থাইল্যান্ডে টেকসই শস্য চাষের অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 07.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

থাইল্যান্ডে টেকসই শস্য চাষের অভিনব উদ্যোগ

ভুট্টার চাষ চাষিদের জন্য প্রথমে লাভজনক হলেও জমির ক্ষতি, পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানা কুফল বয়ে আনতে পারে৷ থাইল্যান্ডে চাষিদের ভুট্টা ছেড়ে টেকসই শস্য চাষ করতে সাহায্য করছে ডাব্লিউডাব্লিউএফ৷

চাষিদের জন্য ‘ফিড কর্ন’ বা গবাদি পশুর খোরাক হিসেবে ভুট্টা উৎপাদন আপাতদৃষ্টিতে বেশ আকর্ষণীয়৷ বিপুল চাহিদার কারণে এর মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল থাকে৷ তাই অনেক চাষি পুরোপুরি এর উপর নির্ভর করেন৷ কিন্তু এক-ফসলি চাষের কারণে মাটির উর্বরতা দ্রুত লোপ পায়৷

সোমবুন চাষি হিসেবে এই ভুট্টার উৎপাদন বন্ধ করতে চান৷ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদন করছেন৷ কিন্তু সম্প্রতি ফসলের মান খুব খারাপ হয়ে উঠেছে৷ তাঁর মতে, রাসায়নিক সার ছাড়া সেখানে আর কিছুই গজাচ্ছে না৷ কিন্তু সেই সার বেশ দামি৷ ফলে তিনি ব্যাংকের কাছে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন৷ সোমবোন বলেন, ‘‘ভুট্টাচাষের ফলে সমস্যা বাড়ছে৷ কিন্তু এ পর্যন্ত আমার কোনো বিকল্প ছিল না৷ আমি কখনো অন্য কিছু শিখিনি৷ পরিবারের দায়িত্ব ঘাড়ে ছিল৷ কেউ এসে আমাকে অন্য পথে চলতে সাহায্য করলে আমি তার কথা শুনতে প্রস্তুত৷’’

ভিডিও দেখুন 05:25
এখন লাইভ
05:25 মিনিট

আর নয় ভুট্টা চাষ

রাতাপাত শ্রীচানক্লাদ ভুট্টা চাষিদের জন্য বিকল্প পথ খুলে দেবার ব্রত নিয়েছেন৷ সেই কাজে তাঁকে দূর পথ পাড়ি দিতে হয়৷ এক পাহাড়ি গ্রামে তিনি চাষিদের জন্য ওয়ার্কশপ করছেন৷ পথেই তিনি ন্যাড়া পাহাড় দেখতে পেয়েছেন৷ ভুট্টা চাষের কুৎসিত রূপ বেরিয়ে পড়েছে৷

বেড়ে চলা চাহিদা মেটাতে চাষের নতুন জমি খুঁজতে হয়৷ সরকারিভাবে অনেক বছর ধরে গাছ কাটা নিষিদ্ধ হলেও ভুট্টাচাষিরা জঙ্গল সাফ করে আরও ভেতরে পৌঁছে যাচ্ছেন৷ রাতাপাত বলেন, ‘‘এর পর বর্ষা এলে এই সব খেতে আবার ভুট্টার বীজ রোপণ করা হবে৷ তার আগে তারা সব ঘাস পুড়িয়ে ফেলে৷ তখন এখানে সবকিছু জ্বলেপুড়ে যায়৷’’

সেই ছাই অবশ্যই সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় বটে, কিন্তু নিয়মিত এই পোড়ানোর প্রক্রিয়া পরিবেশের জন্য এক বিপর্যয়৷ রাতাপাত শ্রীচানক্লাদ মনে করেন, ‘‘এর মধ্যে বছরে একবার এখানে সব কিছু পুড়িয়ে ফেলা হয়৷ ছোট গাছপালা ও প্রাণী রেহাই পায় না৷ ফলে জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়৷ তবে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হলো স্মগ বা কুয়াশা, যা দিনের পর দিন থেকে যায়৷’’

রাতাপাত যেখানেই যান না কেন, তাঁর ওয়ার্কশপকে ঘিরে বিপুল আগ্রহ দেখা যায়৷ চাষিরা বিনামূল্যেই তাতে অংশ নিতে পারেন৷ তিনি তাঁদের সবুজ জঙ্গলের স্বপ্ন দেখান৷

জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রায় ১০ লক্ষ ইউরো অনুদান দিয়ে থাইল্যান্ডে এই ওয়ার্কশপ আয়োজনে সাহায্য করে৷ পরিবেশ সংগঠন ডাব্লিউডাব্লিউএফ স্থানীয় সহযোগী হিসেবে প্রকল্পটি চালায়৷ প্রকল্পের প্রধান প্লাই পাইরম বলেন, ‘‘আমরা শিল্পখাতের ধনতান্ত্রিক প্রণালীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছি৷ সেই প্রক্রিয়া টেকসই নয়৷ আমাদের সমাধানসূত্রের জন্য অনেক উদ্যোগ, অনেক সচেতনতা ও অনেক কাজ করা প্রয়োজন৷ সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷’’

আপাতত তাদের হাতে ৩ বছরের বেশি সময় নেই৷ প্রকল্পের মেয়াদ ততদিন পর্যন্তই৷ ওয়ার্কশপে চাষিদের এমন কিছু নির্দেশাবলি দেওয়া হয়, যেগুলি তাঁরা সহজে প্রয়োগ করতে পারেন৷ যেমন সঠিকভাবে সেচের কায়দা শেখানো হয়৷ কারণ ভুট্টার তুলনায় অনেক শস্যের বেশি পানি লাগে৷ চাষিরা কীভাবে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মাটি আর্দ্র রাখতে পারেন, রাতাপাত শ্রীচানক্লাদ তা বুঝিয়ে বলেন৷ চাষিদের তিনি বলেন, ‘‘এই প্রক্রিয়ায় আমরা স্রোতের গতি কমাতে পারি৷ ফলে আশেপাশের মাটি আরও বেশি পানি পাবে৷ তবে এই বাঁধ নিয়মিত পরীক্ষা ও তার উন্নতি করে যেতে হয়৷’’

তিরাসাক সুওনো আগে ভুট্টা চাষ করতেন৷ শেষে তাঁর কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা এসে পড়েছিল৷ এখন তাঁর খেতে অরগ্যানিক কলা চাষ হচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘পরিবর্তন মোটেই সহজ ছিল না৷ কারণ শস্য বদলানোর মাঝের সময় আমাদের কোনো আয় ছিল না৷ তবে সাহায্য পেয়ে টিকে গিয়েছিলাম৷ ঋণ শোধ দেবার মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যাংকও সাহায্য করেছিল৷ এখন আমি আশাবাদী৷’’

সব চাষি অবশ্য এই প্রকল্প এত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন নি৷ কিন্তু ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক ভুট্টা ছেড়ে টেকসই শস্যের চাষ করতে প্রস্তুত৷

প্রকল্পের সাফল্যের স্বার্থে ডাব্লিউডাব্লিউএফ কিছু ক্রেতাকেও সামিল করেছে৷ যেমন চিয়াং মাই শহরের এক অরগ্যানিক রেস্তোরাঁ৷ দালালের কমিশন এড়িয়ে চাষিরা সরাসরি তাঁদের কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন৷ এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের সাফল্যের পেছনে অনেক আদর্শ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ কাজ করছে৷ কিন্তু টেকসই এই সব কৃষিপণ্য বাজারে কতটা জায়গা করে নিতে পারবে? আশার কথা, পরিবর্তনের চাপ অত্যন্ত বেশি৷ দিনে দিনে তা বেড়েই চলেছে৷ রাতাপাত শ্রীচানক্লাদ বলেন, ‘‘আমরা সরকারের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারি না৷ নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে হবে এবং ভোগ ও উৎপাদনের প্রক্রিয়া আরও টেকসই করে তুলতে হবে৷’’

রাতাপাত শ্রীচানক্লাদ ও তাঁর সহকর্মীরা আরও বেশি মানুষকে এই সাফল্যের স্বাদ দিতে চান৷ সম্ভাবনাময় এই পরিবেশে তাঁরা সেই কাজে সফল হতে পারেন৷

ফ্লোরিয়ান নুশ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন