তেলখেকো ব্যাকটেরিয়া সাগর পরিষ্কার রাখতে পারে | অন্বেষণ | DW | 05.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

তেলখেকো ব্যাকটেরিয়া সাগর পরিষ্কার রাখতে পারে

তেলখেকো ব্যাকটেরিয়ার নাম শুনেছেন? তেল দূষণের খোঁজ পেলেই তারা সেখানে গিয়ে জড়ো হয়৷ এই ধরনের ব্যাকটেরিয়াদের তেল খাওয়ার ক্ষমতা ও খিদে বাড়ানোর জন্য গ্রিসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গবেষণা প্রকল্প চলেছে৷

সাগর নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করে ও পরিষ্কার রাখে৷ পানিতে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোঅরগ্যানিজম যাবতীয় দূষিত পদার্থকে শেষমেষ অন্যান্য উপাদানে পরিণত করে বটে, কিন্তু তাতে বড় বেশি সময় লাগে৷

ধরুন একটি তেলের ট্যাংকার পাথরে ধাক্কা লেগে ডুবে গেছে, তেল ছড়িয়ে পড়েছে৷ তেল দূষণের মোকাবিলা করার জন্য কর্তৃপক্ষ সাধারণত ভাসমান বেড়া বসিয়ে বোট থেকে বেড়ার ভিতর ভাসন্ত তেল কেঁকে বা ছেঁকে নেওয়ার চেষ্টা করেন৷ যদিও সমাধানটা খুব কার্যকরি নয়৷

সমুদ্রবিজ্ঞানী ভাসিলিওস মামালুকাস-ফ্রাগুলিস জানালেন, ‘‘এই প্রযুক্তির কতোগুলো বাধা আছে৷ প্রধান প্রতিবন্ধক হল, ভাসন্ত বেড়া বসানো সত্ত্বেও কিছু তেল ঠিকই চুঁইয়ে বেরিয়ে পড়ে৷ এছাড়া যান্ত্রিক উপায়ে সবটা তেল কেঁকে বা ছেঁকে নেওয়া সম্ভব নয়; কাজেই তেলের একটা পাতলা স্তর থেকেই যায়৷''

ভিডিও দেখুন 03:57
এখন লাইভ
03:57 মিনিট

যে ব্যাকটেরিয়া তেল খেয়ে উপকার করে...

পরিষ্কার করা কঠিন, বিশেষ করে যখন সাগরের পানিতে থাকা মাইক্রোঅরগ্যানিজম বা অণুবীজগুলির তেল হজম করতে অনেক সময় লেগে যায়৷ কিন্তু ধরুন যদি এমন একটা ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অনেক তাড়াতাড়ি তেল হজম করে ফেলতে পারে? তাই নিয়ে গ্রিসে একটি ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্প চলেছে৷

ব্যাকটেরিয়ার ‘খিদে'

বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক নিকোলাস কালোগেরাকিস বললেন, ‘‘আমাদের গবেষণা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, সাগরের পানিতে অণুজীবদের বায়ো-ডিগ্রেডেশন বা জৈবিক পদ্ধতিতে রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা৷ আমরা অণুজীবগুলির তেল হজম করার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকি৷''

পরীক্ষাগারে গবেষকরা একটি তেল দুর্ঘটনার নকল করে দেখছেন৷ প্রথমে তারা পানির উপর উদ্ভিদজাত তেলের একটি বিশেষ ধরনের স্প্রে ছড়ান, যার ফলে পেট্রোল আর পানি মিশে যায়৷ 

মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলজিস্ট রজার মার্চান্ট বললেন, ‘‘পানির উপর এই স্প্রে ছড়ালে তেল উবে যায় না৷ যা ঘটে তা হল এই যে, তেল ছোট ছোট বিন্দুতে ভেঙে যায়  – পানিতে থাকা অণুজীবরা এই ছোট ছোট তেলের বিন্দুগুলোকে পুরোপুরি হজম করে ফেলতে পারে৷''

 তেলখেকো ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করার কোনো দরকার নেই; সাগরে কোথাও তেলের দূষণ ঘটলেই তারা আপনা থেকেই হাজির হয়৷ বিজ্ঞানীরা তাদের প্রজনন আর বৃদ্ধির হার দ্রুততর করতে চান৷

ব্যাকটেরিয়ার ‘চাষ'

মেরিন বায়োলজিস্ট মিখাইল ইয়াকিমভ বললেন, ‘‘আমাদের পন্থা হল, সাগর থেকে দূষিত পানির নমুনা নিয়ে, পরীক্ষাগারে সেই নমুনা থেকে সংশ্লিষ্ট অণুজীবগুলি ‘কালচার' করা৷ পর্যাপ্ত পরিমাণ তেলখেকো ব্যাকটেরিয়া ‘চাষ' করার পর, আমরা সেই ব্যাকটেরিয়া সাগরে তেল দূষণের স্থানটির উপর স্প্রে করি৷ বলা যেতে পারে, আমরা শুধু সাগরের নিজেকে পরিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়াটিকে কিছুটা ত্বরান্বিত করছি৷'' 

সবশেষে, ব্যাকটেরিয়ার তেলের খিদে বাড়ানোর জন্য গবেষকরা মিশ্রণটিতে ফসফরাস ও নাইট্রোজেন যোগ করেন৷ তাদের উদ্ভাবিত এক ধরনের নতুন, ‘চতুর' কণিকা ব্যাকটেরিয়াদের পক্ষে পুষ্টিকর এই পদার্থগুলিকে যেখানে তেল দূষণ ঘটেছে, ঠিক সেখানে পৌঁছে দেয়৷

পরিবেশ সংক্রান্ত মাইক্রোবায়োলজিস্ট ফিলিপ কর্ভিনি যোগ করলেন, ‘‘ব্যাকটেরিয়া একবার সাগরে গিয়ে পড়লে, তাদের খাদ্যের প্রয়োজন হয়; যেমন ফসফরাস ও নাইট্রোজেন৷''

বায়োকেমিস্ট প্যাট্রিক শাহগালদিয়ান সমাপ্ত করলেন, ‘‘কাজেই আমরা সেই খাদ্য সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার কাছে পৌঁছে দিই, যাতে তারা আরো ভালোভাবে তেল হজম করতে পারে৷''

ব্যাকটেরিয়া খায় তেল; ব্যাকটেরিয়াকে খায় প্ল্যাঙ্কটন – আর এভাবেই সাগরের ‘ফুড চেন' চলতে থাকে৷ তেল দূষণ শুষে নেওয়ার এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি শীঘ্রই আরো অনেক ব্যাপক হারে প্রয়োগ করা হবে, যাতে বড় বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ের মোকাবিলা করা সম্ভব হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও