তুরস্কে অভিযোগমুক্ত জার্মান সাংবাদিক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 17.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

তুরস্ক

তুরস্কে অভিযোগমুক্ত জার্মান সাংবাদিক

তুরস্কের বামপন্থি সংবাদ সংস্থা এথা-র অনুবাদক হিসেবে কাজ করার সময় ২০১৭ সালের এপ্রিলে জার্মান সাংবাদিক মেশালে টলুকে তুরস্কে আটক করা হয়েছিল৷

তার বিরুদ্ধে একটি উগ্র-বাম সংন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়া এবং সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

সোমবার এসব অভিযোগ থেকে টলুকে মুক্তি দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত৷

২০১৭ সালে আটকের পর সাত মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন মেশালে টলু৷ এর মধ্যে পাঁচ মাস তার সঙ্গে তার দুই বছর বয়সি ছেলেও ছিল৷ ২০১৮ সালে টলুকে জার্মানি ফেরার অনুমতি দেয়া হয়৷ তাই বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি টলু৷

বর্তমানে তিনি জার্মানির সংবাদপত্র শ্যোয়েবিশে সাইটুংয়ে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন৷

রায় ঘোষণার পর টুইটারে প্রতিক্রিয়া জানান টলু৷ তিনি লেখেন, ‘‘চার বছর আট মাস ২০ দিন পর উভয় অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলাম৷'' এরপর তিনি লেখেন, ‘‘আইনের শাসন থাকা কোনো দেশে এমন বিচার প্রয়োজনই হত না৷ এই রায় আটক ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার যন্ত্রণা কমাতে পারে না৷''

এর আগে জার্মানির ডি ভেল্ট পত্রিকার প্রতিনিধি ডেনিস ইউচেল এবং টলুর মতো এথা সংবাদ সংস্থায় কাজ করা আডিল ডেমিরচি একই অভিযোগে ইস্তাম্বুলের কারাগারে কয়েকমাস বন্দি ছিলেন৷

তুরস্কের গণমাধ্যম পরিস্থিতি

তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের হিসেবে দেশটিতে বর্তমানে ৩৪ জন সাংবাদিক কারাগারে আছেন৷

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের এরোল ওনদেরোলু বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তুর্কি সরকার৷ বছর তিনেক আগেও অনেক সাংবাদিককে আটক করা হতো৷ ইদানিং তা না করে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে সাংবাদিকদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে৷ ফলে সাংবাদিকরা শারীরিকের চেয়ে মানসিকভাবে সমস্যায় পড়ছেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান পাসপোর্ট জব্দ করা, পুলিশের কাছে নিয়মিত হাজিরা দিতে বাধ্য করা, প্রেস ও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না দেয়া ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে৷

২০১৬ সালের জুলাইয়ে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর কয়েকশ অনলাইন সংবাদ সংস্থা, কয়েক ডজন সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছিল৷ অনেক সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছিল৷ ব্লকড হওয়া ওয়েবসাইটের হিসেব রাখা সংস্থা ‘এসোসিয়েশন ফর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন' ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ চার লাখ ৭৬ হাজারের বেশি ডোমেন, দেড় লাখের বেশি রিপোর্ট ও ৫০ হাজারের বেশি টুইট ব্লক করেছে৷

প্রোগ্রেসিভ জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের হিসেবে, তুরস্কে গতবছর ৭৫ জন গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন৷ ২১৯ জন সাংবাদিক ১৭৯টি বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন৷

তুরস্কে গণমাধ্যমের উপর হামলার আরেক উপায় বিপুল জরিমানা৷ ২০২১ সালে টার্কিশ রেডিও অ্যাণ্ড টেলিভিশন সুপ্রিম কাউন্সিল শাসক দল এ.কে পার্টির প্রতি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় প্রচারমাধ্যমকে ৭৪ বার জরিমানা করে৷ আর্থিক হিসেবে এসব জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা৷

এলমাস টোপচু/জেডএইচ