থামেনি ‘দীপনের জাগৃতি’ | বিশ্ব | DW | 29.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

থামেনি ‘দীপনের জাগৃতি’

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঘাতকের আঘাতে প্রাণ হারান প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন৷ তবে কর্ণধার চলে গেলেও থেমে যায়নি জাগৃতি৷ তাঁর মৃত্যুর পর চতুর্থবারের মতো জাগৃতিকে নিয়ে বই মেলায় আসছেন দীপনের সহধর্মিনী রাজিয়া রহমান জলি৷

পেশায় চিকিৎসক রাজিয়া রহমান জলি বইমেলা এলে জাগৃতির স্টল সামলানোর দায়িত্ব নিতেন৷ পেশাগত দায়িত্বের বাইরে মেলার পুরোটা সময়েই তাঁকে দেখা যেতো জাগৃতির স্টলে হাসিমুখে বই বিকিকিনি করছেন৷ মেলা চলাকালে বই প্রকাশ ও  তা স্টল পর্যন্ত পৌঁছানোর কাজটি করতেন ফয়সল আরেফিন দীপন, আর স্টলে পরিবেশনের দায়িত্ব নিতেন জলি৷ দু'জনে মিলেমিশেই মাসব্যাপী বইমেলা সামাল দিতেন তাঁরা৷ গত চার মেলা ধরে একাই লড়াই করে যাচ্ছেন রাজিয়া রহমান জলি৷

দীপন হত্যার ৩ মাস পর ২০১৬ সালে ২০টি নতুন বই নিয়ে মেলায় এসেছিলেন জলি৷ পরের তিন বছরে প্রতিষ্ঠা করেছেন 'দীপনপুর', দীপনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা বুকশপ ক্যাফে৷ দীপনপুর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে জাগৃতির কর্মকাণ্ড৷

এবার বই মেলায় জাগৃতির স্টলের ওপরে লেখা আছে ‘দীপনের জাগৃতি'৷ আর ট্যাগ লাইন ‘শুভবুদ্ধির উদয় হোক'৷ ২০১৫ সালে যেদিন একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়েছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, সেদিন হত্যাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘‘আমি বিচার চাই না৷ আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক৷'' সেই বক্তব্যকেই ট্যাগ লাইন করেছে জাগৃতি৷  

জাগৃতির গল্পটা এক অনন্য উদ্যোগের৷ ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে বন্ধুরা যখন ব্যাংকে ঢুকলেন, কেউ দেশের বাইরে গেলেন উচ্চ শিক্ষা নিতে, তখন ফয়সল আরেফিন দীপন একটি প্রকাশনা সংস্থা খুলে বসলেন৷ এরপর ২০১৫ পর্যন্ত লড়াই৷ ২০১৫ সালে অভিজিতের হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকবার হুমকি পেয়েছেন৷ কিন্তু থামেনি প্রকাশক হিসেবে তাঁর লড়াই৷ এরপর  জীবনটাও খোয়াতে হলো জঙ্গি হামলায়৷ সেই প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের জাগৃতির কর্মকাণ্ড একদিনের জন্য থামতে দেননি রাজিয়া রহমান জলি৷  জাগৃতি নিয়ে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন দেশে বিদেশে৷ 

অডিও শুনুন 16:01

জাগৃতি বা দীপনপুর-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আসলে একটি প্রতিবাদ

২০১৭ সালে ৪০টি নতুন বই প্রকাশ করেছে জাগৃতি৷  ২০১৮ সালে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৬৭-তে৷ এ বছরও সংখ্যাটি  ৫৫ থেকে ৬০-এর মতো হবে৷এ মুহূর্তে প্রকাশনা ও স্টল গোছানো নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রাজিয়া রহমান জলি৷ 

ডয়েচে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‘জাগৃতি বা দীপনপুর-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আসলে একটি প্রতিবাদ৷ দীপনের সন্তানদেরকে আস্থা দেওয়া যে, তাদের মা এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিবাদ থামায়নি৷''

কখনো ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েন৷ ২০১৬ সালের বইমেলায় যখন অংশ নেন দীপনের জাগৃতি নিয়ে, তখন ভেবেছিলেন প্রকাশকদের এই মহাযজ্ঞে দীপন থাকবেন পুরো মেলা জুড়ে৷ তাঁর স্মারক থাকবে৷ অথচ সেই মেলায় জাগৃতির সেই স্টল ছাড়া কোথাও দীপনের নাম উচ্চারিত হয়নি একবারের জন্যও৷ স্টলে প্রতিবাদ জারি রাখতে দীপনের স্মারক রেখেছিলেন জলি৷ সেই সময় দীপনের বন্ধুদের সঙ্গে পাশে ছিলেন প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদ ফারুক শুভ৷ বন্ধুরাই একদিন টিএসসি থেকে দোয়েল চত্ত্বর পর্যন্ত দীপন হত্যার বিচার চেয়ে ব্যানার লাগিয়ে দিলেন৷ 

এরপরের পথচলা দীপনপুর আর জাগৃতিকে নিয়ে একসঙ্গে৷ আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংঘ আইপিএ দীপনকে সম্মানিত করেছে ২০১৮ সালে৷ শারজায় অনুষ্ঠিত পাবলিশার কনফারেন্সে রাজিয়া রহমান জলি ৩১ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রকাশক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন৷

বাংলাদেশেও তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক, ভেবেছিলেন দীপনের নাম উচ্চারিত হবে প্রতিটি স্থানে গর্ব ও অহংকারে৷ দাবি জানিয়েছিলেন, শাহবাগ আজিজ সুপারমার্কেটের সামনের সড়কটি দীপনের নামে হোক৷ হয়নি বলে হাল ছেড়ে দেননি তিনি৷ জঙ্গি হামলায় নিহত একজনের নাম নিতেও ভয় পান তাঁর আশেপাশের মানুষেরা৷ কিন্তু তিনি জারি রেখেছেন তাঁর লড়াই৷ এবার দীপনের জাগৃতি বরাবরের মতো মাথা উঁচু করেই মেলায় আসছে৷  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন