তেজস্বীর লড়াই ব্যর্থ, বিহার বিজেপি-নীতীশের | বিশ্ব | DW | 11.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

তেজস্বীর লড়াই ব্যর্থ, বিহার বিজেপি-নীতীশের

টান টান উত্তেজনা। প্রতিটি আসনে তীব্র লড়াই। শেষ পর্যন্ত মাঝ রাতে ফলাফল পাওয়া গেল। বিহারে সরকার গড়বে এনডিএ।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিহারে বিজেপি ও নীতীশ কুমারের এনডিএ দখল করেছে ১২৫টি আসন। লালুপ্রসাদের ছেলে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে মহাজোট পেয়েছে ১১০টি আসন।

কিন্তু এই সংখ্যা দেখে ফলাফলের আসল চরিত্র বোঝা যাবে না। বোঝা সম্ভব নয়, প্রতিটি আসনে কী ভয়ঙ্কর লড়াই হয়েছে। অধিকাংশ আসনে  হার-জিতের ব্যবধান হাজারখানেক।  গতবারের তুলনায় পাঁচ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে নিয়েও তেজস্বী যাদবের আরজেডি গতবারের থেকে দুইটি আসন কম পেয়েছে। তারা বিজেপি-কে টপকে সব চেয়ে বড় দল হয়েছে, অসাধারণ লড়াই করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারেনি। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল তৃতীয় হয়েছে। তারা কুড়িটির মতো আসন হারিয়েছে। তবে তার পরেও সম্ভবত নীতীশই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

কেন ভোট বাড়িয়েও আসন বাড়াতে পারল না আরজেডি? কেনই বা বিজেপি ৭৪টি আসনে জিতলেও নীতীশ থেমে গেলেন ৪৩-এ? এই প্রশ্নের জবাবে আসার আগে একবার দেখে নেয়া যাক, এই ফলাফলের প্রভাব বিহারে কীভাবে পড়বে। বিহারে বিজেপি-নীতীশ সহ এনডিএর হাতেই ক্ষমতা থাকছে। ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপি-র ছোট বড় নেতারা বলেছিলেন, জিতলে নীতীশই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। নীতীশ চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হলেও যেহেতু বিজেপি অনেক বেশি আসন পেয়েছে, তাই ক্ষমতার চাবিকাঠি মোদীর দলের হাতে থাকবে। নীতীশের উপর অনেক বেশি চাপ থাকবে। আর ভবিষ্যতে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রাস্তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যে লড়াই তেজস্বী লড়েছেন, তাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। ৩১ বছরের এই যুবককে কিছুদিন আগেও নম্বর দিতে চাইছিলেন না বিশেষজ্ঞরা। লোকসভা নির্বাচনে আরজেডির শোচনীয় ফলের পর তাঁকে পলাতক বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল মিডিয়া। সেই তেজস্বীর তেজ দেখা গিয়েছে এবারের বিহার ভোটে। তিনি বরং নিজের মতো করে চেষ্টা করেছেন, যুবকদের সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে জাতের বেড়া ভাঙতে চেয়েছেন এবং ভোট বাড়াতেও সক্ষম হয়েছেন। বিহারের রাজনীতিতে তিনি নতুন হাওয়া আনতে পেরেছেন।

কিন্তু তাও তিনি কেন জিততে পারলেন না? এর প্রধান কারণ হলো আসাদুদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বে এআইএমআইএম মুসলিম প্রধান কেন্দ্রগুলিতে সংখ্যালঘু ভোট ভালোরকম কেটেছে। আর সেই সঙ্গে শেষ পর্বে যোগী আদিত্যনাথকে দিয়ে চড়া হিন্দুত্বের প্রচার করেছে বিজেপি। এর ফলে শেষ পর্বে ধর্মীয় মেরুকরণ হয়েছে। যার জেরে ভুগতে হয়েছে মহাজোটকে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছেন, ওয়েইসির দল হলো বিজেপি-র বি টিম। ওয়েইসি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি দলের বিস্তার ঘটাচ্ছেন। এর সঙ্গে বিজেপি-র কোনো যোগ নেই। প্রাথমিক হিসাব, ওয়েইসি ভোট কাটার জন্য ১২ থেকে ১৫টি আসন হারিয়েছে মহাজোট।

ওয়েইসি ও মেরুকরণের সুবিধা যেমন বিজেপি পেয়েছে, তেমনই রামবিলাসের ছেলে চিরাগ পাসোয়ান নীতীশ কুমারের দলের সব প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজের প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন। নীতীশের যে আসন কমেছে, তার পিছনে চিরাগের কৌশল এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ কাজ করেছে। করোনাকালে নীতীশ পরিযায়ী শ্রমিকদের বিহারে ফেরানোর উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ। এই দুইয়ের যোগফলে নীতীশের আসন কমেছে। কিন্তু বিজেপি-র বাড়তি ভোট কাটার জন্য কোনো দল ছিল না। আর ভোটপর্ব চলার সময়ে অভিযোগ উঠেছে, চিরাগের এই কৌশলের পিছনেও বিজেপি-র হাত আছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই ফলে সম্ভবত সব চেয়ে খুশি হবেন বিজেপি নেতারা। বিহার তাঁদের হাতে থাকছে। নীতীশের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। ফলে সরকারে বিজেপির প্রভাব বাড়বে। তেজস্বী নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কংগ্রেসেরও শক্তি কমেছে। কেবল বামেরা ভালো ফল করেছেন। সিপিআইএমএল, যাদের বিহারে মালে বলা হয়, তারা ১১টি আসনে জিতেছে। সিপিএম  তিনটি ও সিপিআই দুইটি আসনে জিতেছে। ফলে তেজস্বীর সঙ্গে জোট করে বামেরা নিজেদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছে। মালে আসনসংখ্যা বাড়াতে পেরেছে। বামেদের শক্তিবৃদ্ধির এই সামান্য কাঁটা ছাড়া বিহার নির্বাচন সব দিক থেকেই বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে।