে লাগানো হয়৷ কিন্তু ছাল ছাড়িয়ে নিলে গাছ মরে যায়৷ দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার জাতীয় পার্কে সামান্য কয়েকটি গাছ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে৷ রেঞ্জার হিসেবে সাইমন চাউকে বলেন, ‘‘আমাদের গোলমরিচের গাছ সংরক্ষণ করতে হবে৷ চোরাশিকারিরা ক্রুগার পার্কে প্রবেশ করে গাছের ছাল, শাখাপ্রশাখা ও শিকড় চুরি করে৷ তারা বিশাল মুনাফা করে, কারণ ক্রুগার পার্কের বাইরে পেপারবার্ক এর মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে৷''

চারাগাছের নার্সারি

ক্রুগার পার্কে এক নার্সারিতে অতি যত্ন সহকারে চারাগাছের বংশবৃদ্ধি করা হচ্ছে৷ মিউরেল বালোয়ি ও কারিন হানওয়েগ বেশ কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্প দেখাশোনা করছেন৷ প্রকৃতির কোলে তাঁরা আর চারাগাছ সংগ্রহ করতে পারেন না৷ কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের কারিন হানওয়েগ বলেন, ‘‘জঙ্গলে পেপারবার্ক গাছ ফল অথবা বীজ উৎপাদন করে না৷ তবে আমরা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে তা খুঁজে পেয়েছি৷ এই নার্সারিতে সেই গাছ একটু বড় হলে স্থানীয় সমাজে বিলিয়ে দেওয়া হয়৷''

এই এলাকায় এমন গাছে কেন আর বীজ হয় না, তা কেউ জানে না৷ গত কয়েক বছরে আরও গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া এর কারণ হতে পরে৷

এই নার্সারি এর মধ্যে প্রায় ১৩,০০০ গাছ পার্কের আশেপাশের অঞ্চলে বিলিয়ে দিয়েছে৷ লুইজ সোয়েমার ও রোজি মাখুবেলা আরও একঝাঁক চারাগাছ নিয়ে এক গ্রামে গেছেন৷ সেখানে তাঁরা এক ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছেন৷ জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পাড়ি দিতে হয়৷

সাংগোমাদের সহায়তা

পার্কের সীমান্তে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন৷ চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁদের মূলত সাংগোমা-দের দ্বারস্থ হতে হয়৷ সমাজে তাঁদের যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে৷ রোজি মাখুবেলা নিজেও একজন সাংগোমা৷ লুইজ সোয়েমার পার্কের প্রশাসনিক বিভাগে কাজ করেন৷

ওয়ার্কশপে শুধু সাংগোমা-রাই অংশ নিচ্ছেন৷ যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কারণ মুক্ত প্রকৃতিতে তাঁরা আর জড়িবুটি খুঁজে পাচ্ছেন না৷ পেশাদারী চোরাই সংগ্রহকারীরা আগেই সবকিছু লুট করে নিয়েছে৷ সানপার্কস সংগঠনের লুইজ সোয়েমার বলেন, ‘‘প্রথম পর্যায়ে আমরা তাদের পেশার খাতিরে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেছি৷ আমরা যে সব গাছ গজাচ্ছি, সেগুলি বাজারে এনে সহজলভ্য করে তোলার বিভিন্ন পথ এবার খতিয়ে দেখছি৷''

সাঙ্গোমা-দের সঙ্গে আলোচনার পর লুইজ ও রোজি ৬ বছর আগে প্রথম ওয়ার্কশপের এক অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন৷ রোজ চাউকে সে সময়ে চারাগাছ পেয়েছিলেন৷ এখন সেগুলি বড় গাছ হয়ে উঠেছে এবং প্রকল্পের বেড়ে চলা সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে৷

ফ্রাংকেনফেল্ড/শ্নাইডার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন