ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি, সরগরম পশ্চিমবঙ্গ | বিশ্ব | DW | 09.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি, সরগরম পশ্চিমবঙ্গ

ত্রাণ বণ্টন নিয়ে দুর্নীতি ঘিরে সরগরম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ৷ অভিযোগ উঠলেই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিরোধীরা নেমেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারে৷

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, তা সন্দেহাতীত ভাবে দুর্নীতি৷ সারদা, নারদ, কাটমানি হয়ে এবার দুর্নীতির অভিযোগ ত্রাণ বণ্টন নিয়ে৷ অভিযোগের নিশানায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ ঘূর্ণিঝড় আমফান পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাকে তছনছ করে দিয়েছে৷ হাজার হাজার বাড়ি ভেঙে পড়েছে৷ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করে চলছে ব্যাপক স্বজনপোষণ

দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই মূলত অভিযোগ৷ এই তালিকায় অনেকক্ষেত্রে শাসকদলের পরিবারের সদস্যদের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, বাদ পড়েছে সম্বলহীন মানুষ৷ সংখ্যায় কম হলেও সিপিএম ও বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে৷ ত্রাণের টাকা, ত্রিপল কিংবা খাদ্যসামগ্রী না পেয়ে ক্ষিপ্ত জনতা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে৷

এই অসন্তোষ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ত্রাণ দিতে হবে৷ এ নিয়ে কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না৷ শাসক দলের নেতারাও যদি দুর্নীতি করেন, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর ব্যাপক ভাবে শোকজ করা হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতির স্তরের তৃণমূল নেতাদের৷ তদন্ত করা হচ্ছে দলীয় পর্যায়ে৷ একাধিক জায়গায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বেআইনিভাবে নেওয়া ত্রাণের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন৷ এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, ‘‘যে ব্যাপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে ৫-৭ শতাংশ স্থানে৷ অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ব্যবস্থা নিচ্ছেন৷ শুধু তৃণমূল নয়, উত্তর ২৪ পরগণায় বিজেপি কিংবা মথুরাপুরে সিপিএমের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে৷ এটা একেবারেই ব্যক্তিগত স্তরে দুর্নীতি, এর সঙ্গে দলের যোগ নেই৷''

অডিও শুনুন 04:01

‘এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর নেই’

বিরোধী বাম, বিজেপি, কংগ্রেস লকডাউনের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে৷ বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা৷ যারা উপরতলার নেতা তারা কীভাবে নিচুতলার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবেন? তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়ে গিয়েছে৷'' ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে উত্তর ২৪ পরগণা থেকে৷ এই জেলার সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী একটি পঞ্চায়েতের নাম বলুন যেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি নিয়ে অভিযোগ ওঠেনি৷ নীচের তলায় তৃণমূল ও বিজেপি হাত ধরাধরি করে দুর্নীতি করছে৷ দুই দলের সমর্থকদের নাম থাকছে তালিকায়৷ এখন মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন৷''

অতীতে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার কেলেঙ্কারি থেকে নারদের গোপন ভিডিওয় নেতাদের টাকা নেওয়ার ছবি, তৃণমূল নানা সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে৷ গত লোকসভা নির্বাচনের পর কাটমানি বিতর্ক রাজ্যের শাসক দলকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল৷ যখন বিধানসভা নির্বাচন আর কয়েক মাস দূরে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে কড়া অবস্থানে তাঁর দলের ভাবমূর্তি উন্নত হবে বলে মনে করছে না বিরোধীরা৷ তন্ময় ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘২০২১ সালে এই রাজ্যে তৃণমূলের হার যে নিশ্চিত এটা বুঝে গিয়েছেন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা৷ গত নয় বছর তাঁরা যেভাবে সরকারি টাকা নয়ছয় করেছেন, বাকি কয়েক মাস আরো বেশি করে নিজেদের পকেটে ভরতে চাইছেন৷ এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর নেই৷

একেবারে বিপরীত মত তৃণমূল নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্রের৷ তিনি বলেন, ‘‘কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷ বিরোধীদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চেয়েছেন৷ তৃণমূল অস্বীকার করছে না দুর্নীতি হয়েছে৷ কিন্তু তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷ এতে সরকারের স্বচ্ছতা প্রমাণিত হয়৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এর ইতিবাচক ফল পাবে তৃণমূল৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন