তিন ঘণ্টা বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে ঢাকা | বিশ্ব | DW | 01.06.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

তিন ঘণ্টা বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে ঢাকা

মঙ্গলবার সকালে তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে বলতে গেলে পুরো ঢাকা ডুবে গেছে আর নগরবাসী পড়েন চরম দুর্ভোগে৷

Bangladesch Monsun in Dhaka

ফাইল ফটো

সকাল ছয়টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই তিন ঘণ্টা ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে৷ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে এই মৌসুমে এটা সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড হলেও সামনে আরো বেশি বৃষ্টি হবে৷ কিন্তু এই বৃষ্টিতেই পুরো ঢাকা শহর ডুবে যায়৷ আর বৃষ্টির এই পানি নামতে সময় লাগে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা৷ আর ঢাকার নিম্নাঞ্চলের পানি এখনো সরেনি৷
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, সকালে তাদের কাঁচাবাজার পুরোটাই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়৷ তখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কাঁচামাল তারা ট্রাক থেকে নামাচ্ছিলেন৷
হাফিজুর রহমানের সাথে দুপুরে দেখা হয় হাতিরঝিলে৷ তার বাসা রামপুরা এলাকায়, অফিস মাতিঝিলে৷ তিনি জানান,  রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় তিনি অনেক কষ্টে ওয়াটার ট্যাক্সিতে করে কারওয়ান বাজার হতিরঝিলে আসলেও মতিঝিল যেতে পারেননি৷ দুপুরে আবার ওয়াাটার ট্যাক্সিতে করেই বাসায় ফেরার চিন্তা করছিলেন৷

অডিও শুনুন 02:13

‘জুরাইন খালের মুখ বন্ধ আছে ফলে পানি সরতে পারে না’


ঢাকার মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, গুলশান, ধানমন্ডি, মিরপুর, কল্যাণপুর, শান্তিনগর, মাগবাজারসহ কোন এলাকা বৃষ্টিতে ডোবেনি? যাত্রাবাড়ি, মুগদা, বাড্ডা, মেরাদিয়াসহ বিভিন্ন এলকা যেন নদীতে পরিণত হয়৷ ওইসব এলাকার কাঁচা বাড়িঘর আর ভবনের নিচতলা পানির নিচে চলে যায়৷ রিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন ৫-৬ ঘন্টা চলচল করতে পারেনি৷ কোথাও কোথাও নৌকা চলতে দেখা গেছে৷
স্যুয়ারেজের ময়লা আবর্জনাযুক্ত ওই ময়লা পানিতে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী৷
তবে এই বৃষ্টির পানির ‘ভয়াবহতায়' আবারো সামনে চলে এসেছে ঢাকার খাল৷ উত্তর ঢাকার মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, খালগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে ফেলায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না৷ দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস খাল উদ্ধারে নামলেও তিনি সফল হননি৷ তিনি এক সপ্তাহ আগেও বলেছিলেন, খাল উদ্ধার করার পর এবার নাগরিকেরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন৷ ঢাকায় এখনো কাগজে কলমে ২৭টি খাল আছে৷

অডিও শুনুন 03:00

‘আসল সমস্যা হলো আমাদের নগর পরিকল্পনায়’

এক সময় ছিলো ১১৭টি৷
বৃষ্টির পানি  দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না থাকলে সেটা জমবেই৷ এই দায়িত্ব নিয়েও আছে নানা টানা হেঁচড়া৷ ওয়াসা এর দায়িত্ব দিতে চায় দুই সিটিকে৷ খাল ছাড়াও এই বৃষ্টির পানি সরাতে আছে দুই হাজার ৫০০ কি.মি. খোলা ড্রেন এবং চার হাজার কি.মি. ভূগর্ভস্থ ড্রেন৷ কিন্ত এসব ড্রেন পরিস্কার থাকে না ৷ ৪০ ভাগেরও বেশি ময়লা জমে থাকে৷ আর ঢাকায় প্রতিদিন ১৫ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদিত হয়৷ যার বড় একটি অংশ এইসব ড্রেনে যায়৷
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘‘জুরাইন খালের মুখ বন্ধ আছে ফলে পানি সরতে পারে না৷ ড্রেন যতই পরিষ্কার করেন কাজ হবেনা৷ পশ্চিমের পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্পগুলোর অর্ধেকই অচল৷ দক্ষিণ আর উত্তরের পাম্পগুলোও শতভাগ কার্যকর নয়৷''
তিনি বলেন, ‘‘ঢাকার ড্রেনেজ সিস্টেমও অকার্যকর হয়ে পড়েছে৷ হাতিরঝিলে বৃষ্টির পানি নেয়া যায়৷ কিন্তু হাতিরঝিলের সব গেট খুলে দিলে ড্রেনের পানিতে ভয়াহ দুর্গন্ধ সৃষ্টি হবে ওই এলাকায়৷ গত ১০ বছর ধরে পরিকল্পনা, মহা পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি৷'' আর হাতিরঝিলের চাপ নেয়ার ক্ষমতাও অত নেই৷ এদিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য স্ট্রম ড্রেনেজের কাজও এগোচ্ছে না৷


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যনার্সের সাধারণ সম্পাদক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘‘আসল সমস্যা হলো আমাদের নগর পরিকল্পনায়৷ আমদের মত বৃষ্টিবহুল এলকায় ঢাকা শহরের মত জায়গায় ২০-২৫ ভাগ সবুজ এলাকা এবং ১০-১২ ভাগ, সব মিলিয়ের কমপক্ষে ৩০-৩৫ ভাগ ওয়াটার বডি থাকতে হয়৷ এই সব ফাঁকা জায়গা থাকলে পানি সেখানে যেত৷ কিন্তু ঢাকায় কংক্রিটের স্থাপনা ৮৫ ভাগের মত৷ ফলে ৯০ ভাগ পানি ড্রেনে চাপ সৃষ্টি করে৷ যে চাপ নেয়ার মত ড্রেনের নাই৷ ফলে জলাবদ্ধতা অনিবার্য৷''
তিনি বলেন এর বাইরে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট উঁচু করা হয়েছে৷ কিন্তু স্থাপনা নিচুই আছে৷ ফলে জলাবদ্ধতা হয়৷
ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান দেশের বাইরে আছেন৷ তিনি কয়েক বছর আগে ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘ স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি৷ এটা আসলে কিছুটা মনুষ্যসৃষ্ট এবং কিছুটা প্রয়োজনেই হয়েছে৷ ঢাকা একটা আনপ্ল্যানড সিটি৷ এখানে মানুষকে বসবাসের সুযোগ দিতে গিয়ে আমরা যা করেছি, তা প্রকৃতির বিরুদ্ধে গেছে৷''

সংশ্লিষ্ট বিষয়