‘তুরস্কের গণভোটে সমাজে বিভাজন দেখা যাচ্ছে’ | বিশ্ব | DW | 17.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

তুরস্ক

‘তুরস্কের গণভোটে সমাজে বিভাজন দেখা যাচ্ছে’

ক্ষমতার রাশ প্রায় পাকাপাকিভাবে নিজের হাতে তুলে নিতে রবিবার গণভোটের আয়োজন করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান৷ বিতর্কিত ফলাফলের পর সাফল্য দাবি করছেন তিনি৷ কিন্তু সংশয় কাটছে না৷

জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী গণভোটে দুই শিবিরের মধ্যে ফারাক ছিল সামান্য৷ আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগে তুরস্কের সরকার দাবি করছে, ৫১ শতাংশ প্রেসিডেন্টের হাতে অভূতপূর্ব ক্ষমতা তুলে দেবার পক্ষে রায় দিয়েছে৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী গণভোটের পক্ষে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ ১২ দিন পর সরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে৷

সরকারিভাবে এই ফলাফল স্বীকৃতি পেলে আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর সংসদীয় ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাবে৷ প্রায় সব ক্ষমতা চলে যাবে প্রেসিডেন্টের হাতে৷ তিনিই মন্ত্রিসভা নিয়োগ করবেন, কোনো প্রধানমন্ত্রীরও প্রয়োজন থাকবে না৷ অনির্দিষ্ট সংখ্যক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করে প্রেসিডেন্ট সরাসরি দেশ চালাবেন৷ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকবে৷

প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান এবার বিভাজন ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, প্রায় ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ আড়াই কোটি মানুষ তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ এই প্রথম তুরস্কের কোনো সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷

বিরোধীরা অবশ্য এই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটের পুনর্গণনার দাবি করছে৷ অনেক অবৈধ ভোটও বাতিল করা হয় নি বলে তাদের ধারণা৷ কুর্দি-পন্থি বিরোধী পিডিপি দলের সূত্র অনুযায়ী, গণনার সময়ে প্রায় ৩০ লক্ষ ব্যালট পেপারে নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যাম্প পাওয়া যায়নি৷ পিআরপি দলের মতে, অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যালট পেপারে এমন অনিয়ম ধরা পড়েছে৷ তাই সব সংশয় দূর করতে এই ভোটপর্ব বাতিল করা উচিত বলে তারা মনে করে৷ বিরোধীরা প্রয়োজনে সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হবার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ মোটকথা চূড়ান্ত ফলাফল শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের সমাজে বিপুল বিভাজনের বিষয়টি সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন৷

গণভোটে এই বিভাজনের আরও কয়েকটি দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ রাজধানী আংকারা ও ইস্তানবুল সহ বড় শহরগুলিতে ‘না' ভোট বেশি পড়েছে, যেমনটা দেখা গেছে কুর্দি-প্রধান দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে৷

বিদেশে বসবাসকারি তুর্কি নাগরিকদের ভোটও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে৷ জার্মানিতে প্রায় ৬৩ শতাংশ তুর্কি নাগরিক এর্দোয়ানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত তুর্কিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে৷ সেখানে প্রায় ৭৩ শতাংশ এর্দোয়ানের সমর্থক৷ ইউরোপে গণতান্ত্রিক পরিবেশে থেকেও একনায়কতন্ত্রের প্রতি তাঁদের এই সমর্থন নিয়ে অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে৷

এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছে৷ অনেক মহল অবিলম্বে এই আলোচনা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে৷ বিশেষ করে এর্দোয়ান তুরস্কে মৃত্যুদণ্ড আবার চালু করার ইঙ্গিত দেওয়ায় ইইউ-তে সে দেশের যোগদানের সম্ভাবনা পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে উঠছে বলে মনে করেন অনেকে৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল তুরস্কের গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করার ডাক দিয়েছেন৷ ম্যার্কেল বলেন, এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সমাজে গভীর বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ তিনি এর্দোয়ানের উদ্দেশ্যে বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপের ডাক দিয়েছেন৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন