‘তোষকটা না হয় পুড়ত, কিন্তু বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো′ | বিশ্ব | DW | 02.03.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘তোষকটা না হয় পুড়ত, কিন্তু বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো'

ঢাকার উত্তরায় আগুনে দুই সন্তান ও স্বামীকে হারানো এক নারী মুখ খুলেছেন৷ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মক আহত সুমাইয়া আক্তারের অডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে, যা থেকে জানা গেছে নতুন তথ্য৷

সুমাইয়া আক্তার ইতোমধ্যে তাঁর দেড় ও ১৫ বছর বয়সি দুই সন্তান ও স্বামীকে হারিয়েছেন৷ তাঁর শরীরও পুড়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি৷ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালের সেই ঘটনার পেছনে গ্যাস লাইনে থাকা লিককে দায়ী করা হচ্ছে৷ ঢাকার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সুমাইয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তবে সেই আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই তিনি জানিয়েছেন, সেই সকালের কিছু কথা, যা ফেসবুকে শেয়ার করছেন অনেকে৷

সুমাইয়া দাবি করেছেন, অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর সাততলা বাড়ি থেকে সিঁড়ি বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসেন তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ এ সময় তাদের কেউ সাহায্য করেনি৷ একটু সহায়তা পেলে হয়ত তাঁর সন্তান দু'টোকে বাঁচানো যেত৷

৪০ বছর বয়সি সুমাইয়ার এক আত্মীয় নওশাদ জামান ফেসবুকে সুমাইয়ার অডিও বার্তা শেয়ার করেছেন৷ সুমাইয়া তাঁর আত্মীয়দের জানিয়েছেন, তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলেছে৷ কিন্তু আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে৷''

Bildergalerie Opfer politischer Gewalt in Bangladesch 2015

‘একটা চাদর দিয়েও বাচাঁতে আসলোনা ঢাকার গৃহবধু সুমাইয়া ও তার বাচ্চাদের’ (প্রতীকী ছবি)

তিনি বলেন, ‘‘(আমার) স্পষ্ট মনে আছে৷ সাততলা থেকে নামছি৷ তিনতলার লোকেরা একটা তোষক দিয়ে যদি (আমাদের) জড়িয়ে ধরতো, (তাহলে) একটা তোষক না হয় পুড়ত৷ আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো৷''

ফেসবুকে অডিওটি শেয়ার করে আশিকুর রহমান ডিফেন্স লিখেছেন, ‘‘হায় রে নগর জীবন! হায় রে মানবিকতা! একটা চাদর দিয়েও বাচাঁতে আসলোনা ঢাকার গৃহবধু সুমাইয়া ও তার বাচ্চাদের৷ গায়ে আগুন নিয়ে ফ্লাটের পর ফ্লাট গিয়ে দরজায় নক করেও কেউ একটা চাদর দিয়ে সহায়তা করেনি৷ উল্টো দরজা বন্ধ করে দিয়েছে সবাই৷''

প্রসঙ্গত, উত্তরার এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, তাদের ধারণা, ওই বাসার গ্যাসের চুলা বা লাইনে সমস্যা ছিল৷ এর ফলে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘর থেকে পুরো ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে যায় এবং সকালে চুলা জ্বালাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটে৷

ফেসবুকে প্রকাশিত অডিও বার্তায় সুমাইয়া জানিয়েছেন, রান্নাঘর থেকে আগুন লাগেনি৷ তিনি বলেন, ‘‘আগুন ছিল ডাইনিং রুমে আর বড় ছেলের রুমে৷ রান্না ঘরে আগুন জ্বালানো হলেও সেখানে আগুন ছিল না৷''

ফেসবুকে খিরকিল নেওয়াজ সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘এটা পরিষ্কার যে, কিচেনের চুলার কারণে নয়, অন্য কোনো কারণে ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা৷ নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে সবকিছু৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন