তিন তালাককে অপরাধ বিবেচনা ভারতের সংবিধান বিরোধী | বিশ্ব | DW | 31.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

তিন তালাককে অপরাধ বিবেচনা ভারতের সংবিধান বিরোধী

মুখে মুখে তালাক দেয়ার দিন শেষ হলো ভারতে৷ শুধু তাই নয়, তিনবার ‘তালাক'-এ কেউ বিবাহ বিচ্ছেদ চাইলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে দেশটিতে৷ মৌখিক তালাক দিলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাশ হয়েছে ভারতের সংসদে৷

তালাকের এই প্রথা বাতিলকে স্বাগত জানালেও অপরাধ বিবেচনা করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম৷ ব্যারিস্টার তানজীব তাঁর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, বিল পাশের মধ্য দিয়ে ‘‘তিন তালাক দেয়াকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়েছে৷ আমি মনে করি, ভারতীয় সংবিধানের অবস্থান থেকে এটি অসাংবিধানিক৷''

তিন তালাকের প্রথাটি বাংলাদেশে ১৯৬৫ সালে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷ তবে সেটাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয়নি৷ এই আইনজীবী মনে করেন, ভারতের মতো উদার গণতান্ত্রিক দেশে এমন একটি বিল পাশ দেশটির সংবিধানের সঙ্গে যায় না৷ এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করলেও হতো বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার তানজীব৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ বলেন, ‘‘রাষ্ট্র তো যেকোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে৷ সেভাবে তাঁরা (ভারত) করেছে৷ কিন্তু ইসলামী শরীয়াহতে এ ধরনের শাস্তির কোনো বিধান নেই৷'' তবে মৌখিকভাবে তালাক দেয়ার প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি৷

অডিও শুনুন 01:49

‘তিন তালাক দেয়াকে ক্রিমিনালাইজ করা ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’

ইসলামি চিন্তাবিদেরা বলছেন, এই প্রসঙ্গটি নিয়ে ইসলামের মধ্যেই বিতর্ক আছে৷ মূলত এটিকে বিদাতে তালাক বলা হয়৷ বিদাত শব্দের অর্থ হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়৷ কোরআন হাদিসে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই৷ ফলে কোরআন হাদিসের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে সেটাকে বিদাত বলা হয়৷ মুহাম্মদ (সা.) পরবর্তী সময়ে, এই প্রথা ইসলামে ঢুকেছে৷ হযরত উমর (রা:)-এর সময় এই প্রথাটির শুরু হয়৷ তবে এ নিয়ে সাহাবীদের মধ্যেও মত পার্থক্য ছিল৷ তবে, শাস্তির কোনো বিধান ছিলো না৷

মঙ্গলবার ভারতের রাজ্যসভায় ৯৯-৮৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাশ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করলেই আইনে পরিণত হবে বিলটি। ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আগেই পাশ হয়েছিল আলোচিত এই বিলটি। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও পাশ হওয়ায় কেউ তিন তালাক দিলে কারাদণ্ড হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। ‘মুসলিম নারী (বিবাহের নিরাপত্তা অধিকার) বিল' নামের বিলটি ‘তিন তালাক বিল' হিসেবে পরিচিত।

বিলটি পাশ হলে ট্যুইটারে উচ্ছ্বাস জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, "এত দিনে তিন তালাকের মতো একটি প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় প্রথাকে আবর্জনার স্তূপে ছুড়ে ফেলা গেল। মুসলিম নারীদের প্রতি এতদিন ধরে চলে আসা একটি ঐতিহাসিক ভুল শুধরানো সম্ভব হল সংসদে। এটি লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে জয়। এর ফলে সমাজে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ আরও প্রশস্ত হল। আজ ভারতের খুশির দিন।”

দেশটির আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বিল পাশ হওয়ার দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেছেন, ‘‘মুসলিম নারীদের ন্যায়বিচার দিয়েছে সংসদের দু'কক্ষ৷''

বিলের সমর্থকরা নতুন এ আইনকে মুসলিম নারীদের রক্ষাকবচ হিসেবে চিহ্নিত করেছে৷ বিরোধীরা তিন তালাকের জন্য আইনি দণ্ডকে কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন৷ এটির অপব্যবহারও হতে পারেও বলেও আশঙ্কা বিরোধীদের৷

কংগ্রেস ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রথাটি বেআইনি ঘোষণা করেছে৷ তাই এটিকে অপরাধ হিসাবে দেখার কোনো দরকার নেই৷ আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, প্রথাটি নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ হয়নি। রাজ্যসভাতে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও তিন তালাকের ৫৭৪ টি ঘটনা ঘটেছে।

২০১ ৪ সালে  ক্ষমতায় আসার পর তিন তালাক প্রথার অবসান চেয়েছিল বিজেপি সরকার। ২০১৭ সালে এ প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টও। তার সূত্র ধরেই এ প্রথাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে বিবেচনায় নিয়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে বিল আনে মোদি সরকার। প্রথম দফায় সেই বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয় তাঁরা৷ এবার ক্ষমতায় এসে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করলো বিজেপি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন