ত্রিপুরায় বিজেপির জয়, বিরোধীদের কটাক্ষ | বিশ্ব | DW | 29.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় বিজেপির জয়, বিরোধীদের কটাক্ষ

ত্রিপুরায় ২২২টি আসনের নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে ২১৭টি আসন। 'রিগিং'য়ের জয়, বললেন বিরোধীরা।

গত ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরায় পুরসভা নির্বাচন হয়েছে। ৫১টি ওয়ার্ড, ১৩টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল এবং ছয়টি নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচন হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ছিল ৩৩৪টি। যার মধ্যে ১১২টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৫ নভেম্বর ভোট হয়েছে ২২২টি আসনে। ২৮ তারিখ তার ফল প্রকাশ হয়। ভোটে ২১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ত্রিপুরার নির্বাচনী ইতিহাসে যা অভূতপূর্ব ঘটনা।

বিজেপির জয়ে স্বভাবতই খুশি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে ত্রিপুরার বিজেপি কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। টুইট করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্ব।

তবে বিরোধীরা বিজেপির এই জয়কে প্রহসন হিসেবেই দেখছে। রোববারই বিবৃতি প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএম। ২২২টি আসনের মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র ৩টি আসন। ডয়চে ভেলেকে ত্রিপুরার সিপিএম কর্মী রাহুল সিনহা জানিয়েছেন, ''প্রহসনের ভোট হয়েছে। প্রথমে প্রার্থীদের মনোনয়ন তুলে নিতে বাধ্য করেছে বিজেপি। যারা তোলেনি, তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। ভোটের দিন সকাল পর্যন্ত সন্ত্রাস চলেছে। সকাল ১০টার মধ্যে কার্যত সমস্ত বুথ থেকে বিরোধীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এটা কোনো ভোটই নয়।'' বস্তুত, ভোট-সন্ত্রাস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। ভোটের দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানিয়ে দেয়, এই নির্বাচন তারা মানছে না। পরে বিবৃতি প্রকাশ করেও একই কথা বলেছে তারা।

ত্রিপুরার সাবেক ডেপুটি মেয়র এবং সিপিএম নেতা সমর চক্রবর্তী ডয়চে ভলেকে বলেছেন, ''শুধু আমার বাড়িতেই নয়বার হামলা হয়েছে। তবু মনোনয়ন বাতিল করিনি। এই পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, আমাদের ভোট দিয়েছেন। এই সন্ত্রাসের মধ্যেও আমাদের তিনজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।''

ত্রিপুরার ভোটকে সন্ত্রাসের ভোট বলে বর্ণনা করেছে তৃণমূলও। রাজ্যে তাদের সংগঠন ক্রমশ তৈরি হচ্ছে। ভোটের আগে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সকলেই গেছিলেন ত্রিপুরায়। একটি স্ট্রিট কর্নার ছাড়া তাদের সভা করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের ত্রিপুরার কনভেনার সুবল ভৌমিক ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''বিজেপি কোথাও সাধারণ মানুষকে ভোটই দিতে দেয়নি। অবাধে ছাপ্পা মেরেছে। তার পরেও তৃণমূল যথেষ্ট ভালো ভোট পেয়েছে।'' বস্তুত, ভোটের দিন ভোট-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন সুবল-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা এবং মুখপাত্র কুণাল ভোষ টুইট করে বলেছেন, ত্রিপুরার মানুষ যে তাদের পক্ষে, তা প্রমাণিত হয়েছে। এত সন্ত্রাসের পরেও প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল।

বস্তুত, ভোটের আগে থেকেই ত্রিপুরার পরিবেশ ছিল থমথমে। ভোটের পরের দিনও রাস্তায় রাস্তায় পুলিশি প্রহরা দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে চাননি। ইঞ্জিনিয়ার থেকে হোটিলকর্মী, অটো চালক থেকে ফল বিক্রেতা, নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে অনেকেই ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ভোট দিতে পারেননি। বুথ থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। ত্রিপুরা বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''কোথাও কোনো সন্ত্রাস হয়নি। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছে। ভোটে জিততে পারবে না বুঝে বিরোধীরা এ সব অভিযোগ করেছে। আর তৃণমূল ত্রিপুরায় অশান্তি ছড়াতে এসেছে। সিপিএম-এর মুখেও সন্ত্রাসের কথা মানায় না।''