তুরস্ক: যেখানে নারী-হত্যা হয়ে যায় আত্মহত্যা | বিশ্ব | DW | 03.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

তুরস্ক

তুরস্ক: যেখানে নারী-হত্যা হয়ে যায় আত্মহত্যা

একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, তুরস্কে এক বছরে হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৩০০ জন নারীকে৷ সমাজে নারীদের হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার বেড়ে চলা প্রবণতায় শঙ্কা, আতঙ্ক বাড়ছে৷

২০১৮ সালে ২৩ বছরের সুলে সেট’কে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদ হয়েছিল

২০১৮ সালে ২৩ বছরের সুলে সেট’কে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদ হয়েছিল

তুরস্কে নারী-হত্যা নতুন কিছু নয়৷ নারীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল ২০১৮ সালের এক রোমহর্ষক ঘটনায়৷ সে বছর আঙ্কারায় ২৩ বছর বয়সি তরুণী সুলে সেট-কে ধর্ষণের পর হত্যা করে জানালা দিয়ে ফেলে দেয় দুই মাতাল৷ সুলের অফিসেই ঘটে ঘটনাটি৷ দুই মাতালের একজন ছিলেন তার বস৷

হাইরাইজ ভবনের ওপর থেকে সুলের লাশ ফেলে দিয়েই পুলিশে খবর দেন বস৷ দাবি করেন সুলে আত্মহত্যা করেছেন৷ অথচ সুলের ঘাড় ছিল ভাঙা, শরীরে ছিল অসংখ্য আঁচড়ের দাগ আর রক্তে ছিল ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছুর আলামত৷ ফলে নিহত তরুণীর পরিবার হত্যা মামলা করে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি৷ কাজ হয় তাতে৷ তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত সত্য এবং সুলের বসকে যাবজ্জীবন এবং তার সহযোগীকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেয় আঙ্কারার আদালত৷

ধারণা করা হয়েছিল সুলে হত্যার বিচারের পর তুরস্কে নারী-হত্যা এবং নারীদের হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর প্রবণতা কমবে৷ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি৷ কয়েকদিন আগে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিয়ারবাকিরের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় আতেন কায়ার লাশ৷ ৩৫ বছর বয়সি ওই নারীর স্বামীর দাবি, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন৷ কায়ার পরিবার তা মানতে পারেনি৷ হত্যা মামলা করেন তারা৷ কিন্তু স্থানীয় তদন্তকারীরা কায়ার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট দেয়ায় বন্ধ হয়ে যায় মামলার কাজ৷ সুলের পরিবারের মতো কায়ার পরিবারও সন্দেহমুক্ত হতে পারছেন না৷ তাদের প্রশ্ন, আত্মহত্যা হলে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ঝুলন্ত মৃতদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্নের কথা লেখা হয় কী করে? কেউ ফাঁসিতে ঝুলে মারা গেলে তো তার সারা গায়ে আঘাত লাগতে পারে না!

কায়ার পরিবার অবশ্য এসব প্রশ্ন তুলেও নতুন করে তদন্তের দাবি আদায় করতে পারেনি৷

‘উই উইল স্টপ ফেমিসাইড’ নামের একটি নারী অধিকার সংগঠনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে তুরস্কে কমপক্ষে ৩০০ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে৷ এর বাই আরো ১৭১ জনের মৃত্যু খুব রহস্যজনক৷ আত্মহত্যা বলা হলেও প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এমন আলামত পাওয়া গেছে যা কিনা সুলে সেট-এর হত্যাকাণ্ডের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়৷

নারী অধিকার সংগঠন দিয়ারবাকির ব্রাঞ্চ অব রোজা-র সদস্য, আইনজীবী গুরবেত গজদে এঙ্গিন জানান, গত কয়েকদিনে আয়েত কায়া ছাড়াও আরো চার নারীর সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তারা৷ তিনি মনে করেন পুরুষশাসিত সমাজে নারীর ‘আত্মহত্যার’ প্রতিটি ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখে তদন্ত না করলে নারী-হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা রোধ করা যাবে না৷

বুর্কু কারাকাস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়