থাইল্যান্ডে হাতির পুনর্বাসনের অভিনব প্রকল্প | অন্বেষণ | DW | 30.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

থাইল্যান্ডে হাতির পুনর্বাসনের অভিনব প্রকল্প

পর্যটকদের কাছে থাইল্যান্ডের হাতির আকর্ষণ কম নয়৷ কিন্তু মানুষের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে হাতির জীবন প্রায়ই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে৷ এক নারী অসহায় হাতির সুরক্ষার জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন৷

পর্যটকদের কাছে থাইল্যান্ডের হাতির আকর্ষণ কম নয়৷ কিন্তু মানুষের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে হাতির জীবন প্রায়ই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে৷ এক নারী অসহায় হাতির সুরক্ষার জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন৷

একবার তাকালেই লেক চাইলার্ট প্রত্যেকটি হাতিকে আলাদা করে চিনতে পারেন৷ তাঁর কাছে প্রায় ৮০টি হাতি রয়েছে৷ প্রত্যেকটি প্রাণী অনেক কষ্ট পেয়েছে৷ প্রাণীগুলির জীবনের সব ঘটনা তাঁর জানা আছে৷ যেমন কয়েক বছর আগে পর্যন্ত একটি হাতি কাছের এক রাইডিং ক্যাম্পে কাজ করতো৷ প্রতিদিন পর্যটকদের পিঠে নিয়ে ঘুরতে হতো৷ নির্দেশ অমান্য করলে মালিক বুলহুক দিয়ে ত্বক চিরে দিতো৷

প্রায় ২৫ বছর ধরে হাতির সুরক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন থাইল্যান্ডের এই অ্যাক্টিভিস্ট৷ নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি হাতির জীবনযাত্রার উন্নতির চেষ্টা করছেন৷ দানের অর্থ দিয়ে তিনি মারাত্মক নিপীড়নের শিকার হয়েছে, এমন হাতি কিনে নেন৷

ভিডিও দেখুন 05:22

হাতি সুরক্ষায় এক নারী

কাজে না লাগলে অবাঞ্ছিত

বেশিরভাগ হাতি কয়েক দশক ধরে মানুষ বহন করেছে অথবা মনোরঞ্জনের খোরাক হিসেবে কাজ করেছে৷ কিন্তু চাইলার্টের ‘এলিফ্যান্ট নেচার পার্ক’-এ সেই প্রাণীগুলিকে কাজ করতে অথবা শিকলে বন্দি থাকতে হয় না৷ অতিথিরা অর্থের বিনিময়ে শুধু হাতির দর্শন পেতে পারেন৷ চাইলার্ট বলেন, ‘‘মানুষ এসে আমাদের প্রকল্প দেখে যান৷ তাঁরা হাতিদের বিরক্ত করেন না, শুধু দেখেন৷ সেই অর্থ দিয়ে আমরা আরও হাতি উদ্ধার করতে পারি৷’’

একদিন লেক চাইলার্ট ও তাঁর টিম আবার হাতি উদ্ধার অভিযানে বেরিয়েছেন৷ এবার সংরক্ষণবাদীরা ব্যাংককের দক্ষিণ পশ্চিমে এক রাইডিং ক্যাম্প থেকে সাতটি হাতি তুলে চিয়াং মাই-এর কাছে সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে যাবেন৷ ক্যাম্পের মালিকরা নিজস্ব উদ্যোগে চাইলার্টের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চেয়েছেন৷ কারণ করোনা মহামারির কারণে আর প্রায় কোনো পর্যটক হাতির পিঠে ঘুরতে ক্যাম্পে আসছেন না৷

করোনা সংকটের কুপ্রভাব

পূ্র্ণবয়স্ক হাতির দাম সাধারণত ২০ লাখ বাট, অর্থাৎ ৫০,০০০ ইউরোর একটু বেশি৷ কিন্তু মহামারির কারণে এই প্রাণী মালিকের জন্য বোঝা হয়ে উঠছে৷ খোরাক ও দেখাশোনার জন্য তাঁদের মাসে প্রায় এক হাজার ইউরো ব্যয় হয়৷ চাইলার্টের ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে হাতি-প্রতি কমপক্ষে ১০ লাখ বাট পেয়ে থানাপত কায়ার বেশ খুশি৷ তিনি বলেন, ‘‘মহামারির শুরু থেকে আমাদের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়েছে৷ কয়েক মাসের জন্য আমাদের ক্যাম্প বন্ধ করে দিতে হয়েছে৷ কিন্তু খোলা থাক বা না থাক, হাতির দেখাশোনা তো করতেই হয়৷ প্রতিদিন খোরাকের ব্যবস্থাও করতে হয়৷ ১লা জুলাই ক্যাম্প খোলার অনুমতি পেলেও কোনো দর্শক আসে নি৷’’

রওয়ানা হবার আগে প্রত্যেকটি হাতিকে বাঁশের তৈরি খাঁচায় প্ল্যাটফর্মের উপর ভালো করে দাঁড় করাতে হয়৷ হাতি ও উদ্ধারকারীদের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে৷ এই টিম এর আগে কখনো এত হাতি নিয়ে এত লম্বা পথ পাড়ি দেয় নি৷ দুপুরের দিকে সারিবদ্ধ যানগুলি যাত্রা শুরু করলো৷ যাত্রা শুরুর আধ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে যানগুলিকে থামতো হলো৷ কারণ একটি হাতি ট্রাকের খাঁচার মধ্যে তাণ্ডব চালিয়েছে৷ তাই বড় আকারে মেরিমতির কাজ করতে হবে৷ লেক চাইলার্ট বলেন, ‘‘বেশ কিছু হাতি নার্ভাস হয়ে পড়েছে৷ যাত্রার সময় বার বার এমনটা হয়৷ হাতি ভাঙচুর শুরু করে৷ কাঠামো ভেঙে রাজপথের উপর ফেলে দেয়৷ সেই অবস্থায় চালিয়ে গেলে হাতি ট্রাক উলটে দিতে পারে৷

প্রায় ২০ ঘণ্টার যাত্রার পর দিন সকালে কনভয় চিয়াং মাই শহরের উত্তরে ‘এলিফ্যান্ট নেচার পার্ক’-এ পৌঁছেছে৷ গোটা দল ক্লান্ত হয়ে পড়েছে৷ লেক চাইলার্টের প্রায় একেবারেই ঘুম হয় নি৷ কিন্তু কোনো কিছুই তাঁর মনমেজাজ নষ্ট করতে পারে না৷ তিনি বলেন, ‘‘উচ্ছাস ও আনন্দ হচ্ছে৷ কারণ যাত্রা ছিল দুশ্চিন্তায় ভরা, হাতিগুলি বেশ রেগে ছিল৷ অবশেষে পৌঁছতে পারায় নিশ্চিন্ত লাগছে৷’’

খাঁচার খুঁটিগুলি সরানোর পর হাতিগুলি সতর্কতার সঙ্গে নতুন জীবনে পা রাখতে পারছে৷ রোগের সংক্রমণ এড়াতে নতুন অতিথিদের দুই সপ্তাহের জন্য বাকি হাতির পাল থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে৷

উদ্ধারকারীরা দড়ি ও শিকল সরিয়ে হাতিগুলিকে মুক্ত করলেন৷

লেক চাইলার্ট একশোরও বেশি হাতির জন্য নতুন আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন৷ সেখানে হাতিগুলিকে জোর করে কোনো কাজ করতে হয় না, হাতি হিসেবেই স্বাভাবিক জীবন কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়৷

নুয়র/নুশ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন